ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ‘গেস্টরুম-গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান’ শিরোনামে একটি নতুন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ। এছাড়া বইটির সম্পাদক ও ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
বইটির সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘গেস্টরুম-গণরুম: নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান’ কেবল একটি প্রকাশনা নয়, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট, অভিজ্ঞতা ও নিপীড়নের একটি প্রামাণ্য দলিল। তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাদের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে বলতে পারেননি। এই বইয়ের মাধ্যমে সেই না-বলা কথাগুলো সামনে আনা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের এই অধ্যায় সংরক্ষিত থাকে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গ্রন্থ ক্যাম্পাসে এমন একটি পরিবেশ তৈরির প্রেরণা জোগাবে, যেখানে আর কোনো শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতনের শিকার হতে হবে না।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, গেস্টরুম ও গণরুমের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিক্ষার্থীদের অধিকার। অতীতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার সুষ্ঠু নথিবদ্ধকরণ প্রয়োজন, যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ ভবিষ্যতে একই ধরনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে না পারে। ডাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গেস্টরুম ও গণরুমে শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই আধিপত্য বিস্তার বা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জায়গা হতে পারে না; বরং এটি হবে জ্ঞানচর্চা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদীদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এমন একটি ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী তার রাজনৈতিক পরিচয় বা অবস্থানের কারণে নিপীড়িত হবে না। ডাকসু এই পরিবর্তনের ধারাকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।
বইটির সহসম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না, আফসানা আক্তার, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, হোসাইন আহমেদ জুবায়ের, রিজওয়ান মানসুরী, আশফাক উল্লাহ আসিফ, সাইমুম ফেরদৌস ও সুহাইল মাহদীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিয়াদুল ইসলাম যুবা। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে বইটির সৌজন্য কপি তুলে দেন। এছাড়া ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক ও সিনেট সদস্য আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং বিভিন্ন হল সংসদের নেতাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গেস্টরুম ও গণরুমকে কেন্দ্র করে যে নির্যাতনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার বাস্তব চিত্র শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এই বইয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।