চীনের সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াতে চায় ডাকসু: সাদিক কায়েম

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময়, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং পিপল-টু-পিপল কানেকশন আরও বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

সোমবার সিনো-বাংলা ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ের সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে পারস্পরিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সাদিক কায়েম বলেন, গত ১৫ মে চীন সরকারের আমন্ত্রণে ডাকসুর ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করে। সফরে প্রতিনিধি দলটি চীনের রাজধানী বেইজিং, বাণিজ্যিক নগরী শাংহাই ও কুয়াংচৌ পরিদর্শন করে। এ সময় চীনের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংসদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।

প্রতিনিধি দল পিকিং ইউনিভার্সিটি, বেইহাং ইউনিভার্সিটি ও সিংহুয়া ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংসদের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

ডাকসু ভিপি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পিপল-টু-পিপল কানেকশন তৈরি করা। চীনের ছাত্রসংসদগুলোর সঙ্গে ডাকসুর সম্পর্ক তৈরি করে আমরা আমাদের সম্ভাবনাগুলো তাদের সামনে তুলে ধরতে চাই এবং তারা কীভাবে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে পারে, আমরা কীভাবে যৌথভাবে কাজ করতে পারি—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।’

তিনি বলেন, চীন সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডাকসু ভবিষ্যতে দুই দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে চায়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

সিনো-বাংলা ডে উপলক্ষে আয়োজিত জব ফেয়ারকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন সাদেক কায়েম।

তিনি বলেন, চীনা দূতাবাস, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই জব ফেয়ারে বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন।

তার ভাষায়, এই আয়োজনের মাধ্যমে শুধু চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না; বরং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও যোগাযোগের ভিত্তিও তৈরি হচ্ছে।

বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে চীন সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন ডাকসুর ভিপি।

তিনি জানান, চীন সরকারের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৫০০ সিটের একটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হলের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট রয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট মোকাবিলায় চীন সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হলটি নির্মিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, চীনা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তা, সাংবাদিক, ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: সিএমজি বাংলা।