ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে চলমান উত্তেজনার আঁচ এখন এশিয়ান ফুটবলেও স্পষ্ট। এই ইস্যুতে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কিউএফএ) আনা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। মূলত ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব এবং ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করেই এই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
কিউএফএ সভাপতি হামাদ বিন খলিফা আল-থানি এএফসি সভাপতিকে লেখা এক চিঠিতে অভিযোগ করেন যে, শেখ সালমান নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আল-থানির দাবি, ইউয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে মিলে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে এএফসি তার সঙ্গে কিংবা কিউএফের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এএফসি কোন ভিত্তিতে ৪৭টি সদস্য দেশের হয়ে কথা বলার অধিকার নিজেদের বলে মনে করেছে।
কাতারের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা চিঠিতে কঠোর জবাব দিয়েছেন শেখ সালমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এশিয়ান ফুটবলের মৌলিক গুরুত্বের কোনো বিষয়ে এএফসি ও এশিয়ান ফুটবলের অবস্থান রক্ষায় সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা এবং দায়িত্ব—দুটিই আমার রয়েছে।’ এএফসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এশীয় ফুটবলের স্বার্থ ও মূল্যবোধ রক্ষা করা তার দায়িত্ব এবং এই পরিস্থিতিতে এএফসির নীরব থাকা সেই দায়িত্বের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শেখ সালমান তার জবাবে অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতেও এশীয় ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এএফসি প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছে। তিনি ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় কাতারের প্রতি এএফসির জোরালো সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যখন বিশ্বজুড়ে কাতারকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছিল। শেখ সালমান বলেন, ‘সেই সময় প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া কিউএফএর তাৎক্ষণিক স্বার্থের অনুকূলে থাকায় তারা কোনো আপত্তি তোলেনি। অতীতের এসব ঘটনায় কিউএফএ একই প্রক্রিয়া মেনে নিয়েছিল এবং তা থেকে সুবিধাও পেয়েছিল। তাই এবার তাদের হঠাৎ ও বেছে বেছে তোলা আপত্তির সঙ্গে আগের অবস্থানের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।’
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের শুরু মূলত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) গঠনের প্রস্তাবের পর থেকে। গত মাসের শেষদিকে দেওয়া এই প্রস্তাবের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল এফএফইর প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা। তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো পরিকল্পনাটি বাতিল করে ক্ষমা চাইলেও বিতর্ক থামেনি। গত সপ্তাহে ইউয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। তিন কনফেডারেশনের দাবি, ফিফার বাণিজ্যিক ও পরিচালন কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে তাদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি। যদিও কাতার, লেবানন, মরক্কো, সুদান, মিশর এবং মৌরিতানিয়ার জাতীয় ফেডারেশন ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে, যা এশিয়ান ফুটবলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।