ইতালিতে প্রতিবছর ১২ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর যাওয়ার সুযোগ, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

ইতালিতে প্রতিবছর ১০ হাজার বৈধ শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং পরিবারসহ এই সংখ্যা ১২ হাজারে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহিদুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালিতে বর্তমানে অবস্থানরত আড়াই লাখ বাংলাদেশির মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের বাসিন্দা। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে যৌথ ওয়ার্কশপ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা না হলেও, দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশ গমনকারীদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সাল থেকে ইতালির মিলান শহরে খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তায় যে মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে, তা বাংলাদেশেও বাস্তবায়নে ইতালি সম্মত হয়েছে। এক্ষেত্রে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ভাষা প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় দুই দেশ একমত হয়েছে। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির অংশ হিসেবে ইতালীয় ভাষা শেখাতে প্রতিনিধি পাঠাবে ইতালি এবং দেশের একটি নির্দিষ্ট ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতে ইতালিতে প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের এই সফরে পাঠানো হবে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশটিতে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাণিজ্য, অভিবাসন এবং দুই দেশের শহরগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বা টুইনশিপ নিয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে ইতালি সবসময় আগ্রহী বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সাল থেকে খাদ্য অপচয় রোধ ও ফুড সিকিউরিটিতে কাজ করা ইতালির মিলান শহরের মডেলে দেশটি বাংলাদেশেও কাজ করতে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও এটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল, তার পরেও ইতালি ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে কীভাবে একসাথে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

অভিবাসনইতালিদক্ষতা উন্নয়নবাংলাদেশি শ্রমিকমীর শাহে আলম