চীনের আধুনিকায়নের চাবিকাঠি কেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিহীত?

চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের মূল চালিকাশক্তি হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আধুনিকায়ন। ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র সময়কাল চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। চলতি বছর থেকে এই পরিকল্পনার সূচনা। এ উপলক্ষে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, যাতে উচ্চস্তরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন ত্বরান্বিত করা যায়।

২০৩৫ সালের মধ্যে উচ্চস্তরের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং একটি শক্তিশালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সিপিসির ২০তম জাতীয় কংগ্রেসে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ৯ বছর সময় আছে। এ সময়সীমায় চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের অগ্রযাত্রায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ও প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে।

‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র প্রথম বছরে ভবিষ্যৎ শিল্পের অগ্রগামী বিন্যাস ও উন্নয়নকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রথম যৌথ অধ্যয়ন অধিবেশন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অগ্রগতির মাত্রাই ভবিষ্যৎ শিল্পের বিকাশের গতি, পরিধি ও গভীরতা নির্ধারণ করে। তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী দেশ গঠন ও জাতীয় পুনর্জাগরণের কৌশলগত উচ্চতা থেকে বিষয়টি দেখতে হবে, বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে নিজস্ব সুবিধাগুলো কাজে লাগাতে হবে এবং স্থিতিশীলতার সঙ্গে অগ্রগতি বজায় রেখে ভবিষ্যৎ শিল্প উন্নয়নে নতুন সাফল্য অর্জন করতে হবে।

এপ্রিলে শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত মৌলিক গবেষণা শক্তিশালীকরণ বিষয়ক সিম্পোজিয়ামে সাধারণ সম্পাদক সি আরও বলেন, মৌলিক গবেষণা ও মৌলিক উদ্ভাবনী সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ চলাকালে চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। মৌলিক গবেষণা শক্তিশালী করা, উদ্ভাবনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দেশ নির্মাণের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

৮ জুলাই, ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র সূচনা উপলক্ষে বেইজিংয়ের মহাগণভবনে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, চীনের বিজ্ঞান একাডেমি ও চীনের প্রকৌশল একাডেমির সাধারণ সভা এবং চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অ্যাসোসিয়েশনের একাদশ জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিংসহ দল ও রাষ্ট্রের অন্যান্য নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সর্বোচ্চ পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীসহ অন্যান্য পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সি চিন পিং ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ চলাকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন, যা নতুন যাত্রায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শক্তিশালী দেশ গঠনের ‘রিলে দৌড়ের ব্যাটন’ এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও দেয়।

২০২৬ বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় ৭ জুলাই। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সি চিন পিং উপস্থিত হয়ে মূল বক্তব্য দেন। তিনি বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও শাসন বিষয়ে চীনের প্রস্তাব তুলে ধরেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে উন্নয়নমুখী ও মানবকল্যাণে ব্যবহারের পথ নির্দেশ করেন।

সকল পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে শাংহাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক সি বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে সহায়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘোষণা করেন, যা দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে চীনের ভূমিকার প্রতিফলন।

মৌলিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, মৌলিক গবেষণা শক্তিশালী করা থেকে ভবিষ্যৎ শিল্পের অগ্রগামী পরিকল্পনা গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র সূচনালগ্নে সাধারণ সম্পাদক সি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

এসব পদক্ষেপ নতুন যুগে চীনের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য দিকনির্দেশনা দিচ্ছে এবং একটি শক্তিশালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ দেশ গঠনের পথে নতুন গতি সঞ্চার করছে।

সূত্র: সিএমজি