চীনের সাধারণ কর্মজীবী ও কৃষকদের রেড আর্মির লং মার্চের ৯০তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছেন থিয়ানকোং মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত শেনচৌ-২৩ নভোচারীরা। বুধবার পাঠানো এ বার্তায় আধুনিক চীনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অভিযানের কথা তুলে ধরা হয়।
১৯৩৪ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত লং মার্চ ছিল চীনের গণমানুষের একটি সামরিক অভিযান। পরবর্তী সময়ে এটি আধুনিক চীনের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়। অভিযানে সেনারা দেশের দুর্গম অঞ্চল পাড়ি দিয়ে নতুন বিপ্লবী ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই অভিযান সহনশীলতা ও অধ্যবসায়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। সেনাদের কেউ কেউ ১২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দেন। এ সময় তাদের ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও তীব্র শীত সহ্য করতে হয়।
শেনচৌ-২৩-এর কমান্ডার চু ইয়াংহু ও তার দুই সহযাত্রী চাং চিইয়ুয়ান ও লি চিয়াইয়িং তাদের অভিযানে লং মার্চের চেতনা কীভাবে অনুপ্রেরণা জোগায়, তা তুলে ধরেন।
চু বলেন, ‘৯০ বছর আগে চীনের জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই করেছিলেন রেড আর্মির সদস্যরা। নিজেদের রক্ত ও জীবন দিয়ে তারা নদী ও পর্বত পাড়ি দিয়েছেন। অদম্য মনোবল নিয়ে ১২ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের যাত্রাপথে তারা মানুষের সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। তাদের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার আজও জীবন্ত।‘
প্রথমবারের মতো মহাকাশে যাওয়া চাং বলেন, ‘গত ৭০ বছর ধরে জাতীয় পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মহাকাশ পেশাজীবী নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। অবিচল নিষ্ঠায় তারা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন। মহান লং মার্চের নামে নামকরণ করা রকেটগুলো একের পর এক মহাকাশে পাঠিয়েছেন তারা। এসব পেশাজীবী দেশের জন্য ক্রমাগত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন এবং বারবার গভীর মহাকাশের নতুন অভিযানে যাত্রা করেছেন।‘
মহাকাশে যাওয়া চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রথম নভোচারী লাই কাং-ইয়িং বলেন, ‘এই মুহূর্তে চীনের জনগণের নির্মিত মহাকাশের আবাসস্থল মহাকাশ স্টেশন থেকে আমরা আমাদের নীল গ্রহের দিকে তাকিয়ে আছি। ৯০ বছর পেরিয়ে গেছে। তবুও লং মার্চের চেতনা কখনো ম্লান হয়নি। এই চেতনা শুধু পৃথিবী থেকে বিস্তৃত হয়ে নক্ষত্রের বিশাল সমুদ্রে পৌঁছেছে।‘
কমান্ডার চুসহ এই তিন নভোচারী চলতি বছরের ২৪ মে শেনচৌ-২৩ মহাকাশযানে করে যাত্রা শুরু করেন। ২৫ মে তারা থিয়ানকোং মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করেন।
সূত্র: সিএমজি