সাকিব সিকান্দার
দেশের সাংস্কৃতিক নিদর্শনখাতের অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) প্রকাশ করেছে চীনের সর্বোচ্চ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের শুরুর দিকে জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রশাসন প্রকাশিত এ পরিকল্পনাটি বুধবার জনমত গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
পরিকল্পনায় ১০টি প্রধান ক্ষেত্রে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক নিদর্শনের নিরাপত্তা, জনসচেতনতা ও শিক্ষা, প্রত্নতত্ত্ব, জাদুঘর উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
২০৩০ সালের মধ্যে চীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০০টি আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমানে বিদ্যমান সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১০০টি বেশি। একই সময়ে দেশটির জাদুঘরগুলোতে বছরে প্রায় ১৬০ কোটি দর্শনার্থী আগমনের এবং প্রতিবছর মোট ১৫ হাজার মৌলিক অস্থায়ী প্রদর্শনীর আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর জাদুঘরগুলোতে ১৫৬ কোটি দর্শনার্থী এসেছিলেন এবং ১৪ হাজার অস্থায়ী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়া জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্যানের সংখ্যা বর্তমান ৬৫টি থেকে বাড়িয়ে ৭০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংস্কৃতিক নিদর্শন সংরক্ষণে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে। দূর অনুধাবন (রিমোট সেন্সিং) উপগ্রহ এবং পানির নিচের ঐতিহ্যস্থলগুলোতে জোরদার টহল ও নজরদারির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রকল্পের আওতায় গুহা-মন্দির সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আগামী পাঁচ বছরে জাতীয় পর্যায়ের প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সিয়া (খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ২১শ থেকে ১৬শ শতক) এবং শাং (খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ১৬শ থেকে ১১শ শতক) রাজবংশ নিয়ে গবেষণা প্রকল্প, চীনের সমুদ্রসীমায় সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক গবেষণা কর্মসূচি এবং সামুদ্রিক রেশমপথ সম্পর্কিত গবেষণা। পাশাপাশি চীনা সভ্যতার উৎস অনুসন্ধান বিষয়ক জাতীয় প্রকল্পটি ষষ্ঠ পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
পরিকল্পনায় যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্প, প্রাচীন সভ্যতা বিষয়ক গবেষণা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং জাদুঘরগুলোর মধ্যে অংশীদারত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বিস্তারের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত চীনা সাংস্কৃতিক নিদর্শন নিয়ে গবেষণাও জোরদার করা হবে।