সিজিটিএন জরিপ: নগর শাসনে জনসেবায় বেশি গুরুত্ব চান নাগরিকরা

অক্টোবর ১২: নগর প্রশাসনের কাছে মানুষের প্রধান প্রত্যাশা হলো—বাসিন্দাদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া, সরকারি সেবার মান বাড়ানো এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সিজিটিএন ও চীন রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক জনমত জরিপে এমনটা দেখা গেছে।

নতুন যুগের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে পরিচালিত এ জরিপে বিশ্বের ২১টি দেশের ২৫টি প্রতিনিধিত্বমূলক শহরের ৭ হাজার ২৮৮ জন অংশ নেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা চীনের ‘জনকেন্দ্রিক’ নগর উন্নয়ন দর্শনের প্রতিও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

অনলাইন নমুনাভিত্তিক এ জরিপে অংশগ্রহণকারী ২৫টি শহর হলো—বেইজিং, শাংহাই, প্যারিস, বার্সেলোনা, বার্লিন, টোকিও, টরন্টো, লন্ডন, রোম, মাদ্রিদ, নিউইয়র্ক, সিউল, বুয়েনস এইরেস, দিল্লি, কায়রো, কেপ টাউন, লাগোস, রিও ডি জেনেইরো, ব্যাংকক, মুম্বাই, মেক্সিকো সিটি, নাইরোবি, সাও পাওলো, জাকার্তা ও ইস্তাম্বুল।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ নিজেদের শহরের নগর শাসনব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ১১টি জনসেবার মূল্যায়নে দেখা গেছে, সাংস্কৃতিক বিনোদন, জনপরিসর, গণপরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সন্তুষ্টির হার প্রায় ৬০ শতাংশ।

তবে আবাসনের সাশ্রয়ী মূল্য, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ুর মান উন্নয়নকে জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা।

বড় শহরগুলোতে নগর শাসন আরও সূক্ষ্ম ও কার্যকর করে তোলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, জনসংখ্যার আকার ও মানুষের চাহিদার জটিলতার কারণে শাসনব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা।

এ ছাড়া সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কথা বলেছেন ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ। তৃণমূল পর্যায়ে সীমিত সম্পদের কারণে দ্রুত সমস্যা সমাধানে অক্ষমতার কথা বলেছেন ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা।

সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সংযোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন ৬৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। অন্যদিকে, আরও দক্ষ ও সহজলভ্য সমস্যা জানানোর এবং প্রতিক্রিয়া পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা করেছেন ৬৪ শতাংশ।

‘জনগণের শহর জনগণই গড়ে, জনগণের শহর জনগণের জন্য’—এটি চীনের নগর উন্নয়নের অন্যতম মূল ধারণা। জরিপে ৯১ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা এ ধারণার সঙ্গে উচ্চমাত্রায় একমত হয়েছেন।

চীনের ‘যৌথ নির্মাণ, যৌথ শাসন, যৌথ ভোগ’ ধারণার প্রশংসা করেছেন ৮৯ শতাংশ উত্তরদাতা।

নগর শাসনে বাসিন্দা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মডেলকেও তারা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন।

চীনের নগর শাসনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার মতো ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, তৃণমূল পর্যায়ে শাসন ও নাগরিকদের দাবির দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নগর অবকাঠামো নির্মাণ—এ তিনটি শীর্ষে রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চীনের বিস্তৃত সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ৯০ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা।

জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন দেশের জনশুমারিতে পাওয়া বয়স ও লিঙ্গের অনুপাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জরিপের নমুনা নির্বাচন করা হয়েছে।

সূত্র: সিএমজি বাংলা