গণপূর্ত অধিদপ্তরে সুশাসন ও স্বচ্ছতা: প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে ফিরছে শৃঙ্খলা

দেশের অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তরে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের গতিশীল ও সময়োপযোগী নেতৃত্বে দাপ্তরিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং মাঠপর্যায়ের কাজের মানোন্নয়ন ঘটেছে। তার এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান প্রকৌশলীসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।

মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের মতে, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর দৃঢ় প্রশাসনিক দক্ষতা, কার্যকর তদারকি এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলেই অধিদপ্তরের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নথি ও উন্নয়নমূলক কাজের মান পর্যালোচনায় তার বিচক্ষণতার প্রতিফলন পাওয়া যায়। সরকারি অর্থের অপচয় রোধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছেন। বিশেষ করে যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করেছে, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে কিংবা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি সাহসী ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

প্রধান প্রকৌশলীর এই দৃঢ় ও সৎ নেতৃত্বের কারণে অধিদপ্তরের সর্বস্তরের কর্মীরা তার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। অনেক সময় স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অনৈতিক প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করেছে, তবে তার কাজের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক অবস্থানের কারণে এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি। প্রকৌশলীদের মতে, তিনি শুধু শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবেই নন, বরং মাঠপর্যায়ের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দেন।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম প্রধান প্রকৌশলীর প্রশংসা করে জানান, খালেকুজ্জামান দাপ্তরিক নিয়মকানুন, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) এবং সুশাসনের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। অনিয়মে জড়িত ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ডিবার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে তিনি অধিদপ্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছেন, যা মাঠপর্যায়ে কাজের আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জানান, প্রধান প্রকৌশলীর বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের ফলে কাজের মান ও গতি বেড়েছে। তিনি জটিল প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী ও মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনগুলো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে স্বচ্ছতার সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই নিয়মতান্ত্রিক কার্যপদ্ধতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা তৈরি করেছে।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন) ফিরোজ আলম বলেন, খালেকুজ্জামানের মতো একজন সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অপপ্রচারের কাছে মাথা নত না করে তিনি সবসময় রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার এই আপসহীন সততা অধিদপ্তরের কর্মীদের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।

প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান নিজে বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি উন্নয়নকাজের গুণগত মান বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি সবসময় দাপ্তরিক বিধিবিধান, সরকারি ক্রয় বিধিমালা ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করি। অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার এই ধারা অব্যাহত থাকলে গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবিষ্যতে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তার নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো সরকারি উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা নির্মাণ খাতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে।

অবকাঠামো উন্নয়নখালেকুজ্জামানগণপূর্ত অধিদপ্তরজাতীয়সুশাসন