জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান আলেকজান্ডার দে ক্রো’র চোখে সিআইআইই

চীনের শাংহাইয়ে শুরু হয়েছে নবম চীন আন্তর্জাতিক আমদানি মেলা (সিআইআইই)। এবারই প্রথম এই মেলায় অংশ নিচ্ছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার দে ক্রো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন।

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ততা ও সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চারে এই মেলার ভূমিকা এবং চীনের উচ্চমানের উন্মুক্ততা সম্প্রসারণের উদ্যোগের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন তিনি।

চায়না মিডিয়া গ্রুপ সিএমজিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আলেকজান্ডার দে ক্রো বলেন, এই মেলার নাম আন্তর্জাতিক আমদানি মেলা। অনেকে মনে করতে পারেন, এর উদ্দেশ্য শুধু চীনের বাজারে পণ্য ও পরিষেবা নিয়ে আসা। নিঃসন্দেহে এটি মেলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তবে একই সঙ্গে এই মেলা অন্যান্য দেশকেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণে সহায়তা করছে।

স্বল্পোন্নত দেশ এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য চীনা সরকারের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার নীতি উন্মুক্ততা সম্প্রসারণ ও বাণিজ্য প্রসারের একটি ভালো উদাহরণ। এর সামগ্রিক প্রভাব হলো, এসব দেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করা। এতে যেমন চীন উপকৃত হয়, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলও লাভবান হয়।

আমাদের আলোচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত, কীভাবে বিভিন্ন দেশকে তাদের অর্থনৈতিক ও শিল্প কাঠামো রূপান্তরে সহায়তা করা যায়। কীভাবে তাদের বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সহায়তা করা যায়।

আলেকজান্ডার দে ক্রো বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, অধিকাংশ দেশই মনে করে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করাই তাদের নিজস্ব স্বার্থের জন্য বেশি উপযোগী। বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কিংবা অভিবাসী ও শরণার্থীদের চলাচল—সব ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।

তাই, এখন আমাদের কাজ হলো, বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে এগিয়ে যেতে আগ্রহী দেশগুলোকে একত্রিত করা। এটি স্পষ্টতই চীনের অবস্থান। বিশ্বের আরও অনেক দেশও একই বিশ্বাস ধারণ করে।

আলেকজান্ডার দে ক্রো বলেন, আমরা এই মেলায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে এসেছি, এর একটি কারণ হলো আমরাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য ও পরিষেবা ক্রয় করি। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি প্রতি বছর চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য কেনে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বিশ্ব বাণিজ্য প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করা এবং বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশকে সক্ষম করে তোলার পাশাপাশি, এই মেলার সরাসরি অর্থনৈতিক সুফলও রয়েছে আমাদের জন্য।

সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির প্রধান আলেকজান্ডার দে ক্রো চীনের উন্নয়ন অর্জনের উচ্চ প্রশংসা করেন। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চীনের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজন বাস্তবসম্মত এবং অন্য দেশেও প্রয়োগযোগ্য সমাধান, যা তাদের উন্নয়নের লক্ষ্য ও পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সমাজের মধ্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা, উন্নয়নের বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং উন্নয়নের সুফল আরও বেশি দেশ ও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র: সিএমজি