রাজশাহী কলেজের লাল দালানের স্থাপত্যশৈলী যেমন আমাদের মুগ্ধ করে তেমনি বিভিন্ন ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকেও অনন্য। ছয় ঋতুতেই নতুন রূপে সজ্জিত হয় ক্যাম্পাস। ফুলে ফুলে সমৃদ্ধ এই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে বিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যাম্পাস জুড়ে বিরাজ করছে বসন্তের আবহ। কেউ হলুদ কেউ কমলা কেউ বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়ে নিজেদের ক্যামেরাবন্দি করে রাখছে এই মনোরম পরিবেশে। শীতে রিক্ততা যেন এখনো কিছুটা আছে তবে গাছের ডালে ঝরে পড়া পাতাগুলো জানান দিচ্ছে বসন্ত এসে গেছে।

চারিদিকে সবুজ শ্যামল পরিবেশ ও বিভিন্ন ধরনের ফুলের সমারোহ প্রকৃতিতে জানিয়ে ইচ্ছে বসন্তের আগমনী বাত্রা। রাজশাহী কলেজের শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকার পলাশ ফুলের সৌন্দর্য যেন এর সৌন্দর্যকে আর ও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে রাজশাহী কলেজের শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় ফুটে উঠেছে আগুন রাঙা পলাশ। সদ্য ফোটা ফুলের গাঢ় মিষ্টি রঙে যেন চোখ আটকে যাচ্ছে । মনের ভিতরে যেন এক রঙিন অনুভূতি খেলা করছে। ছোটবেলায় পলাশ ফুল নিয়ে খেলার স্মৃতি ও মনে পড়ে যাচ্ছে। শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের পলাশ ফুল গাছের কাছে ছবি তুলে ক্যামেরায় ফ্রেম বন্দি করতে আর ফুল কুড়িয়ে নিতে এ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
পলাশ ফুল নিয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসকিয়া খাতুন বলেন পলাশ ফুল ফুল প্রেমীদের কাছে এক আবেগের নাম। পলাশ ফুল ফোটে ঋতুতে ফাগুন ও চৈত্র মাসে। এই ফুলের রং গাঢ় কমলা ও লাল রঙের কাছাকাছি।এইগাছ আকারে ছোট পণমোচী গাছ । যা ১৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতাগুলো পিনেট আট থেকে ষোল সেমি হয়ে থাকে। যদিও প্রতিবছর এই ফুল ফোটে না। ফুলের পাঁচটি পাপড়ি, দুটি ডানা ও একটি খোপা থাকে পাখির ঠোঁটের মতো বাঁকানো। এই ফুল রং তৈরিতে ও বিভিন্ন ঔষধ তৈরিতে ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তিনি আরো জানান এই ক্যাম্পাসের ফুল গাছ দুটোকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন রঙের মেলা বসেছে। কাছে গিয়ে দেখতে পাই পলাশ ফুল যা আমাদের ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদুর রহমান শয়ন বলেন পলাশ গাছের এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য শহরের বুকে খুব একটা দেখা যায় না। একসময় এই পলাশ গাছ ও ফুল গ্রামের আঁকাবাঁকা অলিতে গলিতে দেখা মিলতো এখন প্রায় বিলুপ্ত প্রায়ই হয়ে গিয়েছে। ওদের সবার উচিত ক্যাম্পাসে যেসব গাছ আছে এগুলোকে যত্ন রাখা এবং তাহলে ঋতু ভেদে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।
প্রকৃতির এই নিজ সৌন্দর্যের আভা এক অনন্য শিল্পকর্মের প্রকাশ ঘটিয়েছে। শীতকে বিদায় দিয়ে প্রকৃতির নতুন সাজে পলাশের লাল রঙে সেজে উঠেছে আমাদের ক্যাম্পাস। বসন্তের স্নিগ্ধ আবহে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণ নানা রঙের ফুলে সেজে ওঠেছে, এ যেন প্রকৃতি নিজ হাতে এই শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠকে সাজিয়ে দিয়েছে।
হুমাইরা সুলতানা মল্লিক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১ম বর্ষ রাজশাহী কলেজ
রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সহযোগী সদস্য




















