আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমেই জটিল ও অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে, তখন সহযোগিতা ও সংহতিই হয়ে উঠেছে বিশ্বের সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র সঠিক পথ। চলতি বছর থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একটি বড় দেশের নেতার দায়িত্ব ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, সহযোগিতা জোরদার ও ন্যায়বিচার রক্ষায় চীনকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন।
চলতি বছর চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার উদ্বোধনী বছর। এই পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের জন্যও একটি ‘সুযোগের তালিকা’ উপস্থাপন করেছে।
১৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বেইজিংয়ের মহাগণভবনে ১৮ জন রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে তাদের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, চীনের উন্মুক্ততার দরজা আরও প্রশস্ত হবে। উচ্চমানের উন্নয়নের মাধ্যমে চীন বিশ্বকে আরও বেশি নিশ্চয়তা ও নতুন গতিশক্তি প্রদান করবে।
চলতি বছর থেকে চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মহাশক্তির কূটনীতির কৌশলগত পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট সি। অস্থির বিশ্বে তিনি দিয়েছেন স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তার বার্তা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতায় চীনের ভূমিকা করেছেন আরও জোরদার।
মে মাসে বিশ্বের দৃষ্টি ছিল বেইজিংয়ের দিকে। গত বছরের অক্টোবরে বুশান বৈঠকের পর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বৈঠক করেন। এই বৈঠক চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা করে।
দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে চীন-মার্কিন গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন, যা আগামী তিন বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেয়।
চলতি বছর চীন-রাশিয়া কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্ব সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩০তম বার্ষিকী এবং প্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তির ২৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। মে মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২৫তম বারের মতো চীন সফর করেন। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান চীন-রাশিয়া প্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি নবায়নে সম্মত হন এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এ বছর ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নেতাও চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ নিয়ে বেইজিং সফর করেছেন। এর মধ্যে ছিলেন ১৪ বছর পর প্রথমবার চীন সফর করা আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্টিন, টানা চার বছরে চারবার চীন সফর করা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ, উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল নিয়ে আসা জার্মানির চ্যান্সেলর মের্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অরপো এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। এ ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার চীন সফর করেন স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পেলেগ্রিনি। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি চীন-ইইউ সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন।
এপ্রিল থেকে ভিয়েতনাম, লাওস, তাজিকিস্তানসহ ১০টির বেশি প্রতিবেশী দেশের নেতারা পর্যায়ক্রমে চীন সফর করেছেন। প্রেসিডেন্ট সি তাদের সঙ্গে অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠন ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
চলতি বছর চীনের রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনৈতিক ‘বন্ধুবলয়’ আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট সি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সংহতি, সহযোগিতা ও অভিন্ন উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করেছেন।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে দায়িত্বশীল বড় দেশ হিসেবে শান্তিরক্ষা, সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান এবং সমস্যার মূল কারণ ও তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে চীন। অস্থির ও পরিবর্তনশীল বিশ্বে চীনই এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্থিতিশীল নোঙর।
আর এই নতুন যাত্রায় প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের কূটনৈতিক চিন্তাধারাকেই দিকনির্দেশনা হিসেবে অনুসরণ করবে চীন। শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির পতাকা সুউচ্চে তুলে ধরবে এ দেশ। পাশাপাশি মানবজাতির অভিন্ন মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গঠনে এগিয়ে যাবে এবং চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাবে। আর এতেই বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নে সঞ্চারিত হবে আরও ইতিবাচক শক্তি।
সূত্র: সিএমজি

















