চীনা-মার্কিন যোদ্ধাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের ইতিহাস, আবেগতাড়িত দর্শনার্থীরা - Mati News
Thursday, April 16

চীনা-মার্কিন যোদ্ধাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের ইতিহাস, আবেগতাড়িত দর্শনার্থীরা

গতমাসে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের মাউন্ট কাওলিকংয়ে আয়োজিত এক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একদল দৌড়বিদ এসেছিলেন চীনে। তবে সেই প্রতিযোগিতায় মাঠে নামার আগেই দুই দেশের মাঝে সংযোগ স্থাপনকারী এক আবেগঘন ইতিহাসের ঝলকে আটকে গেলেন তারা।

ইউনান প্রদেশের তেংচোংয়ে প্রতিযোগিতামূলক দৌড়ে অংশ নিতে প্রস্তুত তারা, তারই একদিন আগের ঘটনা। ১৯৩১-৪৫ পর্যন্ত জাপানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো চীনাদের যুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ, আর সেখানেই পা রাখলেন দৌড়বিদেরা। এই স্মৃতিসৌধে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে চীনা অভিযাত্রী বাহিনী ও তাদের সেই যুদ্ধের প্রতি, যার মাধ্যমে ইউনান ও মিয়ানমারের মাঝে সরবরাহ ব্যবস্থা জিইয়ে রেখেছিলেন তারা।

সেই ইতিহাসে আরেকটি বিশেষ অধ্যায় জ্বলজ্বল করছে, যার নাম ফ্লাইং টাইগার্স। যারা আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকান ভলান্টিয়ার গ্রুপ নামে পরিচিত ছিল। এই গ্রুপ প্রতিষ্ঠা পায় ১৯৪১ সালে। যুদ্ধকালীন চীনা ও আমেরিকান স্থল সেনাদের সহযোগিতায় ভয়ংকর ‘হাম্প’ রুট হিসেবে পরিচিত ইন্ডিয়া থেকে কুনমিং, ইউনান এবং ছোংছিং রুটে সরবরাহ নিশ্চিতকরণে মিশন পরিচালনা করত এই ফ্লাইং টাইগার্স গ্রুপ।

সেই সময়কার যুদ্ধের এক বিমানসেনার সন্তান বব বেকার উপস্থিত হয়েছিলেন সেখানে। তিনি জানান, সৌধে রক্ষিত বিভিন্ন গল্প ও নিদর্শনগুলো নিজের কাছে পরিবারের ইতিহাসকে আরো পরিষ্কার করে তুলেছে।

সেখানে একজন গাইড ছিলেন যিনি ইতিহাসের বয়ান করছিলেন দর্শনার্থীদের কাছে। আমেরিকার সেই ফ্লাইং টাইগার গ্রুপ কিভাবে চাইনিজদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল সেই গল্প শুনছিলেন বেকার। তার চোখ দুটো মন্ত্রমুদ্ধের মতো দেখছিল সেই বিমানসেনাদের পরিহিত স্যুটগুলো, তারা যেসব জিনিস ব্যবহার করতেন সেগুলো। দৃষ্টি তার ঝাপসা হয়ে আসে, ভিজে আসা চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি তিনি।

বিমানসেনার ৮০ বছর বয়সী এই সন্তান বলেন, ‘এটা ছিল হৃদয়গ্রাহী, আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। আমি বাস্তবিকভাবে উপলব্ধি করেছি, কারণ আমার বাবা ও চাচা এখানেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লড়েছিলেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘চীন ও আমেরিকার মানুষের মাঝে এই ঐতিহাসিক বন্ধন দেখতে চাইলে মার্কিনীরা এখানে আসতে পারেন।’

এই পরিদর্শনের পর মার্কিন এক দৌড়বিদ জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা যখন ইতিহাস ভুলে যাই, তখন আমরা তারই পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিতে থাকি।’

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *