মার্চ ৪: ১৪তম জাতীয় গণ-কংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশন উপলক্ষে আজ (বুধবার) গণ-মহাভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সাংবাদিকরা জানান, গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এর প্রথম তলায় অবস্থিত সংবাদ সম্মেলন কক্ষটি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল; যেখানে আনুমানিক ৩০০জন চীনা ও বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। আজকের সংবাদ সম্মেলনে চীনা ও বিদেশি সংবাদমাধ্যমের মূল আগ্রহের বিষয়গুলো কী কী ছিল?
এই বছরটি ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সূচনাবর্ষ। তাই চতুর্দশ জাতীয় গণ-কংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে থাকা বিভিন্ন প্রধান বিষয়—বিশেষ করে সরকারি কর্মপ্রতিবেদনের আলোচনা এবং পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া রূপরেখার পর্যালোচনা—সবার গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থরতা এবং প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও শিল্প রূপান্তরের নতুন দফার গভীরতর প্রেক্ষাপটে, এই বছরের সরকারি কর্মপ্রতিবেদন কীভাবে অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করবে? এবং চীন কীভাবে আগামী পাঁচ বছরে উচ্চমানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করবে?
গত বছর “মূর্ত বুদ্ধিমত্তা” প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মপ্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। গত এক বছর ধরে চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হিউম্যানয়েড রোবটগুলো প্রায়শই নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ভবিষ্যতে বিভিন্ন শিল্পকে শক্তিশালী করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে কোন ধরনের শীর্ষ-স্তরের নকশা বাস্তবায়ন করা হবে?
দ্বিতীয় ফোকাস হলো আইন প্রণয়ন। গত বছর ১৪তম জাতীয় গণ-কংগ্রেস এবং এর স্থায়ী কমিটি খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, পরিবহন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিককে অন্তর্ভুক্ত করে ছয়টি নতুন আইন প্রণয়ন এবং ১৫টি আইন সংশোধন করেছে। ২০২৬ সালে জনগণের জীবিকা নির্বাহ সম্পর্কিত আর কোন আইনি প্রকল্পগুলো আলোচ্যসূচিতে থাকবে?
এই বছরের ‘দুই অধিবেশনে’ খসড়া পরিবেশগত কোড আলোচনার জন্য জমা দেওয়া হবে। দেওয়ানি বিধির (সিভিল কোড) পর এটি চীনের দ্বিতীয় আইন, যা “কোড” বা বিধি নামে পরিচিত। জনগণকে কেন্দ্র করে তৈরি এই আইনটি কীভাবে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনকে প্রভাবিত করা পরিবেশগত সমস্যাগুলোর সমাধান করবে?
তৃতীয় ফোকাস হলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উত্তপ্ত ইস্যু এবং চীনের পররাষ্ট্র নীতির নতুন প্রবণতা। গত এক বছর ধরে চীন উচ্চ-স্তরের উন্মুক্তকরণের প্রসার অব্যাহত রেখেছে। পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কালে চীন কীভাবে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে তার দায়িত্ব প্রদর্শন করবে এবং পারস্পরিক লাভজনক আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও উৎসাহিত করবে—তা এখন বিশ্বব্যাপী মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ ছাড়া, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, চীন-ইইউ সম্পর্ক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোও যথেষ্ট মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
জিনিয়া/তৌহিদ/তুহিনা



















