জুলাই ৪: গত জুন মাসের শেষের দিকে বেইজিং-এ চতুর্থ চায়না ইন্টারন্যাশনাল সরবরাহ শৃঙ্খল এক্সপো অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার শুরুতে, এই বছরের মেলাটি তার উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশ্বের সাথে চীনের উন্নয়নের সুফল ভাগ করে নেয় এবং বৈশ্বিক শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলে গভীর সহযোগিতা প্রসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার উপ-রাষ্ট্রপতি পল মাশাটিল এই মেলায় যোগ দিতে বিশেষ সফরে চীনে আসেন, যা ছিল তাঁর টানা দ্বিতীয় বছরের অংশগ্রহণ।
সিএমজি-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি তার এবারের চীন সফর এবং চীনের উন্নয়ন তাঁর মনোভাবসহ নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
এবারের এক্সপো প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন, এক্সপোটি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চীন হলো দেশটির বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। তিনি মনে করেন, এই এক্সপোতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও শক্তি তুলে ধরা এবং সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণ করা অপরিহার্য। এ বছরের এক্সপোতে শুধু অনেক চীনা কোম্পানিই নয়, বরং অন্যান্য অনেক দেশের প্রদর্শকরাও অংশ নিচ্ছেন। এ বছর আমরা তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উপর মনোযোগ দিয়েছি। অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রযুক্তিগত সাফল্য প্রদর্শনের জন্য একটি বিশেষ এআই জোন স্থাপন করা হয়েছে।
সিএমজি-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সব দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আকৃষ্ট করা এবং সেখানে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাষ্ট্রপতি রামাফোসা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন যুগে একটি ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর এবারের চীন সফরের লক্ষ্য হলো- এ ভিত্তির ওপর গঠিত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জ্বালানি, অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চালিত করা। তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে নতুন সেতু ও সড়ক নির্মাণ করছি এবং একই সাথে বন্দরের সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি করছি। আমাদের অবশ্যই সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের গভীরতা ও সুদৃঢ়করণকে উৎসাহিত করতে হবে।”
সাক্ষাত্কারে তিনি আরো বলেন, “আমরা চীনের উন্নয়ন কৌশল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং এর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো পর্যালোচনা করছি। চীনের যে বিষয়টি আমি অত্যন্ত প্রশংসা করি তা হলো- এর ধারাবাহিক দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং এর উন্নয়নের কার্যকারিতা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করার ক্ষমতা। চীন এখন তার পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা চালু করেছে, যেখানে পাঁচ বছরের চক্রে উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেই পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার পর পরবর্তী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অগ্রসর হচ্ছে। এই পদ্ধতিটি চমৎকার, এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ঠিক এটিই থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমাদের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভবিষ্যতে তা আরও গভীর হতে থাকবে।”
লিলি/তৌহিদ/সুবর্ণা

















