আগের পর্বের লিংক
পর্ব–৪ : ছায়ার কৌশল
শোবিজে গুজব বাতাসের মতো—
কেউ দেখায় না, কিন্তু সবাই শ্বাস নেয়।
ফারিণের নামের পাশে হঠাৎ প্রশ্নচিহ্ন জুড়ে যায়।
সাদিয়া ল্যাপটপ বন্ধ করে বলল,
“খবরটা ছড়িয়েছে।”
মাহি ধীরে জিজ্ঞেস করল,
“আমরা কি খুব দূরে চলে যাচ্ছি?”
সাদিয়া তাকাল।
“আমরা আগেই দূরে ছিলাম। এখন শুধু ফিরছি।”
ফারিণ শুটিং সেটে দাঁড়িয়ে।
ক্যামেরা তার দিকে, কিন্তু চোখ খুঁজছে আলমকে।
“আজ তুমি চুপ কেন?”
সহশিল্পী জিজ্ঞেস করল।
ফারিণ হালকা হাসল।
“কারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর ক্যামেরায় দেওয়া যায় না।”
রাতে—
“তারা কি আমাকে সরাতে চায়?”
ফারিণ সরাসরি জিজ্ঞেস করল।
আলম উত্তর দিল না।
ফারিণ শান্ত গলায় বলল,
“নীরবতা যদি তোমার সিদ্ধান্ত হয়, আমাকে জানিও।”
পর্ব–৫ : ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে
একটি অনুষ্ঠানে—
মাহি ফারিণের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
“তুমি কি সত্যিই আলমকে চাও, নাকি গল্পটাকে?”
ফারিণ চোখ নামিয়ে বলল,
“আমি গল্পে জন্মেছি। কিন্তু মানুষ হিসেবেই ভালোবাসি।”
সাদিয়া হঠাৎ বলল,
“ভালোবাসা মানে শুধু নেওয়া না। ছেড়ে দেওয়াও।”
ফারিণ মাথা তুলে তাকাল।
“তোমরা সেটা আগেই করেছ।”
নীরবতা।
সেই রাতেই ফারিণ সিদ্ধান্ত নেয়।
আলমকে বলে,
“আমি আর লড়তে চাই না।”
“তাহলে?” আলমের গলা কেঁপে ওঠে।
“তাহলে তোমাকে একবার নিজের জন্য বেছে নিতে হবে,”
ফারিণ ধীরে বলে,
“কারও বিরুদ্ধে না। শুধু নিজের পক্ষে।”
আলম প্রথমবার চুপ করে থাকল না।
সে সাদিয়া আর মাহিকে ডেকে বলল,
“তোমরা আমাকে ভালোবেসেছিলে। কিন্তু আমাকে কখনো বেছে নাওনি।”
মাহির চোখ ভিজে ওঠে।
সাদিয়া শুধু বলল,
“আমরা ভেবেছিলাম, ত্যাগই বড়।”
আলম মাথা নেড়ে বলল,
“ভালোবাসা ত্যাগ নয়। ভালোবাসা দায়িত্ব।”
পর্ব–৬ : তিন রেখার সমাপ্তি
শহরের বাইরে এক সকালে—
আলম ফারিণের পাশে দাঁড়িয়ে।
“আমি জানি, তোমার জীবন সহজ না,” আলম বলে।
“আর আমার অতীতও পরিষ্কার না।”
ফারিণ তাকায়।
“আমি পরিষ্কার মানুষ খুঁজি না। সত্যি মানুষ খুঁজি।”
আলম ধীরে তার হাত ধরে।
এই প্রথম কোনো দ্বিধা নেই।
ক্যাম্পাসের সেই বেঞ্চে—
সাদিয়া একা বসে।
মাহি পাশে এসে দাঁড়ায়।
“আমরা কি হারলাম?” মাহি জিজ্ঞেস করে।
সাদিয়া দীর্ঘক্ষণ চুপ থেকে বলে,
“না। আমরা বুঝলাম—ভালোবাসা কাউকে আটকে রাখা না।”
মাহি হালকা হাসে।
“তিন রেখা ছিল। এখন দুটো রয়ে গেল।”
দূরে আলম আর ফারিণ হাঁটে।
একজন আলো থেকে এসেছে, একজন ছায়া পেরিয়ে।
তিন রেখা এক জায়গায় এসে মিলেনি—
কিন্তু আর কাটাকাটিও করেনি।
ভালোবাসা সবাই পেল না,
কিন্তু সবাই মানুষ হয়ে উঠল।












