চীনের স্টার্টআপ অঙ্গনে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নতুন ব্যবসায়িক ধারা—এক ব্যক্তির কোম্পানি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন পরিবর্তনের সূচনা করছে।
চোংকুয়ানছুন ট্যালেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত চীনে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি এক-ব্যক্তির সীমিত দায়বদ্ধ কোম্পানি গড়ে উঠেছে। শুধু বছরের প্রথম ছয় মাসেই নিবন্ধিত হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ ৬০ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠান, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি এবং মোট নতুন ব্যবসার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
এই উত্থানের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে এআইভিত্তিক বিভিন্ন টুল—যেমন কোড জেনারেটর, কনটেন্ট তৈরি প্ল্যাটফর্ম ও অটোমেশন সফটওয়্যার—যেগুলো একটি কোম্পানি শুরু ও পরিচালনার খরচ অনেক কমিয়ে দিয়েছে।
পূর্ব চীনের প্রযুক্তি কেন্দ্র হাংচৌ ইতিমধ্যে এই প্রবণতার নেতৃত্ব দিচ্ছে। শহরের শাংছেং জেলায় সম্প্রতি এক ব্যক্তির কোম্পানির জন্য বিশেষ নীতিমালা ঘোষণা করা করেছে। এতে কম খরচে অফিস স্পেস, কম্পিউটিং রিসোর্স এবং আর্থিক সহায়তার মতো সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, বছরে অন্তত ১০ কোটি ইউয়ান তহবিল ব্যবহার করে সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের ‘ওয়ান-পারসন ইউনিকর্ন’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সহায়তা করা হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কম খরচে ২০ হাজার বর্গমিটারের বেশি অফিস স্থান তৈরি করা হচ্ছে এবং একটি সমন্বিত এআই পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হচ্ছে।
২০২৬ সালের মধ্যে শাংছেং জেলায় ১০টি এক ব্যক্তির কোম্পানি কমিউনিটি গড়ে তোলা, ১০০টি এআই প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং এক হাজার উদ্যোক্তাকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ধরনের উদ্যোগ শুধু হাংচৌতেই নয়; বেইজিং ও শেনচেনসহ অন্যান্য প্রযুক্তি শহরেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে, তবু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই এক-ব্যক্তির কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: সিএমজি




















