মে ২১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: রুশ কন্যা অ্যানাস্তাসিয়া প্রিতকোভার মুখ থেকে অদ্ভুত সব ধ্বনি অনায়াসে বেরিয়ে আসে। এগুলো তার স্বদেশিদের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত শব্দ হলেও, মনে হয় যেন অ্যানাস্তাসিয়া শিশুকাল থেকেই এগুলো উচ্চারণ করে আসছে। এর সঙ্গে যখন চীনা ভাষার মধুর সুর মিশে যায়, তখন চীনা ভাষা আর ততটা ভীতিকর বা কঠিন বলে মনে হয় না।
এই রুশ মেয়েটি অবলীলায় চীনা ভাষায় বলে যাচ্ছেন, ‘এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আমার উপহার এসে গেছে।’ রাশিয়ার নোভোসিবিরস্কের নবম শ্রেণির ছাত্রী অ্যানাস্তাসিয়া এমন এক পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা তার ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে দেবে।
গত তিন বছর ধরে সে একজন রুশ শিক্ষকের কাছে অনলাইনে মান্দারিন ভাষা শিখছেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি দেশের প্রতি নিজের আকর্ষণ আরও গভীর করে তুলছেন, যে দেশের সঙ্গে এখনো তার সরাসরি পরিচয় হয়নি।
মেয়েটি চীনা ভাষায় বলতে থাকে, ‘আমার প্রিয় খাবার খুং ফাও (kung pao) চিকেন।’ ঝাল খাবারের জন্য পরিচিত সিছুয়ান প্রদেশের এই খাবারটি তার খুব পছন্দের, আর তিনি একদিন সেখানে যাওয়ার স্বপ্নও দেখেন। চীনের মহাপ্রাচীর ও টেরাকোটা যোদ্ধাদের দেখাও তার ইচ্ছার তালিকায় রয়েছে। তবে আপাতত তার এখনো চীনা ভাষা অনেক শেখা বাকি।
অ্যানাস্তাসিয়া সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন, যদিও তিনি জানেন যে এর মাধ্যমে সমৃদ্ধ সম্ভাবনাও অপেক্ষা করছে। তার লক্ষ্য হলো পরিবহন প্রকৌশলী হওয়া এবং চীনের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা।
তার মা অকসানা প্রিতকোভা মনে করেন, অ্যানাস্তাসিয়া যে দক্ষতাগুলো অর্জন করতে চায়, সেগুলোর জন্য চীনই সবচেয়ে উপযুক্ত শিক্ষাক্ষেত্র। মেয়ের রোবোটিক্স ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে চীনা ভাষা শেখার যথেষ্ট অর্থ রয়েছে, কারণ চীনে শেখার মতো অনেক কিছু আছে।’
রাশিয়ার হাজার হাজার তরুণ অ্যানাস্তাসিয়ার সেই ভাবনার সঙ্গে একমত। একইভাবে চীনেও বহু তরুণ ক্রমেই রুশ ভাষা শেখার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। কারণ এর নানা সুফল তাদের সামনে উদ্ভাসিত হচ্ছে।
অ্যানাস্তাসিয়ার নিজ শহরে নোভোসিবিরস্ক স্টেট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে। লিয়াওনিং প্রদেশে বিদেশি ভাষার তালিয়ান (Dalian) বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহরের তরুণদের কাছে মান্দারিন ভাষা শিক্ষার ধরণ নতুনভাবে গড়ে তুলতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এখানে বড় আকারের বক্তৃতা ক্লাস থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত টিউটরিং পর্যন্ত নানা ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি রয়েছে, যা রুশ ও চীনা শিক্ষকদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। এ বছর ও আগামী বছরকে চীন-রাশিয়া শিক্ষা বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষকমণ্ডলী এবং তাদের কাজের গুরুত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাকিব/জেনিফার
তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি





















