সমুদ্রে ১০ হাজার মিটার গভীরে অনুসন্ধান চালাবে চীন - Mati News
Monday, March 30

সমুদ্রে ১০ হাজার মিটার গভীরে অনুসন্ধান চালাবে চীন

সিএমজি বাংলা

চীনের অন্যতম বৃহৎ বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো হিসেবে পূর্ব চীনের শাংহাইতে সম্প্রতি ভাসমান একটি গভীর সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। শাংহাই চিয়াও থোং ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই বিশাল প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই গবেষণা কেন্দ্রটি মূলত তিনটি প্রধান সিস্টেমের সমন্বয়ে গঠিত: মূল প্ল্যাটফর্ম, গবেষণাগার এবং উপকূলীয় সহায়তা কেন্দ্র। প্ল্যাটফর্মটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- এটি প্রায় ১০০ টন ওজনের বিশাল গভীর সমুদ্র যন্ত্রপাতির সামুদ্রিক পরীক্ষা চালাতে সক্ষম। সমুদ্রের ১০ হাজার মিটার গভীরতা পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং পরীক্ষামূলক গবেষণা চালানোর প্রযুক্তি থাকবে এই কেন্দ্রে। এটি একটি সেমি-সাবমার্সিবল এবং টুইন-হাল (দুই কাঠামো বিশিষ্ট) নৌযান নকশায় তৈরি করা হচ্ছে, যা উত্তাল সমুদ্রেও স্থির থাকতে পারে।

এই কেন্দ্রের গবেষণাগারগুলোতে সামুদ্রিক দুর্যোগ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করা হবে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করে ঋতুভেদে সামুদ্রিক পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। প্রয়োজনে একে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে কাজ করা সম্ভব।

প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি গভীর সমুদ্র খনন ব্যবস্থা, খনিজ সম্পদ এবং অফশোর তেল ও গ্যাস উত্তোলনের যন্ত্রপাতির জন্য একটি বাস্তব ‘সামুদ্রিক টেস্টিং প্ল্যাটফর্ম’হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার আরও ত্বরান্বিত হবে।

এছাড়া, কেন্দ্রটি সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের বিবর্তন এবং প্রাণের উৎপত্তির রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করবে। পাশাপাশি টাইফুন বা সামুদ্রিক ঝড়ের পূর্বাভাস আরও নির্ভুলভাবে দিতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

An illustration of the deep-sea floating research facility, Shanghai, east China, March 28, 2026. /VCG

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *