সিনচিয়াংয়ের ইলি-তে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সিম্পোজিয়াম- ২০২৬ অনুষ্ঠিত - Mati News
Wednesday, August 5

সিনচিয়াংয়ের ইলি-তে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সিম্পোজিয়াম- ২০২৬ অনুষ্ঠিত

C:\Users\lili\Downloads\960f9af3c411087536a1e07a9213e855.jpeg

সিনচিয়াংয়ের ইলি-তে “সন্ত্রাসবাদের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: জাতীয় দায়িত্ব শক্তিশালীকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা” প্রতিপাদ্যে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ, সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং সংশ্লিষ্ট চীনা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা এই সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া এবং আফ্রিকান ইউনিয়নসহ ২৪টি দেশ ও আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

চীন উল্লেখ করেছে যে, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং গ্লোবাল সাউথ-এ সন্ত্রাসদমন প্রচেষ্টা ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের এই অবিরাম ছায়া বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার গভীরে প্রোথিত সমস্যাগুলোকে উন্মোচিত করে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক সভ্যতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা বিষয়ক উদ্যোগসমূহ সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার মৌলিক সমাধান অন্বেষণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। আন্তর্জাতিক সমাজকে অবশ্যই এর লক্ষণ ও মূল কারণ উভয়কেই মোকাবেলা করার জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; সম্মিলিত সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী প্রচেষ্টা গড়ে তোলার জন্য বহুপাক্ষিকতার চর্চা করতে হবে; প্রযুক্তিগত ঘাটতি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকে শক্তিশালী করতে হবে; এবং সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের শাসন কঠোরভাবে সমুন্নত রাখতে হবে। চীন তার সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী ধারণা, প্রস্তাবনা, অভিজ্ঞতা এবং অর্জনসমূহ সম্পূর্ণরূপে ভাগ করে নিতে ইচ্ছুক এবং মানবজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনের ধারণাকে দিকনির্দেশনা হিসেবে সন্ত্রাসবাদের হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা যৌথভাবে মোকাবিলা করতে এবং বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সব পক্ষের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন যে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী পরিস্থিতি জটিল ও গুরুতর এবং বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা একাধিক সংকটের সম্মুখীন। ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা, ভারসাম্যহীন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অপর্যাপ্ত সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সক্ষমতা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিস্তার ও তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কিছু দেশ সন্ত্রাসবাদের ধারণাটিকে সাধারণীকরণ ও অপব্যবহার করেছে এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে, এমনকি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন ও ব্যবহার করতে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কার্যক্রমকে ব্যবহার করেছে, যা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সহযোগিতার ভিত্তি ও কার্যকারিতাকে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। সব দেশকে অবশ্যই আন্তরিকভাবে তাদের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী দায়িত্ব পালন করতে হবে, সব প্রকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সহযোগিতাকে উৎসাহিত করতে হবে, যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কার্যকারিতা উন্নত করতে হবে এবং সমন্বিত সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে।

সম্মেলন চলাকালীন, অংশগ্রহণকারীরা সিনচিয়াং-এর সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী ও উগ্রবাদ-মুক্তকরণ প্রচেষ্টা বিষয়ক প্রদর্শনী এবং সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকীতে এর অর্জনসমূহের প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। বিদেশি অতিথিরা বলেন যে, চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী ও উগ্রবাদ-মুক্তকরণ প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং এর ব্যাপক ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিকভাবে অনুকরণীয়। তারা সিনচিয়াং-এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সাফল্যেও মুগ্ধ হন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বিনিময় ও সহযোগিতা আরও গভীর করার আশা প্রকাশ করেন।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *