ফয়সল আবদুল্লাহ
বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়লেও চীন সফলভাবে দেশীয় পর্যায়ে রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। এখন প্রয়োজনভেদে অন্য দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কৌশল ও প্রযুক্তি ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের সাইডলাইন অনুষ্ঠানে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উপমন্ত্রী ও জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ প্রশাসনের প্রধান শেন হোংবিং এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ১০০টিরও বেশি দেশে স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। ২০২৪ সালে বিশ্বে ডেঙ্গু সংক্রমণ রেকর্ড ১ কোটি ৪৪ লাখে পৌঁছায় এবং ২০২৫ সালেও সংক্রমণের হার অনেক বেশি ছিল।
শেন জানান, চীনে স্থানীয় ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব সাধারণত বাইরে থেকে আসা সংক্রমণের মাধ্যমে শুরু হয়। ২০২৫ সালে বাইরে থেকে আসা রোগীর সংখ্যা ৮৯ শতাংশ বাড়লেও স্থানীয় সংক্রমণ ৬৫ শতাংশ কমেছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় সাফল্য।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চীন সরকারের নেতৃত্বাধীন সমন্বিত কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নজরদারি জোরদার, মশা নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
২০০৫ সাল থেকে চীন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তহবিল গঠন করেছে এবং ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। সীমান্ত ও বন্দর এলাকায় স্বাস্থ্য সহযোগিতা ও সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বুদ্ধিমান সফটওয়্যার ব্যবহার করে রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার বিস্তার রোধে জাতীয় পর্যায়ে নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
যেহেতু ডেঙ্গু সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়, তাই রোগের বাহক মশার বাস্তুসংস্থান এবং কীটনাশক প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর একটি জাতীয় নজরদারি নেটওয়ার্কও স্থাপন করেছে চীন।
স্থানীয় সংক্রমণ দেখা দিলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্ধারণ, মশা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি নজরদারি ও রোগী ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয় বলে জানান শেন।
তিনি আরও বলেন, চীন টানা ১০ বছর ধরে বাহক বাহিত রোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে এবং বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
এদিকে, হংকংভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা জিএক্স ফাউন্ডেশন চলতি বছরের এপ্রিলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ‘ফিজিক্যাল কন্ট্রোল’ কৌশল প্রকাশ করেছে। এতে মশার বাতি, মশারি ও আঠালো ফাঁদের মতো উপকরণ ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জিএক্স ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য আর্থার লি কওক-চিউং জানান, এই কৌশল টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং স্থানীয় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য। ইতোমধ্যে তিমুর-লেস্তে ও হন্ডুরাসে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এখন কম্বোডিয়া ও ভানুয়াতুতেও এটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সিএমজি





















