ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন : ঈদ মানেই আনন্দ, সৌহার্দ্য আর পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এক অনন্য সুযোগ। তবে আমাদের সমাজে একটি অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা রীতির মতো গেঁথে গেছে—বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে ঈদ বাজার ও উপহার পাঠানো। শুধু ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে নয়, বরং সামাজিক চাপ ও লোকলজ্জার ভয় থেকে অনেক পরিবার এটি করতে বাধ্য হয়।

এই সংস্কৃতিতে ছেলে-মেয়ে উভয়ের পরিবারই জড়িয়ে পড়ে। ঈদের আগে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, এমনকি সমাজের সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তোলে—”শ্বশুরবাড়ি থেকে কী পেল?” অথবা “কী পাঠানো হলো?” এই চাপে পড়ে অনেক পরিবার তাদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে দামি উপহার বা ঈদ বাজার পাঠায়, যেন এটি সম্পর্কের মানদণ্ড। অথচ, ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধন কোনো আর্থিক লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল নয়।
একটি সম্পর্কের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে, বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নয়। শ্বশুরবাড়ি থেকে কী পাওয়া গেল বা কী পাঠানো হলো—এসব প্রশ্নের ভিত্তিতে কোনো পরিবারের মর্যাদা নির্ধারিত হওয়া উচিৎ নয়। বরং পারস্পরিক সম্পর্কের গুণগত মান, সহমর্মিতা ও পারিবারিক বন্ধনই হোক মূল বিবেচ্য বিষয়।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সময়ের দাবি। উপহার আদান-প্রদান যদি সত্যিই ভালোবাসার প্রতীক হয়, তবে তা হওয়া উচিত স্বতঃস্ফূর্ত, কোনো সামাজিক চাপে নয়। পরিবার ও সমাজের উচিত এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং সম্পর্ককে প্রকৃত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা।
লেখক: তরুণ কলাম লেখক ও শিক্ষার্থী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ মিডিয়া কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম ডিপার্টমেন্ট