প্রেমের গল্প Archives - Mati News
Sunday, January 25

Tag: প্রেমের গল্প

ধারাবাহিক: তিন রেখা প্রেম পর্ব ৪-৬ (শেষ)

ধারাবাহিক: তিন রেখা প্রেম পর্ব ৪-৬ (শেষ)

Stories
আগের পর্বের লিংক ১ ২ ৩ পর্ব–৪ : ছায়ার কৌশল শোবিজে গুজব বাতাসের মতো—কেউ দেখায় না, কিন্তু সবাই শ্বাস নেয়। ফারিণের নামের পাশে হঠাৎ প্রশ্নচিহ্ন জুড়ে যায়। সাদিয়া ল্যাপটপ বন্ধ করে বলল,“খবরটা ছড়িয়েছে।” মাহি ধীরে জিজ্ঞেস করল,“আমরা কি খুব দূরে চলে যাচ্ছি?” সাদিয়া তাকাল।“আমরা আগেই দূরে ছিলাম। এখন শুধু ফিরছি।” ফারিণ শুটিং সেটে দাঁড়িয়ে।ক্যামেরা তার দিকে, কিন্তু চোখ খুঁজছে আলমকে। “আজ তুমি চুপ কেন?”সহশিল্পী জিজ্ঞেস করল। ফারিণ হালকা হাসল।“কারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর ক্যামেরায় দেওয়া যায় না।” রাতে— “তারা কি আমাকে সরাতে চায়?”ফারিণ সরাসরি জিজ্ঞেস করল। আলম উত্তর দিল না। ফারিণ শান্ত গলায় বলল,“নীরবতা যদি তোমার সিদ্ধান্ত হয়, আমাকে জানিও।” পর্ব–৫ : ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে একটি অনুষ্ঠানে— মাহি ফারিণের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,...
ধারাবাহিক: রোমান্টিক গল্প: তিন রেখা প্রেম : পর্ব–২

ধারাবাহিক: রোমান্টিক গল্প: তিন রেখা প্রেম : পর্ব–২

Stories
: ফেরার আলো প্রথম পর্ব “আপনি কি আলম আলমগীর?”মেয়েটার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, চোখে অভ্যস্ত আলো। “হ্যাঁ,” আলম বলল।“আপনি…?” “ফারিণ,” সে হেসে বলল।“ফারিণ আহমেদ। কাজ করি ক্যামেরার সামনে।” “আমি ক্যামেরার বাইরে মানুষ খুঁজি,” আলম অস্বস্তি লুকিয়ে বলল। ফারিণ থামল।“তাহলে কথা বলা যাক।” সময় গড়াল। শুটিং সেট, কফি, রাতের দীর্ঘ কথা। একদিন ফারিণ বলল,“তুমি সব সময় মাঝখানে থেমে যাও কেন?” আলম দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল।“কারণ আমি একসময় দুজনকে ছেড়ে এসেছি।” “তারা কি তোমাকে ছেড়েছিল?” ফারিণ জিজ্ঞেস করল। “না,” আলম বলল।“তারা আমাকে বাঁচাতে চেয়েছিল।” ফারিণ শান্ত কণ্ঠে বলল,“আমি বাঁচাতে চাই না। আমি পাশে থাকতে চাই।” ইনস্টাগ্রামে ছবি ওঠে— Alam & Farin ✨ ছবিটা প্রথম দেখল সাদিয়া। “সে ফিরে এসেছে,” সে ফিসফিস করল।“কিন্তু এবার আলো নিয়ে।” মাহি ফোনে বলল,“আলো থাকলে ছায়া...
বিরহ প্রেমের গল্প : তিন রেখা প্রেম : পর্ব ১

বিরহ প্রেমের গল্প : তিন রেখা প্রেম : পর্ব ১

Stories
লেখক: এআই চট্টোপাধ্যায় “তুমি আবার আমার জায়গায় বসেছ কেন?”সাদিয়ার কণ্ঠে বিরক্তি। মাহি চোখ তুলে তাকাল।“এই বেঞ্চে তোমার নাম লেখা আছে নাকি?” “আছে,” সাদিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, “আলম বসে এখানে। আমি তার পাশে বসি।” মাহি হেসে ফেলল।“আলম সবার বন্ধু। শুধু তোমার না।” দূরে দাঁড়িয়ে আলম আলমগীর সব শুনছিল। সে শুধু বলল,“এই এই, যুদ্ধ বন্ধ করো। দুজনেই আমার বন্ধু।” সাদিয়া মুখ ফিরিয়ে নিল।মাহিও চুপ করে গেল। ক্যাম্পাসে এই দৃশ্য নতুন না। সাদিয়া—শান্ত, গভীর চোখের মেয়ে। মাহি—চঞ্চল, সরাসরি কথা বলা। দুজনের একটাই মিল—মাহি আলমকে ভালোবাসে, আর সাদিয়াও। কিন্তু আলম?সে শুধু বন্ধু হিসেবেই জানে। একদিন ক্যান্টিনে— মাহি বলল,“তোমার সমস্যা কী আমার সাথে?” সাদিয়া শান্তভাবে জবাব দিল,“সমস্যা নেই। শুধু… তুমি আলমকে নিয়ে বেশি কথা বলো।” “কারণ আমি তাকে ভালোবাসি,” মাহি সোজাসাপ্টা বলল...
অমর প্রেম

অমর প্রেম

Stories
সুমন বিপ্লব “আমাকে একটি কবিতা দিও।” একটি মেয়েলি কন্ঠ ভেসে এলো কাজলের কানে। সে লজ্জায় পিছনে তাকাতে পারিনি। মনে মনে সে ভাবে কে এই মেয়েটা ? কি করে জানলো সে যে কবিতা লেখে ? মাত্র ৪ দিন সিলেটের আকিলপুর গ্রামে কাজের লোক হয়ে এসেছে। এ গ্রামের সাবেক মেম্বর মুক্তার আলী তাকে শাহজামাল (র.) মাজার থেকে নিয়ে এসেছেন। আকিলপুর আসার ৪র্থ দিন সন্ধ্যায় আনফর চাচা তাকে নিয়ে পাড়ায় এলো একটি বাড়িতে। তাদের বসতে দেওয়া হলো। একজন বয়স্ক লোককে চিনতে পানতে পারল। তিনি পূর্বের দিন কাজল যখন রানাদের বাড়িতে ছড়া পড়ে ছিল তিনি তখন বসে বসে ছড়াগুলো তিনি মনোযোগ সহকারে শুনেছিলেন। তিনি দুটি মেয়েকে দেখিয়ে বললেন, : এই আমার বড় মেয়ে নাম করুনা। শিক্ষকতা করে। ছোট মেয়ে হেনা। ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। কাজল মনে মনে ভাবল তার মত একজন সামান্য কাজের লোককে কেন তার মেয়েদের সাথে পরিচয় করে দিচ্ছে। চাচা একসময় বললেন, : তোমার ...
প্রেমের গল্প : মধুরিমা একটি নদীর নাম

প্রেমের গল্প : মধুরিমা একটি নদীর নাম

Stories
মধুরিমা জলের মতো। আমি এমন কাউকেই চাচ্ছিলাম, যার ভেতর নিজেকে দ্রবীভূত করা যায়। গলে যাওয়া যাকে বলে। আমার ডিভোর্সটা সুপারনোভা ছিল না। সব নক্ষত্র তো বিস্ফোরিত হয় না। কিছু তারা ফুলেফেঁপে বড় হয়ে ফোঁড়ার মতো লাল হয়ে যায়। বড় হতে হতে ওটার কোনো মানে থাকে না। নীলিমার সঙ্গে আমার সংসারটা অমনই হয়ে গেল। তারপর একদিন ‘কী যেন মনে হলো’ ভান করে দুজন ঠিক করলাম, এভাবে চলতে পারে ঠিকই, তবে কী দরকার চালানোর। তারচেয়ে দুজন আরও বেশি সুখের সন্ধান করি। মধুরিমাই কি আমার সেই আরও বেশি সুখ? আমরা আজ বিয়ে করেছি। পরিচয় কয়েক মাস আগে। মধুরিমা আমার মতো কোনো সুখের সন্ধানে ছিল না সম্ভবত। আমি তার জীবনে অনেক উড়ে আসা ড্যান্ডালিয়ন ফুল। আর সে বুকভরা নদী। যে কিনা জল হয়ে অনায়াসে ধূসর বালিয়াড়িকেও গলিয়ে দিতে পারে এক লহমায়। ‘হুকটা খুলে দাও তো।’ ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে মধুরিমা কানের দুল খুলছিল। আয়না...
ব্যর্থ প্রেমের গল্প : অপূর্ণ প্রেম

ব্যর্থ প্রেমের গল্প : অপূর্ণ প্রেম

Stories
দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ লাবণ্য ও অমিতের দেখা হতে যাচ্ছে, অমিত প্রতিবার দেরি করে বের হলেও আজ একটু তাড়াহুড়ো করে বেরিয়েছি; নীলাভ একটা পাঞ্জাবি গায়ে একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে কদমতলায় অপেক্ষা করছে। প্রতিবার লাবণ্য আগে থেকে অপেক্ষা'র প্রহর গুনলেও আজ ওর আসতে অনেক দেরি হচ্ছে! অবশেষে লাবণ্য অনেকটা অগোছালো অবস্থায় রিক্সা থেকে নামল, লাবণ্যের মুখটা আজ ফ্যাকাসে হয়ে আছে, চোখ তার যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার! সব সময় পরিপাটি ও গুছানো থাকা লাবণ্য আজ অগোছালো! বিষন্ন কেন? এই প্রশ্ন অমিতকে খুব বিচলিত করে তুলল! কি হয়েছে তোমার? লাবণ্য কোনো উত্তর না দিয়ে বলল চন্দ্রবিন্দু ক্যাফেতে চল, তোমার সাথে কথা আছে। হঠাৎ লাবণ্যের মাঝে এত পরিবর্তন অমিতের ভেতর ভয় সৃষ্টি করে! বসা মাত্রই জিজ্ঞেস করল তোমাকে এমন লাগছে কেন? লাবণ্যের চোখ অশ্রুতে টলমল করছে, কিছু একটা বলতে চেয়েও বলতে পারছে না: মৃদুস্বরে কাঁপা গলায় বলল তোমা...
রোমান্টিক বিরহের গল্প : চরণে ধরিয়া তব

রোমান্টিক বিরহের গল্প : চরণে ধরিয়া তব

Stories
রোমান্টিক বিরহের গল্প : চরণে ধরিয়া তব। গল্পটি লিখেছেন এ কালের অন্যতম সেরা তরুণ লেখক  ধ্রুব নীল। লেখকের অনুমতিক্রমে রোমান্টিক বিরহের গল্প : চরণে ধরিয়া তব পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। শুধু আমিই আমাকে বুঝতে পারি। আমার মা-ও আমাকে বুঝতে পারে না। সেখানে তমাল কোন ছার। তাকে বুঝতে দিলেও সে বুঝবে না। তমাল হলো খোলা বই। তরতর করে রিডিং পড়া যায়। সমস্যা হলো বইটায় তেমন থ্রিল নেই। ম্যাড়ম্যাড়ে কয়েকটা ছোটগল্প আছে বড়জোর। তমালের ফোনে ব্রাউজার হিস্ট্রি ডিলিট করার অ্যাপ দেখেছি। কথা বলার সময় মিনিটে চোখ কতবার কোন দিকে যায়, আর সেটার পেছনে যে মনস্তত্ত্ব লুকিয়ে থাকে, সেটা একটা সফটওয়্যারও ধরে ফেলবে। আমার চোখের কঠিন ফেস রিকগনিশন সে ফাঁকি দেবে কী করে! লুকিয়ে এটা সেটা দেখলে দেখুক। প্রেম করার জন্য লুতুপুতু মার্কা সেজে বসে থাকাটা যে কাজের জিনিস নয়, এই ভুল তার ভাঙতে হবে। বিশ্বাস করুন, ভালো মানুষিগিরির চেয়ে বিরক্তিকর আর কি...
রোমান্টিক গল্প : স্ত্রীর মন বোঝা

রোমান্টিক গল্প : স্ত্রীর মন বোঝা

Stories
অফিসে যাওয়ার জন্য যখন তৈরি হচ্ছিলাম তখন আমার স্ত্রী শ্রাবণী রান্নাঘর থেক কড়াই এনে আমার সামনে রেখে বললো, -"বলো তো কড়াইয়ের মধ্যে কি আছে? " আমি শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে কড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, -- পানিই তো মনে হচ্ছে। শ্রাবণী আমার চোখে চোখ রেখে বললো, -" হয় নি, এটা পানি না।এটা বসুন্ধরা সয়াবিন তেল। আমি ৩০মিনিট ধরে আগুনে রেখে গরম করে এনেছি। আমার কথার যদি সোজাসাপ্টা জবাব না দাও, তাহলে এই গরম তেল আমি তোমার শরীরে ঢেলে দিবো।" শ্রাবণীর কথা শুনে আমি ওর সামনে থেকে দুইহাত সরে গিয়ে বললাম, -- কি সব পাগলে মতো কথা বলছো! শ্রাবণী বললো, -"আমি সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতোই কথা বলছি। অর্পিতা কে?" -- কোন অর্পিতা? -" যাকে নিয়ে ফেসবুকে আজকাল খুব লেখালেখি করছো?" আমি মুচকি হেঁসে শ্রাবণীকে বললাম, -- আরে এই নামতো আমি এমনি ব্যবহার করেছি। তাছাড়া তুমিই তো সেদিন বলেছিলে আমার ছাইপাঁশ গল্পে তোমার নামটা যে...
রোমান্টিক গল্প: হা কপাল

রোমান্টিক গল্প: হা কপাল

Stories
রোমান্টিক গল্প: হা কপাল। লেখক: বকুল রায় রাস্তায় কোন সুন্দরী মেয়েকে হাঁটিয়া যাইতে দেখিলে সবাই তাহার দিকে তাকাইয়া থাকে। আর আমার কাজ হইলো তাহাদের দিকে তাকাইয়া থাকা, যাহারা কাজ বিহীন এই কাজটা করিয়া থাকেন। বখাটেরা অতি আগ্রহের সহিত তাকাইলেও তাহাদের আগ্রহ ততক্ষণই থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়েটা তাহাদের দৃষ্টি সীমার মধ্যে থাকে, আর ভদ্রঘরের যুবকদের দেখা যায় খানিক্ষণ হা হুতাশ করিতে, পাইতে গিয়াও কি যেন পাইলনা; এমনি একটা ভাব। আর মধ্যবয়স্কদের আচরন ইহার মোটামুটি বিপরীত বলা চলে। কেহ বা পানের পিক ফেলিবার ছলে, কেহ বা জুতা ঠিক করিবার জন্য খানিকটা বাঁকা হইয়া আড়চোখে কিঞ্চিত পরিমান মুখদর্শন সারিয়া লয়, যেন ইহা তাহাদের একখানি অতি জরুরী কাজ। আবার অনেক প্রবীনদের বলিতে শুনি,“নাহ্, এইবার দেশটা গেল, আর কিছুদিন যাক্, তখন বাবারা বুঝবে, মেয়েছেলেদের আর তখন বেঁধেও রাখা যাবেনা” “নাহ্ ভাই মেয়েছেলে বের হয়েছে বলেই তো আজ এ পর...
রোমান্টিক প্রেম ও বিরহের উপন্যাস : তাহার বৃষ্টি

রোমান্টিক প্রেম ও বিরহের উপন্যাস : তাহার বৃষ্টি

Stories
রোমান্টিক প্রেম ও বিরহের উপন্যাস : তাহার বৃষ্টি নাবিলা জাহান   ভয়ংকর মেঘ জমতে শুরু করেছে। যে কোনো সময় বৃষ্টি আসবে। সাধারণ বৃষ্টি না। মুষলধারে বৃষ্টি। পরপর তিনবার কপালের ঘাম মুছল শিপু। গরম মোটেও পড়ছে না বরং ঠাণ্ডা বাতাসে চুল কিছুটা উড়ছে। কালো সানগ্লাসের কারণে তার চোখ দেখা যাচ্ছে না, তা না হলে দেখা যেত চোখ দুটোকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে সে।   ব্যাগের মধ্যে হাত দিতেই চোখ কুঁচকে যায় শিপুর। হঠাৎ হঠাৎ ফট্ করে চোখ কুঁচকে ফেলার অভ্যাস আছে তার। সানগ্লাস ব্যাগের মধ্যে ঢোকানো। সানগ্লাসের কোন দরকারই নেই এখন, এমনিতেই অন্ধকার। ভাংতি ট্যাকা দেন -কোত্থেকে দেবো? ভাংতির মেশিন আছে নাকি! -হেইডা আমি কেমনে জানি! ভাংতি দিবার আছে দ্যান! -ভাংতি নেই! -খুঁইজা দেখেন কলাপাতা রংয়ের শাড়ির সাথে লাল ব্লাউজ পরেছে শিপু। ঠোঁটে লিপষ্টিক নেই। শুধু কপালে একটা নীল টিপ। চুল দেখে মন...
প্রেমের গল্প : তোমার অসীমে

প্রেমের গল্প : তোমার অসীমে

Stories
ধ্রুব নীলের প্রেমের গল্প : তোমার অসীমে রান্নাঘরে খুটখাট শব্দ। শব্দটা সাংসারিক। রবিউলের ঘুম কাটেনি। রাতে নিশ্চিত দরজা খোলা রেখেছিল। সাতসকালে আধা পরিচিত কেউ এসে হাজির। কে আসবে? রবিউলের তো পরিচিত কেই। খুটখাটের ধরন শুনে বোঝা যাচ্ছে কেউ খুব গোছালোভাবে কিছু রান্না করছে। সকালের নাস্তার সঙ্গে দুপুরের জন্য অ্যাডভান্স সবজি কাটাকুটি করলে যেমন হয়। উঠে বসে ভাবল রবিউল, চোর তো আসবে না। একটা আধা-নষ্ট টিভি আর একটা ছোট ফ্রিজ ছাড়া এই ঘুপচি ফ্ল্যাটে কিছু নেই। রান্নাঘরে উঁকি দিতেই রবিউল বুঝতে পারলো ডাক্তার দেখাতেই হবে। কারণ কোমরে টকটকে লাল শাড়ি গুঁজে শকুন্তলা টাইপের এক মায়াবতী রুটি বেলছে। চুলায় ভাজির গন্ধটাও স্পষ্ট। মাথা খারাপ হলে নাকেও সেটার প্রভাব পড়ে? ভাজিতে কালোজিরার গন্ধটা একদম পরিষ্কার। ‘দাঁড়িয়ে না থেকে বাজারে যাও।’ ‘জি।’ ‘জি জি মানে? আগে সবজি কিছু নিয়ে আসো। ফ্রিজে চিংড়ি ছাড়া কিছু নাই। এসে না...
প্রেমের গল্প : মালতী

প্রেমের গল্প : মালতী

Stories
প্রেমের গল্প : মালতী : লিখেছেন : ধ্রুব নীল চেনটা দশ ভরি হবে। বিক্রি করলে ভরিতে সত্তর হাজারের মতো পাবে। সেই হিসেবে সাত লাখ। কম না। কষ্ট করে চললে নিপু আর রাকিব অনায়াসে দুই বছর কাটিয়ে দিতে পারবে। মা আবার হার্ট অ্যাটাক করবে না তো? অবশ্য নিজের মেয়ে গয়না চুরি করেছে শুনলে না-ও করতে পারে। এ গয়না তো মেহেরুন্নেসা তার মেজো মেয়ে রেনুর জন্যই রেখেছিলেন। রেনুর বান্ধবী নিপু। এখন বান্ধবী ডাকার চল উঠে গেছে। সবাই বন্ধু। অবশ্য নিপুকে বান্ধবীই ভাবে রেনু। সেই নিপুর পলান্তি বিয়ে হবে কাল। ভোরে বাকশোপ্যাঁটরা নিয়ে চলে আসবে কাজী অফিসে। রাকিবকে ধরে বেঁধে চাকরির টোপ ফেলে রাজি করানো হয়েছে। রাকিবের কাজ হবে ঘরে বসে এটা ওটা ডিজাইন করা। মাসে ত্রিশ হাজার টাকা পাবে। পুরোটাই রেনুর সাজানো চাকরি। মাসে ত্রিশ করে দুই বছরে লাগবে সাত লাখ বিশ হাজার। শর্ত হলো দুই বছরের মাঝেই আরেকটা চাকরি জোটাতে হবে রাকিবকে। ‘আমার বান্ধবীর বিয়ে...
রোমান্স গল্প : উপভোগ

রোমান্স গল্প : উপভোগ

Cover Story, Stories
রোমান্স গল্প : উপভোগ লিখেছেন মৌমতিা শকিদার লাবনী ১ সুপ্রভার মনে হলো তার উপমাগুলো বাক্সে পুরে তালা লাগিয়ে দেয়ার দিন এসে গেছে। এ যুগে নাকি এসব অচল। রুজুর ভাষায় এ নাকি সেকেলে গন্ধ ছড়ায়। রঞ্জিতকে রুজু ডাকে সুপ্রভা। এই রুজুই তার কবিতার সমঝদার। মাপ মতো প্রশংসা সমালোচনা দুটোই করে। তবে ইদানীং রুজু সবকিছুতে কেমন যেন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। কবিতা-গদ্য সবই এড়িয়ে চলছে। সুপ্রভা বিজ্ঞানের ছাত্রী। তার সবকিছুতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তি আসবেই। রঞ্জিতকে সে মাঝে মাঝে বোঝানোর চেষ্টা করে, কবিতায় কাল ব্যাপারটা অন্যরকম। সুপ্রভার কাছে কবিতার সংজ্ঞা হলো, কালকে আলগোছে একপাশে সরিয়ে পরিচ্ছন্ন কিছু অনুভূতি। রঞ্জিত আবার এসব শুনতে পছন্দ করে না। ভ্রূ কুঁচকে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। আজও যেমনটি আছে। সুপ্রভা বলল, এই যে তুমি এখনকার ভিজুয়াল প্রডাকশানগুলোকে অতিমাত্রায় মেলোড্রামাটিক বলছ, এটা ভুল। রঞ্জিত রিকশাওয়ালার পি...
বাংলা গল্প : কবি ও মুক্তা

বাংলা গল্প : কবি ও মুক্তা

Cover Story, Stories
বাংলা গল্প : কবি ও মুক্তা লিখেছেন - নাবিলা সিদ্দিকা   বেদনার নীল রং..। আব্বে রাহো তোমার কবিতা। কী কইলা? বেদনার কালারডা জানি কী? নীল? নীলতো অইবোই! ঠ্যাঙ্গের নলিতে পটাশ পটাশ দুইখান বাড়ি দিলে নীল রঙা ছোপতো পড়বোই। নতুন কিছু কও। কবি রানা মজুমদার তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কিছু বলতে পারে না। সে উঠতি কবি। এখনো আঙ্গুল টিপে মাত্রা গোনে। অক্ষরবৃত্তে যুগ্মধ্বণিতে সে প্রায়ই তালগোল পাকায়। মাত্রাবৃত্তকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চললেও চর্চায় তার ত্রুটি নেই। কবিতার জন্য চাই আইডিয়া। আইডিয়ার জন্য ভেরিয়েশন। সেই জন্যই দিন দশেক হলো পুরান ঢাকার একদল উঠতি বখাটের সঙ্গে রানার ওঠাবসা শুরু। আড়াই টাকার সিগারেটে টান দিতে কবির বেজায় কষ্ট। বখাটেরা এজন্য তাকে চার টাকার সিগারেট খাওয়ায়। কবিতার জন্য না, নিতান্ত ভদ্র ছেলে বলেই তারা পছন্দ করে। চা-সিগারেটের বিলটা তাই তারাই দেয়। বিল দেয়ার সময় রানা তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে। পেঁজা ...
রোমান্টিক হরর গল্প : দম্পতি

রোমান্টিক হরর গল্প : দম্পতি

Cover Story, Stories
\   ধ্রুব নীল ‘আমার মনে হয় তোর ভাবী মানুষ না।’ ‘অ্যাঁ!’ ঝেড়েকেশে সরাসরি কথাটা না বললেও হতো। কিন্তু সজল ভ‚মিকা করতে পারে না। কথা পেটে থাকলে চিনচিনে একটা ব্যথা করে তার। ‘তা হলে ভাবী কি অমানুষ? মানে তোর ওপর নিদারুণ...।’ ‘আরে না! রেনুর মতো মানুষ হয় নাকি! ইয়ে মানে, ও অনেক ভালো। কদিন আগে আমার সামান্য জ্বর হয়েছিল, তাতেই পানিটানি ঢেলে একাকার অবস্থা। হে হে হে।’ ‘অ্যাঁ!’ বার বার অ্যাঁ অ্যাঁ করা লোকটা হলো সজল সরকারের ভার্সিটি লাইফের বন্ধু ইন্দ্রজিত। ওর কাছেই মাঝে মাঝে পেটের কথা উগড়ে আসে সজল। আজও সন্ধ্যায় দুজনের আড্ডা চলছে শ্যামলী পার্কে। ‘তা হলে?’ ‘বলছিলাম ও মানুষ না। অন্য কিছু। মানে.. ওই যে অশরীরী...।’ ধন্ধে পড়ে গেল সজল। তার স্ত্রী রেনু বাতাসে উড়ে বেড়ায় না। শরীরটা একটু রোগাপাতলা। তবে শক্তি আছে বেশ। পাড়ায় মারকুটে হিসেবে ভালো খ্যাতিও আছে। একবার তো দুই ছিনতাইকারীকে জুডোর প্যাঁচে খ...