op-ed Archives - Mati News
Monday, October 12

Tag: op-ed

উন্নয়নের চীন দর্শন: মর্যাদাপূর্ণ জীবনই মোক্ষ

উন্নয়নের চীন দর্শন: মর্যাদাপূর্ণ জীবনই মোক্ষ

China, Op-ed
ফয়সল আবদুল্লাহ একটি দেশের উন্নয়নে সবার আগে কী দরকার? সোজাসাপটা উত্তর হলো, মানুষের উন্নয়ন। দেশের জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে না পারে সেই রাষ্ট্র কখনই বড় বড় অবকাঠামো বা আমদানি-রপ্তানির পরিসংখ্যানকে উন্নয়নের মাপকাঠি দাবি করতে পারে না। একটি বিপুল জনগোষ্ঠীকে কর্মহীন ও দারিদ্র্যপীড়িত রেখে কক্ষপথে স্যাটেলাইট পাঠালে রাষ্ট্র উন্নত হয় না। মানুষের জীবিকা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত না করে স্রেফ মুখরক্ষার জন্য বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেই কি উন্নয়নের দাবি করা যায়? বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশের উন্নয়ন করতে গেলে এখন কী দরকার? সীমিত সম্পদ দিয়ে সব মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন সম্ভব? চীনের দিকে তাকালে প্রশ্নটার উত্তর মিলতে পারে। কেবল মাত্র একটি বিষয় নিশ্চিত করেই চীন পৌঁছে গেছে উন্নতির শিখরে। তা হলো সুশাসন। প্রতিষ্ঠার পর চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দারিদ্র্য বিমোচনের সংজ্ঞাটা ঠিক করে...
মানুষ খাবার কিনতে বাজারে যায়: মৃত্যু কিনতে নয়

মানুষ খাবার কিনতে বাজারে যায়: মৃত্যু কিনতে নয়

Op-ed
মীর আব্দুল আলীম একজন মানুষ বাজারে গেলেন। মাছ কিনলেন, সবজি কিনলেন, ফল কিনলেন, মসলা কিনলেন, সন্তানের জন্য দুধ বা বিস্কুট কিনলেন। তারপর নিশ্চিন্ত মনে সেই খাবার পরিবারের সামনে তুলে দিলেন। কিন্তু তিনি কি জানেন, যে খাবারটি তিনি কিনে আনলেন, তার ভেতরে কী আছে? জানেন কি, সেটি তার শরীরের জন্য নিরাপদ কি না? জানেন কি, তার সন্তানের হাতে তুলে দেওয়া খাবারটি আগামী দিনের কোনো অসুখের বীজ বহন করছে কি না? আর যদি সাধারণ মানুষ না-ই জানেন, তাহলে প্রশ্নটি রাষ্ট্রের কাছে রাষ্ট্র কি জানে? রাষ্ট্র কি দেখে? রাষ্ট্র কি পরীক্ষা করে? আর যদি রাষ্ট্র জানে, দেখে এবং পরীক্ষা করে, তাহলে মানুষের বাজারে ভেজাল খাবার ঢোকে কীভাবে? এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটি শুধু খাদ্যের মানের প্রশ্ন নয়, এটি মানুষের জীবনের প্রশ্ন। একজন মানুষ রাষ্ট্রের কাছে খুব বেশি কিছু চান না। তিনি চান নিরাপদে বাঁচতে, নিরাপদ ...
আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রেখেই দক্ষিণ চীন সাগরের শান্তি রক্ষা করতে হবে

আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রেখেই দক্ষিণ চীন সাগরের শান্তি রক্ষা করতে হবে

China, Op-ed
ইয়াং ওয়েইমিং স্বর্ণা এ বছর তথাকথিত ‘দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি মামলার’ অবৈধ রায় ঘোষণার দশ বছর পূর্ণ হলো। এই এক দশকেই প্রমাণ হয়েছে, বাস্তবতা উপেক্ষা করে এবং সীমা লঙ্ঘন করে দেওয়া কোনো রায় পরিণত হয় মূল্যহীন কাগজে। এমন রায় দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকারকে কোনোভাবেই দুর্বল করতে পারেনি। ইয়াং ওয়েইমিন স্বর্ণা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকার দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত। এর সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক ও আইনগত ভিত্তি রয়েছে। ২০০৬ সালে চীন সরকার জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক সনদ (আনক্লজ)-এর ২৯৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি ঘোষণা দেয়, যার মাধ্যমে সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ ও ঐতিহাসিক অধিকার-সংক্রান্ত বিরোধকে বাধ্যতামূলক সালিশি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়। এটি সনদে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর বৈধ অধিকার। আরও অনেক দেশও একই ঘোষণা দিয়েছে। কিন্...
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ডিজিটাল অর্থনীতি কেন জরুরি?

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ডিজিটাল অর্থনীতি কেন জরুরি?

China, Op-ed
অধ্যাপক ড. হ্য হোংমেই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আর এ সময় বৈশ্বিক পুনরুদ্ধারের নতুন প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ডিজিটাল অর্থনীতি। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড)-এর মতে, বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি বছরে ১০–১২ শতাংশে হারে বাড়ছে, যা সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক মূল্য সংযোজন সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। ২০২৩ সালে, বিশ্বজুড়ে সরবরাহযোগ্য ডিজিটাল সেবার বাণিজ্য সাড়ে চার ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর এর হাত ধরেই বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কাঠামো পুনর্গঠিত হয়েছে ধারাবাহিকভাবে।   Prof. Dr. He Hongmei এই ডিজিটাল রূপান্তর এখন বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য উত্তর–দক্ষিণ উন্নয়ন বৈষম্য কমানোর দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে। ত...
চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা থেকে যা কিছু শেখার আছে

চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা থেকে যা কিছু শেখার আছে

China, Op-ed
  Prof. Dr. He Hongmei অধ্যাপক ড. হ্য হোংমেই চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই জ্ঞানের বিস্তার, সভ্যতার শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ওপর নয়। বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পাহাড়সম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। সুরক্ষাবাদের প্রবণতাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি। ঠিক এমন সময় অনেকগুলো উন্নয়নশীল দেশের মুখে শোনা যাচ্ছে একটি প্রশ্ন: জ্ঞান বিনিময়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে কীভাবে উন্নয়ন সক্ষমতা শক্তিশালী করা যায়, যাতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়? গ্লোবাল সাউথ তথা বৈশ্বিক দক্ষিণের অনেক দেশের কাছে এখন উন্নয়ন মানে শুধু মূলধনী বিনিয়োগ বা প্রযুক্তিগত সহায়তা নয়। সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিজ্ঞতা বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এব...
৭ জুলাই থেকে বর্তমান: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নিয়ে চীন কেন সতর্ক?

৭ জুলাই থেকে বর্তমান: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নিয়ে চীন কেন সতর্ক?

China, Op-ed
  ইয়াং ওয়েই মিন স্বর্ণা, সিএমজি, বেইজিং   ইয়াং ওয়েইমিন স্বর্ণা বাংলাদেশের বন্ধুরা, আপনারা যখন ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি বলেন, তখন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের কথাই স্মরণ করেন। চীনাদের কাছেও ৭ জুলাই তেমনি একটি বেদনা ও প্রতিরোধের স্মৃতিবহ দিন। ১৯৩৭ সালের এই দিনে, লুকৌছিয়াও (মার্কো পোলো সেতু)’র গুলির শব্দে চীনের জাতীয় প্রতিরোধ যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। এটি শুধু চীনের ইতিহাস নয়, বরং আগ্রাসন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে এশিয়ার জনগণের যৌথ প্রতিরোধ। আমরা আজ শান্তির যুগে বাস করছি। কিন্তু ইতিহাসের ধোঁয়া তো স্মৃতি থেকে মুছে যাবার নয়। যখনই চীনা জনগণ শোনে, জাপানের কিছু রাজনীতিক ইয়াসুকুনি মন্দিরে পূজা দিতে যাচ্ছেন, শান্তি-সংবিধান সংশোধন করতে চলেছেন, কিংবা দক্ষিণ চীন সাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর চেষ্টা করছেন, সেই গভীর ব্যথা ফের জাগ্রত হয়। এই অনুভূতি ‘জাপান-বিরোধী মনোভাব’...
প্রযুক্তির মহাপ্রাচীরে দারিদ্র্য আটকাল চীন, সম্ভাবনা বাংলাদেশেরও

প্রযুক্তির মহাপ্রাচীরে দারিদ্র্য আটকাল চীন, সম্ভাবনা বাংলাদেশেরও

China, Op-ed
ফয়সল আবদুল্লাহ রাত গভীর। চীনের কুইচৌ প্রদেশের একটি হাসপাতালের ওয়ার্ডে শুয়ে আছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব ছেন ইউকুও। চোখে ঘুম নেই। হাসপাতালের বেডে শুয়ে কেটেছে কয়েকটি দিন। টেনশনটা নিজের রোগ নিয়ে নয়। মন পড়ে আছে বাড়ির খামারে। গবাদিপশুগুলোকে ফেলে এসেছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর স্ত্রীও কাছছাড়া হয়নি। প্রাণীগুলোকে খাবার দেওয়ার কেউ আছে? এদিকে হাসপাতালের বিলটাও বেড়ে চলেছে লাগামহীন। ছেন স্পষ্ট বুঝতে পারছিলেন, তার এমন অসুস্থতা মানেই সংসারটা আবার রাতরাতি চলে যাবে দারিদ্র্যের পাড়ায়। যে দারিদ্র্যটাকে তিনি এর আগে একবার ঝেঁটিয়ে বিদায় জানিয়েছিলেন। তবে ছেনের কানে তখনও একটা খবর পৌঁছায়নি। তার এই ঘোরতর সংকটের খবর কিন্তু চলে গেছে স্থানীয় প্রশাসনের কানে। হাসপাতালের বিলের খবরটাও তারা জানেন। কীভাবে? ছেনের মতো নিম্নবিত্ত মানুষের হাসপাতাল বিল যখন একটা সীমা অতিক্রম করে, তখনই টনক নড়ে কুইচৌ প্রদেশের একটি এআই পর্যবেক্ষণ ...
কর্মজীবী মানুষের চাওয়া ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট

কর্মজীবী মানুষের চাওয়া ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট

Op-ed
স্বপন বিশ্বাস শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার কখনোই সহজে অর্জিত হয়নি; বরং তা এসেছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং আত্মদানের মধ্য দিয়ে। সেই ইতিহাসকে সামনে রেখেই মে দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, এটি কর্মজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায্যতার দাবি জানানোর এক দৃঢ় উচ্চারণ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মে দিবসের তাৎপর্য আরও গভীর। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ,গার্মেন্টস কর্মী, কৃষিশ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, কারখানার কর্মচারীসহ নানা খাতে নিয়োজিত কোটি মানুষের পরিশ্রমে দাঁড়িয়ে আছে দেশের অগ্রযাত্রা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শ্রমজীবী মানুষেরা কি তাদের প্রাপ্য সম্মান, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাচ্ছেন? বর্তমান প্রেক্ষাপটে শ্রমজীবী মানুষের প্রধান চাওয়া হচ্ছে ন্যায্য মজুরি। জীবনযাত্রার ব্যয় দিন দিন বেড়ে চলেছে। খাদ্য, বা...
নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের প্রয়োজন নেই, দরকার সংলাপ ও সহযোগিতা

নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের প্রয়োজন নেই, দরকার সংলাপ ও সহযোগিতা

China, Op-ed
ফয়সল আবদুল্লাহ বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতার অনেক কারণ থাকতে পারে। সেটা যে সব সময় বড় শক্তিধর রাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তন থেকে জন্ম নেয়, এমনটা নয়। তবে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে স্থিতিশীল ও সুস্থ সম্পর্ক কিন্তু আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দূর করতে পারে। কারণ তাদের পারস্পরিকভাবে জড়িত অর্থনৈতিক সম্পর্কটা গড়ে দেয় বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার মজবুত ভিত্তি। এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর স্বভাবতই গোটা বিশ্বের নজর ব্যাপক মনোযোগ কেড়েছে। চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে সঠিক পথে পরিচালিত করতে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনীতিই অপরিহার্য। কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়াখুন বুধবার বলেছেন, চীন ট্রাম্পের এই সফরকে স্বাগত জানায়। সফরকালে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে গভীর মতব...
একটি সুন্দর দেশ গড়তে প্রয়োজন মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ

একটি সুন্দর দেশ গড়তে প্রয়োজন মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ

Op-ed
স্বপন বিশ্বাস একটি দেশের উন্নয়ন শুধু উঁচু অট্টালিকা, প্রশস্ত সড়ক, বড় বড় সেতু কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে মানুষের নৈতিকতা, সামাজিক স্থিতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের ওপর। যে সমাজে মানুষ নিরাপদ, সচেতন, কর্মমুখী ও নৈতিকভাবে দৃঢ়—সেই সমাজই একটি সুন্দর দেশের ভিত্তি নির্মাণ করে। আর এই ভিত্তিকে সবচেয়ে বেশি দুর্বল করে দেয় দুটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি—মাদক এবং জুয়া। মাদক শুধু একটি ব্যক্তির শরীর নষ্ট করে না; এটি ধীরে ধীরে একটি পরিবারকে ভেঙে দেয়, সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে, অর্থনৈতিক স্থিতি ধ্বংস করে এবং সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটায়। একজন তরুণ যখন মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন সে কেবল নিজের ভবিষ্যৎ নয়, পরিবারের স্বপ্নও ধ্বংস করে। প্রথমে কৌতূহল, পরে বন্ধুমহলের প্ররোচনা, এরপর অভ্যাস—এই তিন ধাপেই বহু তরুণ অন্ধকারে হারিয়ে ...
উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম: প্রয়োজন আইনি তৎপরতা ও সচেতনতা

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম: প্রয়োজন আইনি তৎপরতা ও সচেতনতা

Op-ed
অ্যাডভোকেট মোঃ এনামুল হক বর্তমানে বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন এবং পরিকল্পিত অপপ্রচারের মহোৎসব চলছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, একটি প্রশিক্ষিত গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে এই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। রাজনৈতিক ভিন্নমতকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই এখন বেছে নিচ্ছেন মিথ্যে তথ্য, বিকৃত উপস্থাপন কিংবা গুজব ছড়ানোর নোংরা পথ। এর ফলে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে সমাজে বিভাজন, অবিশ্বাস ও ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমরা যা-ই প্রকাশ করি না কেন, তার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ভার্চুয়াল জগতেও দেশের আইন সমানভাবে প্রযোজ্য। তথাকথিত ‘হাইপ’ তুলতে ব্যস্ত এই প্রশিক্ষিত কর্মীদের ফেসবুক পোস্টগুলো বিশ্লেষণ করলে তাদের চরম মানসিক অসুস্থতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রা...
হোয়াইট হাউস যখন হত্যাকে খেলা ভাবে

হোয়াইট হাউস যখন হত্যাকে খেলা ভাবে

China, Op-ed
লি লি, সংবাদকর্মী, সিএমজি বাংলা, বেইজিং কার্টুন চরিত্র স্পঞ্জবব স্কোয়ারপ্যান্টস একবিংশ শতাব্দীতে যেন এক অদ্ভুত নতুন ‘ভূমিকা’ পেয়েছে—ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উল্লাস প্রকাশ! সম্প্রতি হোয়াইট হাউস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে স্পঞ্জবব স্কয়ারপ্যান্টসের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি, ভিডিও গেমের সুর এবং ইরানের ওপর বিমান হামলার বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হলো পাশাপাশি। এমনকি একটি ভিডিওর ক্যাপশন ছিল—‘আবার দেখবেন?’ জনসমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে তৈরি এই প্রচারণামূলক ভিডিওগুলো তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই। অনেকের মতে, এগুলো মানুষের দুর্ভোগের প্রতি নির্লজ্জ উদাসীনতার প্রকাশ। লিলি ভিডিওতে ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দৃশ্যের সঙ্গে বোলিং পিন পড়ে যাওয়ার দৃশ্য পালাক্রমে দেখানো হয়। সঙ্গে ছিল ক্রীড়া ধারাভাষ্যের উত্তেজিত কণ্ঠস্বর। পু...
শান্তি সবার উর্ধ্বে: বৈশ্বিক যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ও জীবনের মূল্য

শান্তি সবার উর্ধ্বে: বৈশ্বিক যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ও জীবনের মূল্য

China, Op-ed
ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী সম্প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি আবারও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিবদ্ধ হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে লন্ডন, তেল আবিব থেকে সিডনি—যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইসরায়েল, ইতালি, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এই বহু-দেশীয় যুদ্ধবিরোধী স্রোত একটি মৌলিক সত্যকে প্রতিফলিত করে: জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবন প্রয়োজন, জাতির দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রয়োজন। জীবন যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি মূল্যবান। মার্কিন জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের প্রধান জো কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর কেবল রাস্তা থেকেই আসেনি, বরং খোদ সরকারের ভিতর থেকেও এসেছে। মার্কিন জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের প্রধান জো কেন্ট ১৭ মার্চ পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে বলেন: "ইরানের চলমান যুদ্...
এই যুদ্ধের আসল কারণ কী? কেন কারণ বারবার বদলাচ্ছে?

এই যুদ্ধের আসল কারণ কী? কেন কারণ বারবার বদলাচ্ছে?

Op-ed
(কাউন্টারপাঞ্চে প্রকাশিত সাসান ফায়াজমানেশের কলাম অবলম্বনে) যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় যুদ্ধ (এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে) অনেক প্রশ্ন তুলেছে। মিডিয়ায় সবাই জিজ্ঞাসা করছে: এই যুদ্ধের আসল কারণ কী? কেন কারণ বারবার বদলাচ্ছে? এটা কি ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা না হওয়ার জন্য? নাকি ইরান খুব তাড়াতাড়ি নিউক্লিয়ার অস্ত্র বানাতে যাচ্ছিল? ইরানের মিসাইল কি শীঘ্রই আমেরিকায় পৌঁছাতে পারত? ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ করতে যাচ্ছিল বলে আমেরিকা আগে থেকে আক্রমণ করেছে? নাকি ইরান মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে? অথবা অন্য কিছু? আমেরিকার মিডিয়া এই পরিবর্তনশীল কারণগুলো বুঝতে পারছে না। এটা অদ্ভুত। গত কয়েক দশকে তারা কি ঘুমিয়ে ছিল? প্রায় ২৫ বছর আগে (২০০১ সালে) আমি একটা অর্থনীতির কনফারেন্সে আমেরিকার ইরান নীতি নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, পারস্য উপসাগরে আমেরিকার নীতি “দু...

ভূমিকম্প, নিরাপত্তা ও ওড়না—গোলমালটা কোথায়?

Op-ed
ভূমিকম্প হলো হঠাৎ পরীক্ষা। তখন প্রথম কাজ—নিজেকে বাঁচানো।কিন্তু আশেপাশে কিছু মানুষ থাকে, যারা পরিস্থিতি না বুঝেই ডায়লগ ছোঁড়ে— “দৌড়াও না কেন?” “ওড়না নিতে কতক্ষণ লাগে?” “ধর্ম জানো না?” এই সব কথা শুনে মনে হয়—এরা না বিজ্ঞান জানে, না ফিকহ জানে। ভূমিকম্পে দৌড়ানোই কেন সবচেয়ে বিপজ্জনক? বিশ্বের বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক কথাই বলে—“Drop – Cover – Hold”অর্থাৎ—বসে পড়ো → কিছু দিয়ে মাথা ঢাকো → থামা পর্যন্ত ধরে থাকো। কেন? কারণ— ভূমিকম্পে মাত্র ২–৫ সেকেন্ডেই ভারসাম্য উধাও। দৌড়াতে গেলে ধপ করে পড়ে যাবেন। বেশিরভাগ ইনজুরি হয় দৌড়ানোর সময়—কাচ, দেয়াল, সিলিং ফ্যান, শেলফ—সব মাথায় পড়ে। ঝাঁকুনি চলার সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থাকে ১–২ সেকেন্ড। আর আমাদের দেশের ভবনে সিঁড়ি, করিডোর—সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা। তাই দৌড়ানো বন্ধ রাখো—এটা কাওয়ার মতবাদ না, একদম পর...