ভর্তুকিতে চীনের মরু নিয়ন্ত্রণ এখন লাভজনক উদ্যোগ - Mati News
Wednesday, June 17

ভর্তুকিতে চীনের মরু নিয়ন্ত্রণ এখন লাভজনক উদ্যোগ

ফয়সল আবদুল্লাহ

চীনের সিনচিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের তাকলামাকান মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তে সারি সারি ছোট ওলিয়াস্টার গাছের চারা বাতাসে দুলছে। চারাগুলোর পাশে বাঁশের খুঁটি, আর মাঝের জমিতে গম ও আলফালফার সবুজ আচ্ছাদন। একসময় যেখানে ১০ মিটারেরও বেশি উঁচু বালিয়াড়ি ছিল, সেখানে এখন সবুজের ছোঁয়া।

এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালে হোতান অঞ্চলে চালু হওয়া ‘আগে নির্মাণ, পরে ভর্তুকি’ নীতি। এ নীতির আওতায় সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনা ভাড়ায় মরু-জমি ব্যবহার করতে দেয়। বাসিন্দারা নিজেদের অর্থে বালিয়াড়ি সমতল করে খরা-সহনশীল গাছ লাগান। পরে স্বাধীন পরিদর্শনে গাছের বেঁচে থাকার হার ৮৫ শতাংশের বেশি প্রমাণিত হলে সরকার ভর্তুকি প্রদান করে।

আয়িমাক গ্রামের বাসিন্দা ও উদ্যোক্তা সুদিওমার তুরসুন এ কর্মসূচির প্রথম দিকের অংশগ্রহণকারীদের একজন। গত বছরের অক্টোবরে তিনি ১৮ জন গ্রামবাসীকে নিয়ে একটি কৃষি সমবায় গঠন করে মরু-জমি পুনরুদ্ধারের কাজে নামেন।

প্রকল্পের জন্য তিনি নিজের সঞ্চয়, ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৪০ লাখ ইউয়ান বিনিয়োগ করেন। অনেকেই এ উদ্যোগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করলেও তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে কাজ চালিয়ে যান।

সমবায়ের চুক্তি অনুযায়ী, সুদিওমার আর্থিক ঝুঁকি ও যন্ত্রপাতির ব্যয় বহন করেন, আর অন্য সদস্যরা শ্রম দেন এবং নিয়মিত মজুরি পান। প্রকল্প লাভজনক হলে শ্রমিকরা আয়ের ২০ শতাংশ অংশ পাবেন।

সরকারও অবকাঠামোগত সহায়তা দিয়ে ঝুঁকি কমিয়েছে। সড়ক নির্মাণ, সেচ পাম্পের জন্য পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত।

হোতানের বন ও তৃণভূমি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৮১৪টি গ্রামের ১৮ হাজার ৬০০ পরিবারের প্রায় ৬৯ হাজার ৯০০ বাসিন্দা এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তারা ৬০ হাজার ৩০০ হেক্টরের বেশি মরু-জমি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছেন।

প্রশাসনের প্রধান আবলিকিম সাওর জানান, ২০২৪ সালের শরতে রোপণ করা ৬৬০ হেক্টর জমির জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ইউয়ান ভর্তুকি বিতরণ করা হয়েছে। বৃক্ষের জন্য প্রতি হেক্টরে ৩০ হাজার ইউয়ান এবং ঝোপজাতীয় উদ্ভিদের জন্য ২২ হাজার ৫০০ ইউয়ান পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পটির আর্থিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে বিশেষ কৃষি প্রকৌশল। স্থানীয় বুনো ওলিয়াস্টার গাছের শক্তিশালী মূলের ওপর উচ্চ ফলনশীল ও বড় ফলের জাত কলম করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে মরুভূমিতে বাতাস প্রতিরোধকারী সবুজ বেষ্টনী তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে পানীয় শিল্পের জন্য বাণিজ্যিক ফলও উৎপাদিত হচ্ছে।

এ ছাড়া আলফালফা ফসল মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে বালুময় জমিকে ধীরে ধীরে উর্বর করে তুলছে। এতে ভবিষ্যতে গমের মতো খাদ্যশস্য চাষও সম্ভব হবে।

তারিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শুষ্কাঞ্চল উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ লি ঝিছুন বলেন, তৃতীয় বছর থেকে প্রতি হেক্টরে ওলিয়াস্টার গাছ থেকে ২২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ইউয়ান এবং আলফালফা থেকে আরও প্রায় ৩০ হাজার ইউয়ান আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, হোতানের একটি মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাকেন্দ্রে ২১ প্রজাতির গাছ, ১৮ প্রজাতির ঝোপ, ২৫ প্রজাতির ভেষজ উদ্ভিদ এবং ১২ প্রজাতির অর্থকরী ফসলসহ মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০টি গাছপালা রোপণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রটির প্রযুক্তিবিদ লি ইয়ানচং জানান, মরু অঞ্চলে কোন উদ্ভিদ সবচেয়ে ভালো জন্মায় এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে। সফল প্রজাতিগুলো পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

সূত্র: সিএমজি

https://img2.chinadaily.com.cn/images/202606/15/6a2f55b4a310986e1017ace0.jpeg

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *