Stories Archives - Mati News
Wednesday, October 28

Stories

তুমি ও আমি

তুমি ও আমি

Stories
বৃষ্টি আরা (বৃষ্টি) তুমি ছিলে আমার অস্তিত্বের অতল অভিলেখে উৎকীর্ণ এক অবিনশ্বর আলোকতত্ত্ব, যার দীপ্তিতে সংশয়ের কৃষ্ণগহ্বরও খুঁজে পেয়েছিল প্রত্যয়ের মহাজাগতিক ব্যাকরণ। আমি তোমার প্রতিশ্রুতির শিলালিপিতে নির্মাণ করেছিলাম অনাগত দিনের দুর্ভেদ্য উপাসনালয়, অথচ তোমারই অদৃশ্য করতলে প্রতিদিন ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকল তার ভিত্তির অধিবিদ্যা। তোমার স্নিগ্ধ উচ্চারণের অন্তঃসলিলে জন্ম নিল বিষণ্নতার অণুবীক্ষণযোগ্য বিষবীজ, আর আমার নীরবতা হয়ে উঠল অনুভূতির সমাধিলিপিতে আবদ্ধ এক নির্বাসিত মহাদেশ। তুমি ভালোবাসার নন্দনতত্ত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে বদলে দিলে তার অন্তর্গত নৈতিক সংবিধান। আর আমি, আমি প্রতিটি আঘাতকে অনুবাদ করেছি অব্যক্তির দুর্বোধ্য লিপিতে  যেখানে ,তুমি আমার সহিষ্ণুতাকে ভেবেছ আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত দার্শনিক স্বীকৃতি। অথচ আমার স্তব্ধতার ভূত্বকের নিচে সঞ্চিত হয়েছে বিপর্যয়ের...
কাচের শহর ও আয়নার শাসক

কাচের শহর ও আয়নার শাসক

Stories
সাবিত রিজওয়ান মরুভূমির ধূ ধূ প্রান্তরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল রোদের আলোয় ঝলমল করা এক শহর, আয়নাপুর। শহরের চারপাশে উঁচু, পুরু কাচের দেয়াল। মাঝখানে বিশাল কাচের প্রাসাদে থাকেন শাসক। তাঁর রাজত্বে এক অদ্ভুত নিয়ম। প্রতিদিন ভোর হতে না হতেই নগরের সব মানুষকে কাপড়ের টুকরো আর পরিষ্কারের তরল নিয়ে কাচের দেয়াল ঘষতে হয়। কোথাও একটুখানি ধুলো জমলেও রেহাই নেই। শাসক বলতেন, “দেয়ালের ওপারে, ওই ধূলিঝড়ের আড়ালে ভয়ংকর এক শত্রু লুকিয়ে আছে। তারা আমাদের ওপর হামলা করার সুযোগ খুঁজছে। কাচ পরিষ্কার থাকলে আমি তাদের গতিবিধি দেখতে পাব। দেয়াল ঘোলা হয়ে গেলে কেউ টের পাওয়ার আগেই তারা শহরে ঢুকে সব ধ্বংস করে দেবে। তোদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমার।” এই কথা শুনে মানুষ ভয়ে কাচ পরিষ্কার করত। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো কখনো রাতেও। তাদের নিজেদের কাজ ছিল, সংসার ছিল, ক্লান্ত শরীর নিয়ে একটু বিশ্রাম নেওয়ার ইচ্ছা ছি...
মাটিনিউজে লিখলেই টাকা!

মাটিনিউজে লিখলেই টাকা!

Career, Cover Story, Stories
মাটিনিউজে লিখুন গল্প বা ফিচার, করুন আয়! যেকোনো সুস্থধারার গল্প। হোক সেটা প্রেমের, অ্যাডভেঞ্চার বা ভয়ানক হরর। এবার গল্প লিখে আয় করা ঠেকাতে পারবে না কেউ। ফিচারের ক্ষেত্রেও আছে পুরো স্বাধীনতা। শিক্ষা ও কৃষিমূলক কিংবা ভ্রমণ কিংবা লিখুন যা খুশি…। গল্প লিখে আয় করার বিস্তারিত প্রতি এক হাজার ভিউর জন্য লেখক পাবেন ২০ টাকা করে। একশ টাকা (পাঁচ হাজার ভিউ) জমলেই সেই টাকা পাঠানো হবে বিকাশে। এরপর যত হাজার ভিউ হবে, বাড়তে থাকবে টাকা। আবার লেখক চাইলে টাকার বিনিময়ে বই উপহারও নিতে পারেন। গল্প পাঠানোর নিয়ম প্রথমেই বলে রাখি, এআই লেখা প্রযোজ্য নয়। লেখা কমপক্ষে ৫০০ শব্দ হতেই হবে। matinewsbd@gmail.com এই ইমেইলে পাঠান গল্প/ফিচার। আমাদের মেইলের বডিতে সরাসরি পেস্ট করে গল্প লিখুন। এটাচমেন্ট ফাইল বা বিজয় ফন্টে না পাঠালেই ভালো। গল্পের শেষে বিকাশ নাম্বার দিয়ে দেবেন।...
প্রিয়জন, প্রয়োজনে পাশে থেকো!

প্রিয়জন, প্রয়োজনে পাশে থেকো!

Op-ed, Stories
লেখক: মাওলানা মো. জয়নাল আবেদীন বিপদ কখনো আগাম বার্তা দিয়ে আসে না। জীবনের সুসময়ে চারপাশে মানুষের অভাব হয় না, কিন্তু দুঃসময়ে পাশে থাকার মানুষের সংখ্যা খুবই কম। বিপদ যেন জীবনের এক আয়না, যেখানে মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায়। জীবনের পথে চলতে গিয়ে কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়; কত বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে; কতজন আপন ভেবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। মনে হয়, পুথিবী জুড়ে আমাদের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ছড়িয়ে আছে। কিন্তু সময়ের সামান্য পরিবর্তন কিংবা বিপদের একটি ঝাপটা এলেই বোঝা যায়, চারপাশে মানুষের ভিড় থাকলেও পাশে থাকার মতো মানুষ খুরই সীমিত। কেউ সামান্য আন্তরিকতা দেখালেই তাকে আপন ভেবে বসি; প্রয়োজনে নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করি না। অথচ কখনো সবচেয়ে গভীর আঘাত আসে সেই মানুষের কাছ থেকেই, যাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করি। সুসময়ে সঙ্গী অনেক, দুঃসময়ে হাত ধরে রাখে প্রকৃত আপনজন। তবু বন্ধুত্বে বিশ্বা...
ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে সাহিত্যে: চীনের দীপ্তিমান তরুণ কথাশিল্পী ছেন ছুনছেং

ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে সাহিত্যে: চীনের দীপ্তিমান তরুণ কথাশিল্পী ছেন ছুনছেং

China, Stories
আফরিন মিম ১৯৯০ সালে চীনের ফুচিয়ান প্রদেশে জন্ম নেওয়া ছেন ছুনছেং-এর শুরুটা ছিল আর দশটা সাধারণ শিক্ষার্থীর মতোই। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা শেষ করে ভর্তি হন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। স্নাতক শেষে যোগ দেন মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পে। কিন্তু ইট-পাথরের ধূসর নির্মাণক্ষেত্রের চেয়ে তার মন ব্যাকুল থাকত কল্পনার নীল আকাশে। ২০১৪ সালে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিকে বিদায় জানিয়ে তিনি যোগ দেন একটি বোটানিক্যাল গার্ডেনে। শান্ত ও স্নিগ্ধ এই পরিবেশেই সূচনা হয় তার জাদুকরী সাহিত্য যাত্রার। ২০১৯ সালে তার লেখা ছোটগল্প 'দ্য মিউজিশিয়ান' এবং ২০২০ সালে প্রথম গল্পসংকলন 'দ্য সাবমেরিন অ্যাট নাইট' প্রকাশের পরপরই সাহিত্যবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বইটি জিতে নেয় 'এশিয়া উইকলি'র বছরের সেরা দশ উপন্যাসের খেতাব এবং সম্মানজনক 'ব্ল্যাঙ্কপেইন আইডিয়াল নেশন লিটারেচার প্রাইজ'-এর শীর্ষ পুরস্কার। বিখ্যাত চাইনিজ লেখ...
গল্প লিখে আয় করার সুযোগ দিচ্ছে মাটিনিউজ ডটকম, প্রতি হাজার ভিউয়ে ২০ টাকা

গল্প লিখে আয় করার সুযোগ দিচ্ছে মাটিনিউজ ডটকম, প্রতি হাজার ভিউয়ে ২০ টাকা

Cover Story, Stories
অনলাইনে গল্প লিখে নিজের সৃষ্টিশীলতার স্বীকৃতির পাশাপাশি আয় করার সুযোগ দিচ্ছে মাটিনিউজ ডটকম। এখন থেকে এই ওয়েবসাইটে গল্প লিখে প্রকাশের মাধ্যমে লেখকেরা পাঠকসংখ্যার ভিত্তিতে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। প্রতি এক হাজার ভিউয়ের জন্য লেখককে দেওয়া হবে ২০ টাকা। মাটিনিউজ ডটকমে বিভিন্ন ধরনের গল্প লেখার সুযোগ রয়েছে। রহস্য, গোয়েন্দা, রোমাঞ্চ, প্রেম, সামাজিক জীবন, ভৌতিক, কল্পবিজ্ঞান, শিশু-কিশোর সাহিত্য কিংবা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা—লেখকেরা তাঁদের পছন্দ ও সৃজনশীলতা অনুযায়ী গল্প লিখতে পারবেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য নতুন ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা এবং বাংলা গল্পের পাঠকসংখ্যা বাড়ানো। একই সঙ্গে অনলাইনে লেখালেখিকে আয়ের সম্ভাবনাময় একটি মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা। যাঁরা নিয়মিত গল্প লেখেন কিংবা লেখালেখির জগতে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চান, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে নিজের লেখা আর...
matinews.com-এ গল্প লিখে আয় করুন

matinews.com-এ গল্প লিখে আয় করুন

Cover Story, Stories
গল্প লিখতে ভালোবাসেন? আপনার লেখা গল্প এখন শুধু পাঠকের ভালোবাসাই নয়, এনে দিতে পারে আয়ও। লেখকদের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে matinews.com। এখন থেকে matinews.com-এ গল্প লিখে প্রকাশ করতে পারবেন এবং গল্পটি যত বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছাবে, তত বেশি আয় করার সুযোগ থাকবে। প্রতি ১,০০০ ভিউয়ের জন্য দেওয়া হবে ২০ টাকা। অর্থাৎ, আপনার গল্পের পাঠকসংখ্যা যত বাড়বে, আপনার আয়ও তত বাড়বে। নতুন লেখক থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ গল্পকার—সবাই এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন। প্রেম, রহস্য, রোমাঞ্চ, সামাজিক গল্প, পারিবারিক কাহিনি, কমেডি কিংবা সমসাময়িক বিষয়—বিভিন্ন ধরনের মৌলিক গল্প প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। আপনার সৃজনশীলতাকে ছড়িয়ে দিন আরও বেশি পাঠকের কাছে। লিখুন আপনার গল্প, প্রকাশ করুন matinews.com-এ এবং গল্পের ভিউ থেকে আয় করুন। লিখুন। পাঠকের কাছে পৌঁছান। আর আপনার লেখার জনপ্রিয়তাকে আয়ে পরিণত করুন। গল্প gol...
এক দিন দড়িটা

এক দিন দড়িটা

Kidz, Stories, Stories for Kids
ধ্রুব নীল শহরের নাম আটকা। আটকা মানে যেটা আটকে আছে। সত্যিই তাই! শহরের সবাই আটকে আছে! নিজেকে নিয়ে। কেউ কারো সাথে কথা তো দূরে থাক, ফিরেও তাকায় না। পাশের বাসায় যে থাকে, তার সঙ্গে চোখাচোখি হলেও চোখ নামিয়ে ফেলে। যেন দেখতেই পায়নি! যেন চোখাচোখি হলেই একটা কিছু ঘটে যাবে। এমন শহরের নাম তো আটকা হবেই। একদিন আটকা শহর ঘটল অদ্ভুত ঘটনা। একটা দড়ি এসে হাজির। ঠিক দড়ি নয় ওটা। লম্বা লিকলিকে একটা বস্তু। মসৃণ আর রাবারের মতো। টানলে বড় হয় কিন্তু ছোট হয় না। দড়িটা প্রথমেই গিয়ে পেঁচিয়ে গেল আবদুল মোতালেব সাহেবের কোমরে। মোতালেব সাহেব বাকি সবার মতো। কথাবার্তা বলেন কম। নিজেকে নিয়েই থাকেন। কোমরে দড়ি দেখে শুরু হলো চেঁচামেচি। ‘আজব তো! আমার কোমরে দড়ি আসল কোত্থেকে? কে বাঁধল! খোলে না কেন!’ অনেক টানাটানি করেও কেউ মোতালেব সাহেবের দড়িটা খুলতে পারল না। দড়িটাও দুষ্টু। তিড়িং বিড়িং করে সরে যায়।...
বর্ষার ভেজা বিকেল 

বর্ষার ভেজা বিকেল 

Stories
আসাদুজ্জামান খান মুকুল  আজ থেকে ২৫-২৬ বছর আগের কথা।অনিমাদের বাসার পাশে রাস্তার মোড়ে একটি টং দোকান ছিল। রহিম মিয়া সেখানে চা-পান বিক্রি করতেন। সবাই তাকে মামা বলে ডাকত।অনিমা রোজ এই দোকানের পাশ দিয়েই কলেজ আসা-যাওয়া করত।কলেজ থেকে ফেরার পথে মাঝেমধ্যেই ওখান থেকে বাবার জন্য কিনে নিত খিলিপান। বাবার প্রতি তার ছিল অন্যরকম টান। চয়ন ছিল ওই এলাকারই একটা মেসে থাকা ছেলে, প্রাইভেট কোম্পানিতে নতুন ঢুকেছে। প্রায়ই অফিস ফিরে ওখানটায় সেও চা খেতে আসত। একদিন অনিমা পান নিয়ে খুচরো টাকা ব্যাগে না পেয়ে কিছুটা ইতস্তত করে দাঁড়িয়ে রইল। দোকানদার মামা কিছুটা বিরক্ত হচ্ছিল বুঝে চয়ন চুপচাপ পাঁচটা টাকা দিয়ে বললেন- "মামা, উনার এটা রেখে দিন।" অনিমা অনেকটা অস্বস্তিতে পড়ে বলেছে-  "না না আপনি দিবেন কেন ?" চয়ন হাত নেড়ে বলে- "আরে কি যে বলেন, ও কোন সমস্যা না। না হয় কাল আমাকে দিয়ে দিবেন।" ...
কাঠবিড়ালির বন্ধুত্ব

কাঠবিড়ালির বন্ধুত্ব

Kidz, Stories, Stories for Kids
আব্দুস সাত্তার সুমন  ধামালকোট মাদ্রাসায় পড়ত চৌদ্দ বছরের কিশোর সুমন। পড়াশোনায় সে মোটামুটি ভালো হলেও তার মন ছিল প্রকৃতিপ্রেমী। পাখি, গাছ, ফুল আর ছোট ছোট প্রাণীর প্রতি ছিল তার অদ্ভুত এক টান। একদিন বিকেলে মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর সে তার বন্ধু শাহজালালের বাড়িতে বেড়াতে গেল। গল্প করতে করতে হঠাৎ তার চোখ পড়ল বারান্দার এক কোণে রাখা ছোট্ট একটি খাঁচার দিকে। খাঁচার ভেতরে লেজ নাড়িয়ে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে অদ্ভুত সুন্দর একটি প্রাণী। সুমন বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, এটা কী? শাহজালাল হেসে বলল, এটা কাঠবিড়ালি। আমার বড় ভাই এনেছে। সুমন আগে কখনো এত কাছ থেকে কাঠবিড়ালি দেখেনি। প্রাণীটিকে দেখে তার মন ভরে গেল। সে বলল, এটা কি আমাকে দেবে? আমার খুব ভালো লেগেছে। শাহজালাল মাথা নেড়ে বলল, এটা আমার নয়। বড় ভাই এলে তাকে জিজ্ঞেস করো। পরদিন সকালেই সুমন আবার শাহজালালদের বাড়িতে...
সায়েন্স টিচার

সায়েন্স টিচার

Kidz, Stories, Stories for Kids
কবির কাঞ্চন ক'দিন ধরে পৃথাদের মন ভালো নেই। ভালো থাকবেইবা কেমন করে। ওদের সবচে' প্রিয় সায়েন্স টীচার হঠাৎ করে গায়েব হয়ে গেছেন। স্যারের গায়েব হওয়ার বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। স্টপ গ্যাপ ক্লাসে যে স্যারই আসেন অমনি ওরা জিজ্ঞেস করে বসে, "স্যার, আমাদের বাবলু স্যার কোথায়? আমরা বাবলু স্যারের ক্লাস করব।" স্টপ গ্যাপ ক্লাস নিতে আসা শিক্ষক ওদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন। জুম্মান স্যার তো বলেই ফেললেন, "কোন স্যার এলো-গেল সেটা তোমাদের দেখার বিষয় না। আগে মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করো। যত্তসব! " এভাবে প্রায় পাঁচ দিন কেটে যায়। এ কয়দিনে ওদের সায়েন্স ক্লাসের অবস্থা অনেকটা যাচ্ছেতাই। বাবলু স্যারের মতো করে কেউ সায়েন্সের খুঁটিনাটি বোঝান না। তাছাড়া স্টপ গ্যাপ ক্লাস করতে আসা স্যারদের আচরণও অনেকটা সৎমায়ের মতো। মঙ্গলবার। পৃথার হঠাৎ মনে পড়ে ওদের সায়েন্স প্রজেক্টের কথা। বাবলু স্যার লাস্ট ক্লাসে ওদের একটি প্রজেক্ট ওয়ার্ক ...
শিকল ভাঙার গান

শিকল ভাঙার গান

Stories
আব্দুস সাত্তার সুমন আমরা তো যৌতুকের কথা বলিনি, করিম ভাই। কথাটা বলেই লোকটি একটু হাসলেন। তাঁর সামনে বসে থাকা আব্দুল করিম কিছু বললেন না। লোকটি আবার বললেন, এলাকার একটা রেওয়াজ আছে। মেয়ের বাবা সাধ্য অনুযায়ী কিছু উপঢৌকন দেন। একটা মোটরসাইকেল হলে ছেলের যাতায়াতে সুবিধা হয়, একটা ফ্রিজ থাকলে সংসারের কাজেও লাগে। আর দু-একটা আসবাবপত্র তো নতুন সংসারে দরকারই হয়। করিম সাহেব এবারও চুপ করে রইলেন। তাঁর শুকনো ঠোঁট দুটো নড়ল, কিন্তু কোনো কথা বের হলো না। পাশের ঘরে বসে সব কথা শুনছিল মারিয়াম। কিছুক্ষণ পর সে ধীরে ধীরে ঘরে এসে দাঁড়াল। চাচা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব? লোকটি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন, বলো মা। আমার বাবা যদি এসব দিতে না পারেন, তাহলে কি আপনার ছেলে আমাকে বিয়ে করবে? প্রশ্নটি শুনে ঘরের পরিবেশ বদলে গেল। ছেলের বাবা একবার করিম সাহেবের দিকে, একবার মারিয়ামের দিকে তাকালেন। ...
টোকাই শিশু”

টোকাই শিশু”

Stories
ফারুক আহম্মেদ জীবন  ঢাকা গুলশান দুই নম্বর ব্লকের প্রথম গলির দুটি বাড়ির পরের পাঁচতলা বাড়িটা নাম করা বিশিষ্ট  শিল্পপতি আবিদ খানের। এতো বড় বাড়ি অথচ বাড়িতে কেউ নেই। শুধু মাত্র আবিদ খানের এক- মাত্র নেশাখোর বখাটে ছেলে রুদ্র ছাড়া। যে এম এ পাশ করে উচ্চ সমাজের কিছু নেশাখোর বখাটে বন্ধুদের সাথে মিশে আজ সেও নষ্ট হয়ে গেছে। রুদ্র এখনো বিয়ে করিনি। রুদ্রর মা-বাবা গতকাল এক সপ্তাহের জন্য সিঙ্গাপুর গেছে চিকিৎসা হতে। রুদ্র সচরাচর বাইরে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে বিভিন্ন পাট্টি ক্লাবে নেশা করলেও। তার মা-বাবার সামনে বাড়িতে সে কখনো নেশা করেনা। কিন্তু এখন বাড়ি পুরো ফাঁকা থাকায়।নেশার সকল সরঞ্জাম বাড়িতে এনে নিজের বেড রুমে বসে মনের আনন্দে স্বাধীন ভাবে ফিলিংসে নেশা করছে। এখন আষাঢ় মাস, আকাশেও ঘন-কালো মেঘ। সারাদিন বিরামহীন ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে। রুদ্র নেশায় পুরো বুদ হয়ে গেছে। নেশার ঘোরে সে গুনগুন করে ...
রোমান্টিক রম্য গল্প: আমাদের প্রেম ভালোই চলছে

রোমান্টিক রম্য গল্প: আমাদের প্রেম ভালোই চলছে

Stories
লেখক: সোহাইল রহমান প্রথম যেদিন রাত সাড়ে তিনটায় আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে বলে, ‘গোসল করে আসলাম মাত্রই’, সত্যি বলতে তখন আমার সামান্য খটকা লেগেছিল। এতো রাতে কে গোসল করে? কেন করে? তার পরের দিন ভোর চারটায় তাকে অনলাইনে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী করো?’ সে বলল, ‘গোসল করে এসে বসে বসে চুল শুকাচ্ছি।’ তার পরদিন আবার দেখি ফজরের আজানের আগে অনলাইনে। দেখেই বুঝছি কী কাহিনী। জিগাইছি, ‘আজও গোসল করলা?’ সে লাজুক হাসির ইমো দিয়ে বলল, ‘উহু, এখনো করিনি। যাচ্ছি এখন।’ আমি মনে মনে নিজেকে বুঝালাম, যে গরম পড়তেছে আজকাল! আমারই রাতবেরাতে গোসল করতে ইচ্ছা করে। অথবা হয়তো ওদের বাসায় পানি থাকে না দিনের বেলা, এজন্য কষ্ট করে এতো গভীর রাতে গোসল করা লাগতেছে। আহারে, বেচারী! . এতো গেল রাতের টেনশন৷ দিনেও আছে। আমার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ুয়া গার্লফ্রেন্ড, যে কিনা ‘ড্যাডিস প্রিন্সেস’ আর ‘মাম্মিস লিটল এঞ্জেল’, সে ...
লেখক রহস্য

লেখক রহস্য

Stories
লেখক: সালাউদ্দিন পল্লব (প লয়ে লয়ে ব) সকাল সাড়ে সাতটা। সারা রাত বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা গুলোর কোথাও পানি জমা, কোথাও কোথাও কাদা হয়ে।আছে।  মিরপুর সেকশন ৬ এ  রহস্য গল্প লেখক টুটুল  পারভেজ  সাহেবের বাসায় চারপাশে প্রচুর হট্টগোল। শ'খানেক উৎসুক মানুষ দাড়িয়ে আছে। দুটো পুলিশের গাড়িও আছে। আশেপাশের বিল্ডিংয়ের মানুষগুলোও কেউ জানালা, ব্যালকনীর গ্রীলের ফাঁক গলে পারভেজ সাহেবের একতলা বাড়ির ভেতরে কি ঘটেছে দেখার চেষ্টা করছে। সেন্ট্রি টাইপ ক'জন পুলিশ সদস্য বারবার বাশি বাজিয়ে উৎসুক মানুষ গুলোকে সরিয়ে দেয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের দুজন বড়কর্তা এসে ঢুকেছেন বাড়ির ভেতর। পারভেজ সাহেব ইদানিংকালের বেশ জনপ্রিয় একজন রহস্য লেখক। পুলিশের বড়কর্তা দুজন বাড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে এলেন। তাদের গম্ভীর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভেতরে নিশ্চই কোন অঘটন ঘটেছে! তারা বারবার ওয়াকিট...