চীনা ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক - Mati News
Thursday, May 7

চীনা ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

মে ৭: গতকাল (বুধবার) বেইজিংয়ে সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠক করেছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ইরানের পরিকল্পনা তুলে ধরে আরাকচি বলেন, বাস্তবতা প্রমাণ করেছে যে সামরিক উপায়ে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। ইরান দৃঢ়ভাবে নিজ জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করবে এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে, যাতে একটি সার্বিক ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি সমাধান করা জরুরি। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত ৪টি প্রস্তাবের ভূয়সী প্রশংসা করে তেহরান। চীন সবসময় ইতিহাসের সঠিক দিকে অবস্থান নিয়ে গঠনমূলক মনোভাবের মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে চেষ্টা করে। ইরান চীনকে বিশ্বাস করে এবং যুদ্ধ অবসান ও শান্তিপূর্ণ আলোচনায় চীনের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করে, যাতে যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তার একটি নতুন কাঠামো গঠনে সমর্থন পাওয়া যায়।

আরাকচি আরও বলেন, চীন ইরানের সার্বিক কৌশলগত অংশীদার। ইরান দৃঢ়ভাবে একচীন নীতি অনুসরণ করে এবং চীনের কেন্দ্রীয় স্বার্থ রক্ষায় সমর্থন দেয়। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইরান বিভিন্ন পর্যায়ে আদান-প্রদান আরও ঘনিষ্ঠ করতে ইচ্ছুক, যাতে পারস্পরিক সহায়তায় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা গভীর করা যায়।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করেন ওয়াং ই। তিনি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিপূর্ণ আলোচনা বাস্তবায়নে চীন নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট সি’র ৪টি প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সমাজের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। বর্তমানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি যুদ্ধ থেকে শান্তিতে রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। সার্বিকভাবে যুদ্ধ অবসান অতি জরুরি, তাই আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পদক্ষেপকে চীন সমর্থন করে। হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সমাজের একটি অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়। চীন আশা করে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আন্তর্জাতিক সমাজের জোরালো আহ্বানে সাড়া দেবে। পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন না করার বিষয়ে ইরানের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে চীন। পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও এর উপকূলীয় দেশগুলোর ভাগ্য তাদের নিজেদের হাতেই রাখতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে এবং অভিন্ন স্বার্থ ও উন্নয়ন বাস্তবায়নে উপকূলীয় দেশগুলোর সাথে সংলাপ চালিয়ে যেতে ইরানকে উৎসাহ দেয় চীন।

ওয়াং ই আরও বলেন, চীন ইরানের এক বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদার। চীন ইরানের সাথে উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদান জোরদার করতে এবং বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা গভীর করতে ইচ্ছুক, যাতে চীন ও ইরানের সার্বিক কৌশলগত অংশীদারি সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

(সুবর্ণা/তৌহিদ/রুবি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *