সাকিব সিকান্দার
২১ বছর বয়সে লি থিংহুই প্রথমবারের মতো সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সফর করেন। ট্রেন থেকে নামার মুহূর্তেই মালভূমির সেই বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ তার মনে এমন ছাপ ফেলেছিল, যা আর কখনও মুছে যায়নি।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘তখনই মনে হয়েছিল, একদিন আমি আবার এখানে ফিরে এসে কাজ করব।‘
সেই ভাবনাই অল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবে রূপ নেয়। বর্তমানে ৩০ বছর বয়সী লি গত সাত বছর ধরে নাগছু শহরে কাজ করছেন। বিস্তীর্ণ প্রান্তর ও চীনের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত নগর এলাকাগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিচিত এই শহরে মূলত দুটি ঋতুই বিরাজ করে—একটি খুবই সংক্ষিপ্ত গ্রীষ্ম, এ সময়টিতেও মোটা শীতের জ্যাকেট পরতে হয়। আর আরেকটি দীর্ঘ ও তীব্র শীতকাল।
লি’র বাড়ি হ্যপেই প্রদেশে। ২০১৯ সালে তিনি ‘গো ওয়েস্ট’ কর্মসূচিতে যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের চীনের তুলনামূলক কম উন্নত পশ্চিমাঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার জন্য পাঠানো হয় এই উদ্যোগের মাধ্যমে। নির্ধারিত সেবাকাল শেষ হওয়ার পরও তিনি সেখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে চার হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় জীবনযাপন কখনোই সহজ নয়। এখানে গাছের সংখ্যা খুবই কম। আর কিছু এলাকায় এখনো গরমের জন্য ইয়াকের গোবর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বাতাসে অক্সিজেনের ঘাটতি লির স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। তিনি দীর্ঘমেয়াদি উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন এবং তার হৃদ্যন্ত্রও স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হয়ে গেছে। তবুও তিনি কখনোই এই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি।
লি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মনে হতো যেন গজদন্ত মিনারে বাস করছি। কিন্তু এখানে এসে আমি বাস্তব জীবনের সঙ্গে এবং মানুষের সঙ্গে সত্যিকারের সংযোগ খুঁজে পেয়েছি।’
বিগত কয়েক বছরে তিনি নগর পরিকল্পনা, জনসেবা, পরিবেশ পুনরুদ্ধারসহ নানা তৃণমূল পর্যায়ের কাজে যুক্ত ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে তিনি অস্বাস্থ্যকর শৌচাগারের পরিবর্তে ফ্ল্যাশ টয়লেট স্থাপনে সহায়তা করেছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে সরিষার ফুল ও পাইনগাছ রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন কর্মসূচিতেও অবদান রেখেছেন।
এ ছাড়া তিনি হস্তশিল্প থেকে শুরু করে কারিগরি মেরামতের কাজসহ মোট ২৯টি বিষয়ে কমিউনিটি দক্ষতা প্রতিযোগিতার আয়োজনেও সহায়তা করেছেন। এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কাজগুলো জাতীয় পর্যায়ের প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। স্থানীয় সরকারের সহায়তায় অনেক অংশগ্রহণকারী নিজস্ব ব্যবসা শুরু করে আয়ও বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০২৫ সালে তিংরি কাউন্টিতে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর তিনি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। পরাঘাত অব্যাহত থাকা এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মধ্যেও তিনি তাঁবু স্থাপন এবং দুর্গত মানুষের জন্য খাবার প্রস্তুতের কাজে অংশ নেন।
সিএমজি বাংলা




















