ফয়সল আবদুল্লাহ
চীনা তরুণ প্রজন্ম এখন উন্নতমানের কফি পানে আগ্রহী। তাদের কথা ভেবে দেশটিতে বড় হচ্ছে কফির বাজার। এবার সেই বাজারে নিজেদের আসন আরও শক্ত করতে চায় ব্রাজিলের কফি উৎপাদকরা। চীনের কথা ভেবে ব্রাজিলের খামারে চাষ হচ্ছে নতুন জাতের কফি। চীনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বাণিজ্যিক যোগাযোগও সহজ হচ্ছে।
গত বছর ব্রাজিলের কফির ফসল সংগ্রহ ছিল বেশ সফল। রেকর্ডের তৃতীয় বৃহত্তম কফির ফলন হয়েছে দেশটিতে। আগামী কয়েক মাসও দেশটির কফি চাষীরা তুলবেন নতুন ফসল।
দেশটির মোন্তে আলেগ্রে কফিস-এ কর্মরত চাষী হেলিও দে আলমেইদা লেইতে জানালেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে চীনা মানুষ চা পান করলেও গত কয়েক দশকে তারা কফি বেশি পরিমাণে পান করা শুরু করেছে। সম্প্রতি তারা উচ্চমানের কফির প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, তরুণদের মধ্যে ভোগের ধরনে পরিবর্তন এসেছে, যা এই বাজারকে বেশ সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। চীন এখন উচ্চমানের কফির জন্য বিশ্বের অন্যতম বড় সম্ভাবনাময় বাজার।
ডিসেম্বরে রোপণ করা নতুন একটি খেতে ‘কাতুকাই’ নামের একটি বিশেষ কফি জাত চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয় গবেষণা কেন্দ্রে উদ্ভাবিত এই হলুদ বীজের কফি উচ্চ চিনি উপাদানের জন্য পরিচিত। খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি প্রকৌশলী জানান, এখানে টেকসই কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যা কফি উৎপাদন ও জমির জন্য উপকারী।
খামারের ল্যাবরেটরি ও টেস্টিং রুমে বিশেষজ্ঞরা কফির মান নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নতুন ব্লেন্ড তৈরির কাজ করেন।
মোন্তে আলেগ্রে কফিস-এর কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার হোরগে হোসে জানালেন, ‘চীনা ভোক্তারা মানের ব্যাপারে খুবই সচেতন। তারা প্রাকৃতিকভাবে প্রক্রিয়াজাত কফি পছন্দ করেন, যার স্বাদ হবে ঘন, মিষ্টতা হবে বেশি এবং চকোলেট ও ক্যারামেলের মতো ফ্লেভার থাকে।’
চীনা বাজারে পৌঁছাতে ব্রাজিলিয়ান কফিকে অর্ধেক পৃথিবী পাড়ি দিতে হয়। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দীর্ঘ যাত্রাকে আরও দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ী করতে নতুন শিপিং রুট এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিএমজি




















