মার্চ ২১: সম্প্রতি ‘ইউরোপীয় ব্যবসা ম্যাগাজিন’-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, চীন-ইউরোপ রেলপথটি ভবিষ্যতের কোনো প্রকল্প নয়, কিংবা কোনো পরিকল্পনা নথিতে আটকে থাকা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের ধারণাও নয়—বরং এটি ইতোমধ্যেই বাস্তবায়িত একটি প্রকল্প। এটি চীনের ১২৮টি শহরকে যুক্ত করেছে এবং ইউরোপের ২৬টি দেশ ও অঞ্চলে পৌঁছেছে; চীনের উত্পাদনকেন্দ্র থেকে সরাসরি ইউরোপের গুদামজাতকরণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করেছে।

নিবন্ধে একটি পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চীন থেকে ইউরোপগামী সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগে। কিন্তু, চীন-ইউরোপ রেলপথে মাত্র ১২ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে, এতে প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় সাশ্রয় হয়। আকাশপথে পণ্য পরিবহন দ্রুততর হলেও, খরচ অনেক বেশি, এবং কেবল উচ্চমূল্যের, কম ওজনের পণ্যের ক্ষেত্রেই এটি কার্যকর। রেলপথ এই দুইয়ের মধ্যবর্তী অবস্থানে: যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে সময় সংবেদনশীল, সেখানে রেলপথের গতি সমুদ্রপথের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম; আবার যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে খরচ সংবেদনশীল, সেখানে রেলপথের মূল্য আকাশপথের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
নিবন্ধের বিশ্লেষণ অনুসারে, স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রশক্তিতে আধিপত্য বিস্তার ও একে টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর ছিল, যার মূল ধারণা ছিল: সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করলেই বিশ্ববাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু, চীন-ইউরোপ রেলপথ, অন্তত এশিয়া-ইউরোপীয় এই করিডোরে, সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছে। (আনন্দী/আলিম)



















