জনসমক্ষে এলেন চীনের শেনচৌ-২১ মহাকাশ অভিযানের তিন নভোচারী - Mati News
Thursday, August 6

জনসমক্ষে এলেন চীনের শেনচৌ-২১ মহাকাশ অভিযানের তিন নভোচারী

চীনের শেনচৌ-২১ মানববাহী মহাকাশ অভিযানের তিন নভোচারী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন। বুধবার বেইজিংয়ে এক আয়োজনে চলতি বছরের মে মাসে পৃথিবীতে ফেরার পর এটিই তাদের প্রথম জনসমক্ষে উপস্থিতি।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নভোচারী চ্যাং লু, উ ফেই এবং চ্যাং হোংচ্যাং বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছেন। তাদের পেশীশক্তি, সহনশক্তি এবং হৃদ্‌যন্ত্রের সক্ষমতা প্রায় উড্ডয়নের আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। তারা এখন পুনর্বাসন পর্যবেক্ষণ পর্বে রয়েছেন। চূড়ান্ত স্বাস্থ্য মূল্যায়নের পর তারা নিয়মিত প্রশিক্ষণে ফিরবেন।

শেনচৌ-২১-এর ক্রুরা ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর উৎক্ষেপণের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ মে পৃথিবীতে ফেরা পর্যন্ত মোট ২১০ দিন কক্ষপথে অবস্থান করেন। এটি চীনা নভোচারীদের একটানা মহাকাশে থাকার নতুন রেকর্ড।

এই অভিযানে তারা তিনবার মহাকাশে পদচারণা (স্পেসওয়াক) সম্পন্ন করেন এবং বিস্তৃত মহাকাশবিজ্ঞান গবেষণা পরিচালনা করেন। পাশাপাশি, চীনের মানববাহী মহাকাশ কর্মসূচির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কক্ষপথে জরুরি উদ্ধার অভিযানের সাক্ষী ও অংশগ্রহণকারী হন।

মিশন কমান্ডার চ্যাং লু বলেন, ‘আমাদের অবস্থানকালে চীনের মানববাহী মহাকাশ কর্মসূচির জরুরি সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা বাস্তব পরিস্থিতিতে সফলভাবে পরীক্ষিত হয়েছে। মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের আঘাত মোকাবিলা, কক্ষপথের সময়সূচি সমন্বয়, প্রত্যাবর্তনের মহাকাশযান পরিবর্তন এবং জরুরি উৎক্ষেপণ— সবকিছুই সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।‘

চ্যাং লু শেনচৌ-১৫ ও শেনচৌ-২১— এই দুটি অভিযানে মোট সাতবার স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে অভিজ্ঞ মহাকাশ পদচারী হিসেবে রেকর্ড গড়লেন।

উ ফেই জানান, তিনি আগে থিয়ানহ্য কোর মডিউল এবং ওয়েনথিয়ান গবেষণাগার মডিউলের উন্নয়নকাজে অংশ নিয়েছিলেন। তাই মহাকাশে তিনি যেসব যন্ত্র পরিচালনা করেছেন, সেগুলো আগে পৃথিবীতে পরীক্ষা করার অভিজ্ঞতা থাকায় তার কাছে সেগুলো পরিচিত মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে অর্জিত সব অভিজ্ঞতা আমাকে মহাকাশে নির্ভুলভাবে কাজ করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস ও স্থিরতা দিয়েছে।‘

পেলোড বিশেষজ্ঞ চ্যাং হোংচ্যাং অভিযানে অর্জিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশে প্রথমবারের মতো মাটিবিহীন পদ্ধতিতে চেরি টমেটো ও গমের সফল চাষ, মহাকাশে প্রথমবার ইঁদুরের বদ্ধচক্র প্রজনন এবং বর্ণালী প্রযুক্তি ও পানি-সার ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সফল যাচাই।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *