সাকিব সিকান্দার
আঞ্চলিক বিষয়ে বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ বাড়লেও দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট (আসিয়ান) কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এ মন্তব্য করেছেন।
২০১৬ সালের ১২ জুলাই ফিলিপাইনের একতরফা উদ্যোগে গঠিত একটি তথাকথিত সালিশি ট্রাইব্যুনাল দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামুদ্রিক দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে একটি রায় দেয়।
তথাকথিত দক্ষিণ চীন সাগর এই সালিশি রায়ের দশম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের নেতৃত্বে ১৪টি দেশ ট্রাইব্যুনালের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে।
চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে (সিজিটিএন) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ সিয়ারোনি রোফি বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে আসিয়ান কূটনৈতিক পন্থাকেই সমর্থন করে এবং চীনের সঙ্গে এ অঞ্চলের আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট-সিওসি) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়।
তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের সালিশি রায়ের বার্ষিকী উপলক্ষে ১৪টি দেশের দেওয়া ঘোষণাটি বিশ্লেষণ করলে এর মূল ভূমিকা পালনকারীদের চিহ্নিত করা যায়। এখানে ফিলিপাইনই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে এবং এটি তাদের নিজস্ব সার্বভৌম উদ্যোগ।
অন্যদিকে, আসিয়ানের অবস্থান স্পষ্ট—সদস্য দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য ও আচরণবিধিকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু ফিলিপাইন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ এবং জাপানের মতো বড় শক্তিগুলোকে সম্পৃক্ত করে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এদের বেশিরভাগই এ অঞ্চলের বাইরের দেশ। আসিয়ান বরাবরই এ ইস্যুকে আরও উসকে না দেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।‘
মুহাম্মদ সিয়ারোনি রোফি আরও বলেন, ‘ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক জোট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।’
‘এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে সংঘাতের কোনো স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হওয়া এড়াতে হবে। এর জন্য চীনের মতো প্রধান শক্তি, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি’, যোগ করেন তিনি।
সূত্র: সিএমজি




















