নদী ও নগর পরিবহন শাসন নিয়ে চীন-বাংলাদেশ উন্নয়ন ভাবনা বিনিময় - Mati News
Saturday, May 9

নদী ও নগর পরিবহন শাসন নিয়ে চীন-বাংলাদেশ উন্নয়ন ভাবনা বিনিময়

ঢাকা, ৯ মে, সিএমজি বাংলা : বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের দুটি অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ হলো নদী ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থা। এই দুই খাতের আধুনিকায়ন ও শাসনপদ্ধতি নিয়ে চীন ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘নদী ও নগর পরিবহন শাসন’ শীর্ষক এই সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং চীনের থোংচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা তাদের গবেষণালব্ধ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য সম্পদ এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার জন্য নদীগুলো প্রাণরেখা হিসেবে কাজ করে। সেমিনারে বক্তারা তিস্তা নদীর ব্যাপকভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের নদী শাসন ও নৌপথের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন বুয়েটের পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. সাব্বির মোস্তফা খান।

বুয়েটের পানি এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার এম. শাহজাহান মন্ডল নদী ব্যবস্থাপনায় চীন কীভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।

তিনি যৌথ গবেষণা ও বিনিয়োগ, চীনের শিল্প বর্জ্য শোধনে চীনের উন্নত প্রযুক্তি এবং চীনের পানি সুশাসনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেন।

এসআইআই এস-এর গবেষণা ফেলো ড. চু ইউনচিয়ে চীনের বড় বড় নদী শাসনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কীভাবে বাংলাদেশে প্রয়োগ করা যায়, তার একটি রূপরেখা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরগুলোর অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রাখতে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা অপরিহার্য। চীনের উন্নত রেল ট্রানজিট এবং স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম এই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. শহীদ মামুন বলেন, ঢাকার পরিবহন সমস্যা প্রযুক্তিগত সমস্যার চেয়েও বড় একটি সুশাসনের চ্যালেঞ্জ। টেকসই সমাধান পেতে হলে একটি ক্ষমতায়িত সমন্বয়কারী সংস্থা, কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ এবং নিজস্ব প্রকৌশল মানদণ্ড তৈরি করা অপরিহার্য।

চীনের প্রচলিত প্রবাদ, ‘সমৃদ্ধি চাইলে আগে রাস্তা গড়ো’—এই দর্শনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নগর পরিবহন ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন থোংচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হং শাওচি ।

তিনি বলেন, শাংহাই এবং ঢাকা—উভয়ই বিপুল জনঘনত্বের শহর। শাংহাই যদি গত ৩০ বছরে তার পরিবহন সমস্যার সমাধান করতে পারে, তবে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকার পক্ষেও তা সম্ভব। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

তিস্তাকে একটি বিধ্বংসী ও অস্থির নদী থেকে স্থিতিশীল ও আশীর্বাদে পরিণত করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হান খুন।

তিনি বলেন, প্রায় ২,০০০ বছরের পুরনো চীনা জল ব্যবস্থাপনা দর্শন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তিস্তা নদীর এই উন্নয়ন প্রকল্প সাজানো হয়েছে। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে একই প্রযুক্তি যমুনা নদীর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

সেমিনার শেষে সঞ্চালক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের কৃষি এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়ন একে অপরের পরিপূরক। চীনের কারিগরি দক্ষতা এবং বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

সিএমজি

C:\Users\USER\Desktop\4dd4ae0d-2ab8-4e85-9311-d0c917d1530f.jfif

C:\Users\USER\Desktop\2c873c40-c0cc-4334-8ad6-5f0dde54a206.jfif

C:\Users\USER\Desktop\2b9a7740-d6d5-4b89-90d7-92d32d9b02ac.jfif

C:\Users\USER\Desktop\6f986d53-0a04-4b0f-a452-dfe7255404a7.jfif

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *