সাকিব সিকান্দার
এপ্রিল ২১, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: দক্ষিণ চীনের কুয়াংতোং-হংকং-ম্যাকাও বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম হুয়ালং ওয়ান নিউক্লিয়ার পাওয়ার ইউনিট সোমবার তার বাণিজ্যিক অপারেশনে প্রবেশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, চায়না জেনারেল নিউক্লিয়ার পাওয়া গ্রুপের (সিজিএন) চালু করা ইউনিট-১ কুয়াংতোং থাইপিংলিং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রকল্পে ২৬টি বড় ধরনের নকশা সংক্রান্ত উন্নয়ন আনা হয়েছে। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে ভৌত অবকাঠামো এবং এর সমন্বিত ডিজিটাল সিস্টেমের নির্মাণকাজ সম্পন্ন ও হস্তান্তর করা হয়েছে।
আশা করা হচ্ছে, এই ইউনিট-১ থেকেই বছরে ৯০০ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় দশ লাখ বাসিন্দার বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যাবে।
সিজিএন হুইচৌ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রধান চাং কুওচিয়াং বলেন, ‘প্রকল্পটি চীনের কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে। এই পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎপাদন প্রায় ৮৪ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাবে যা কিনা প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বনভূমি গড়ে তোলার সমান। বর্তমানে ইউনিট-১ তার কর্মক্ষমতার সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি এর ১৬৮ ঘণ্টা ধরে পূর্ণ ক্ষমতায় একটানা পরিচালনার মূল্যায়নও শেষ হয়েছে। এসব পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইউনিটটির সকল প্যারামিটার স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রয়েছে।‘
থাইপিংলিং পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প তিনটি ধাপে ছয়টি হুয়ালং-১ ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই নির্মাণ প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে বছরে ৫৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘হুয়ালং ওয়ান’ চীনের অভ্যন্তরীণভাবে গড়ে তোলা তৃতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক চুল্লি। দেশের জ্বালানি মিশ্রণের উন্নতি সাধন এবং কার্বন বিষয়ে দুটো লক্ষ্য—২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ সর্বোচ্চ সীমায় নেওয়া ও ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনে এই প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে অত্যাবশ্যকীয় বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএমজি




















