বেইজিংয়ে সি চিন পিং এবং ভ্লাদিমির পুতিনের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন - Mati News
Wednesday, May 20

বেইজিংয়ে সি চিন পিং এবং ভ্লাদিমির পুতিনের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন

মে ২০: আজ (বুধবার) বিকেলে বেইজিংয়ে গণমহাভবনে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আনুষ্ঠানিক বৈঠকশেষে, এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হন।

প্রেসিডেন্ট সি বলেন, এটি ছিল প্রেসিডেন্ট পুতিনের ২৫তম চীন সফর, যা চীন-রাশিয়া সম্পর্কের উচ্চতা ও বিশেষত্ব তুলে ধরে। কিছুক্ষণ আগে আমি ও প্রেসিডেন্ট পুতিন গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ একটি বৈঠক করেছি এবং ধারাবাহিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কৌশলগত যোগাযোগ করেছি। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার এবং সুপ্রতিবেশীসূলভ বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা গভীরতর করাসংক্রান্ত একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিক সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সাক্ষী হয়েছি।

প্রেসিডেন্ট সি জের দিয়ে বলেন, চলতি বছর পালিত হচ্ছে চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩০তম বার্ষিকী। গত ৩০ বছরে, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক সুখ-দুঃখের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে, সময়ের সাথে সাথে এগিয়ে গেছে, এবং সম্পর্কের উচ্চতা ক্রমাগত উন্নীত হয়ে ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে, নতুন যুগের সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। এটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। চলতি বছর চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসূলভ বন্ধুত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী। বহু বছর ধরে, দুই দেশ এই চুক্তিতে নির্ধারিত ‘জোট নিরপেক্ষতা, সংঘর্ষ না-করা, ও তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে না থাকার’ নীতি কঠোরভাবে মেনে এসেছে, এবং সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সততা, এবং সহযোগিতাপূর্ণ বিজয়ের নীতি অনুসরণ করে চলেছে। এটি আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও সুবিচার রক্ষা করতে এবং নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও আমার যৌথ কৌশলগত দিকনির্দেশনায়, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক একটি নতুন সূচনায় পৌঁছেছে। উভয় পক্ষেরই শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা এবং যৌথ বিজয়ের সময়ের প্রবণতার সাথে তাল মিলিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চ মানের উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করা উচিত।

সি আরও বলেন, প্রথমত, উচ্চতর মানের রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করতে হবে এবং কৌশলগতভাবে একে অপরকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করতে হবে। রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা চীন-রাশিয়া সম্পর্কের সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং এটি চীন-রাশিয়া চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসূলভ বন্ধুত্ব চুক্তির উদ্দেশ্য ও মৌলিক নীতি; দ্বিতীয়ত, উচ্চতর মানের পারস্পরিক সুবিধাপূর্ণ সহযোগিতাকে শক্তিশালী করতে হবে এবং যৌথভাবে নিজ নিজ দেশের উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনে অগ্রসর হতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক সকল ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে এবং অনেক ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ টানা তৃতীয় বছরের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং এই বছরের প্রথম চার মাসে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; তৃতীয়ত, উচ্চতর মানের মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত আরও মজবুত করতে হবে; চতুর্থত, উচ্চতর মানের আন্তর্জাতিক সমন্বয় পরিচালনা করতে হবে এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারও সম্পন্ন করতে হবে।

এ সময় প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, বর্তমানে রাশিয়া-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশ সবসময় পারস্পরিক সম্মান, সমতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থনের চেতনা বজায় রেখে, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে ধারাবাহিকভাবে গভীরতর করছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া-চীন সম্পর্কের উন্নয়নের পেছনে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তি রয়েছে। দুই দেশের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনও এর ওপর প্রভাব ফেলে না। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন তিনি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা ঠিক করেছেন বলেও জানান পুতিন।

পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। রাশিয়া চীনের সঙ্গে একযোগে অংশীদারিত্ব ও সুপ্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব আরও জোরদার করবে; জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে; এবং উভয় দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সমন্বয় বজায় রাখবে, জাতিসংঘ সনদের নিয়ম ও নীতিমালা রক্ষা করবে, এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে বজায় রাখবে।(শিশির/আলিম/আকাশ)

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *