সি চিন পিং কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট জাপারভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন - Mati News
Wednesday, October 7

সি চিন পিং কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট জাপারভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন

কিরগিজস্তান সময় সোমবার সকালে, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ বিশকেকের হারমনি প্রাসাদে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিশকেকের শরতের আকাশ পরিষ্কার ও মনোরম। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী ফেং লি ইউয়ান গাড়িতে করে হারমনি প্রাসাদে পৌঁছালে, প্রেসিডেন্ট জাপারভ ও তাঁর স্ত্রী আইগুল জাপারোভা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

প্রেসিডেন্ট জাপারভ প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের জন্য স্বাগত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জাপারভের সঙ্গে মঞ্চে আরোহণ করেন। সামরিক ব্যান্ড চীন ও কিরগিজস্তানের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। দুই রাষ্ট্রপ্রধান গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং গার্ড অব অনারের মাঝ বরাবর এসে কিরগিজ ভাষায় গার্ড সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান, গার্ড সদস্যরা উত্তর দেন: “অগ্রসর! অগ্রসর!” দুই রাষ্ট্রপ্রধান সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে করমর্দন করেন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জাপারভের সঙ্গে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। দুই রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁদের স্ত্রীরা হারমনি প্রাসাদের মূল অংশে প্রবেশ করে দুই দেশের জাতীয় পতাকার সামনে যৌথ ছবি তোলেন।

স্বাগত সমারোহ শেষে দুই রাষ্ট্রপ্রধান বৈঠক করেন।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রথমে চীনা সরকার ও চীনা জনগণের পক্ষে কিরগিজস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু’পক্ষের যৌথ নেতৃত্বে চীন-কিরগিজস্তান সম্পর্ক দ্রুত গতিতে উন্নীত হয়েছে, সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হয়েছে, যা কার্যকরভাবে দুই দেশের উন্নয়নকে সহায়তা করেছে এবং সাধারণ জনগণের কল্যাণে এসেছে, পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বর্ধিত করেছে। চলতি বছর চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী এবং চীনের “পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার” উদ্বোধনী বছর। চীন চীনা বৈশিষ্ট্যের আধুনিকীকরণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী দেশ গঠন ও জাতীয় পুনর্জাগরণের মহান লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। কিরগিজস্তানও পূর্ণ শক্তিতে ‘২০৩০ সালের আগে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করছে। চীন কিরগিজস্তানের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়ন কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করতে, শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময় গভীর করতে এবং আরও বেশি বাস্তবমুখী ও অনুভূতিযোগ্য সহযোগিতার ফলাফল সৃষ্টি করতে প্রস্তুত, যাতে চীন-কিরগিজস্তান অভিন্ন ভবিষ্যৎ কমিউনিটি নির্মাণ আরও গভীর ও বাস্তবায়িত হয়।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জোর দেন যে, উচ্চ স্তরের রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও দৃঢ় পারস্পরিক সমর্থন চীন-কিরগিজস্তান সম্পর্কের সুস্থ ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। চীন কিরগিজস্তানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভূখন্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ় সমর্থন জানায় এবং কিরগিজস্তানের নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়াকে সমর্থন করে। চীন কিরগিজস্তানের সাথে উভয়ের মূল স্বার্থ জড়িত বিষয়ে দৃঢ় পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। চীন-কিরগিজস্তান চিরস্থায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর দুই দেশের চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব ও দৃঢ় পারস্পরিক সমর্থনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি প্রদান করবে।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন যে, চীন ও কিরগিজস্তানের উচিত দুই দেশের বাস্তবমুখী সহযোগিতা গভীর করা, দুই সরকারের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা পরিকল্পনা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা, বাণিজ্যপণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, ডিজিটাল বাণিজ্য ও ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের মতো নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা; চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান রেলপথ—এই আঞ্চলিক জনগণের উন্নয়নের আশা বহনকারী “পরিবহনের প্রধান ধমনী”—কে উচ্চমানের সাথে নির্মাণ করা, বন্দরের আধুনিকীকরণ সংস্কার বাস্তবায়ন করা, ব্যবস্থাপনা, মান ও নিয়মের মতো “নরম সংযোগ” গভীর করা; নবায়নযোগ্য শক্তি ও সম্পদ পুনর্ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রে আরও প্রতীকী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা, সবুজ খনিজ সহযোগিতা সংক্রান্ত নথি ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা এবং সমগ্র শিল্পচেইন সহযোগিতা পরিচালনা করা; “বেল্ট অ্যান্ড রোড” যৌথ পরীক্ষাগার ভালোভাবে নির্মাণ করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ অন্যান্য সহযোগিতা জোরদার করা, এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতাকে শক্তিশালী ও কার্যকরী করা; দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যাতায়াত আরও বাড়ানো, যুবক, গণমাধ্যম, পর্যটন, খেলাধুলা, চিকিত্সা ও স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতা জোরদার করা, এবং চীন-কিরগিজস্তান বন্ধুত্বের সামাজিক ও জনমতের ভিত্তি ক্রমাগত মজবুত করা।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন যে, চীন ও কিরগিজস্তানের উচিত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা, “তিনটি সন্ত্রাসী শক্তি”, মাদক পাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে যৌথভাবে মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে রক্ষা করা। চীন কিরগিজস্তানকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে আরও বড় ভূমিকা পালনে সমর্থন জানায় এবং কিরগিজস্তানের সাথে জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে, চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করতে, আধিপত্যবাদ ও শক্তির রাজনীতির বিরোধিতা করতে, প্রকৃত বহুপাক্ষিকবাদে অটল থাকতে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষা করতে এবং আরও ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গঠনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে চীন ও কিরগিজস্তানের উচিত থিয়ানচিন শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল বাস্তবায়নে সহায়তা করা, এই অঞ্চলের যৌথ উন্নয়ন প্রচার করা এবং শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার উন্নয়নকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

প্রেসিডেন্ট জাপারভ বলেন, কিরগিজস্তানের ৩৫তম স্বাধীনতা দিবসে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে আতিথেয়তা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছেন। এই সফর কিরগিজস্তান-চীনের গভীর বন্ধুত্ব ও উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থাকে আরও সুস্পষ্ট করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কিরগিজস্তান-চীন চিরস্থায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর দুই দেশের সম্পর্কের জন্য আরও বিস্তৃত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। কিরগিজস্তান ও চীন পার্শ্ববর্তী দেশ, প্রাচীন সিল্ক রোড দুই দেশকে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিরগিজস্তান-চীন নতুন যুগের সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। কিরগিজস্তান চীনের প্রতি কৃতজ্ঞ যে চীন কিরগিজস্তানের উন্নয়নের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিঃস্বার্থ সমর্থন ও সাহায্য প্রদান করেছে। কিরগিজস্তান চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী এবং ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্বোধনে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানায়। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীন যে অসাধারণ উন্নয়ন অর্জন করেছে তাতে তারা গভীরভাবে মুগ্ধ এবং চীনের শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ‘আমি আত্মনিবেদিত হয়ে জনগণকে কখনও হতাশ করব না’ এই দৃষ্টিভঙ্গি শিখতে আগ্রহী। চীন সর্বদা কিরগিজস্তানের বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকার দিক এবং কিরগিজস্তানের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার। কিরগিজস্তান দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি মেনে চলে এবং পারস্পরিক সম্মান, সাম্য ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে চীনের সাথে চিরস্থায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্ক গভীর করতে প্রস্তুত। কিরগিজস্তান চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, সবুজ অর্থনীতি, এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও যুবকদের মধ্যে আদান-প্রদান জোরদার করতে প্রস্তুত, এবং যৌথভাবে ‘তিনটি সন্ত্রাসী শক্তি’ মোকাবিলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা করতে প্রস্তুত। কিরগিজস্তান চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান রেলপথ নির্মাণকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত, যাতে এটি নতুন যুগের ‘ইস্পাত রেশমপথ’ এবং কিরগিজস্তান-চীন বন্ধুত্বের নতুন সেতুতে পরিণত হয়। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ সব দেশকে যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আরও ন্যায্য ও স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনে সহায়তা করে। কিরগিজস্তান চীনের সঙ্গে জাতিসংঘ, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, চীন-মধ্য এশিয়া প্রক্রিয়া এবং বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করতে প্রস্তুত, যাতে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে রক্ষা করা যায়।

প্রেসিডেন্ট জাপারভ কিরগিজ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে চীনের সিচাং জিরং-এ ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের জন্য গভীর সমবেদনা জানান। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকার দেশে ও বিদেশে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার, দুর্যোগপীড়িতদের স্থানান্তর ও পুনর্বাসন, আহতদের চিকিত্সা এবং গৌণ দুর্যোগ প্রতিরোধে পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করছে এবং নেপালকেও জরুরি সাহায্য প্রদান করেছে। চীনের দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্বাসনে সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

বৈঠকের পর দুই রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে “গণপ্রজাতন্ত্র চীন ও প্রজাতন্ত্র কিরগিজের মধ্যে নতুন যুগের সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বের উচ্চমানের উন্নয়ন সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা” এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের মধ্যে চিরস্থায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন এবং বিনিয়োগ, পরিবহন, শুল্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ শহর-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সংক্রান্ত নথি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন। সফরকালে উভয় পক্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, মানবিক ও গণমাধ্যম-সহ ২০টির বেশি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত নথি স্বাক্ষর করে।

ঐদিন দুপুরে প্রেসিডেন্ট জাপারভ ও জাপারোভা হারমনি প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ানের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন।

সাই ছি ও ওয়াং ই-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *