জানুয়ারি ১৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: দক্ষিণ চীনের হাইনান মুক্ত বাণিজ্য বন্দর (এফটিপি) অঞ্চলে বিশেষ শুল্ক নীতি কার্যকর হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা এবং শুল্কমুক্ত কেনাকাটায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত হাইনানে শুল্কমুক্ত পণ্যের বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ইউয়ান, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ে শুল্কমুক্ত দোকানে কেনাকাটা করেছেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ক্রেতা, যা আগের বছরের চেয়ে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
হাইখৌ প্রবেশ-প্রস্থান সীমান্ত পরিদর্শন স্টেশন জানিয়েছে, গত এক মাসে হাইনান বন্দরে ১ লাখ ৮৬ হাজার বিদেশি পর্যটক যাতায়াত করেছেন। এটি বছরওয়ারি হিসেবে ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। যাত্রীদের দ্রুত ও সহজ সেবা দিতে সীমান্ত কর্তৃপক্ষ প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন করেছে।

মার্কিন পর্যটক মার্ক বলেন, সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় এখন হাইনানে আসা অনেক সহজ হয়েছে। তিনি জানান, সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন সুবিধা উপভোগ করতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। একই কথা বলেছেন থাইল্যান্ডের পর্যটকরাও। ভিসা-মুক্ত সুবিধা থাকায় তাদের ভ্রমণ আরও সহজ হয়েছে বলে তারা জানান।
হাইনানে শুল্কমুক্ত কেনাকাটা এখন পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর নতুন নীতিতে শুল্কমুক্ত পণ্যের ধরন ৪৫টি থেকে বাড়িয়ে ৪৭টি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের জন্য কেনাকাটার সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে।
নতুন নীতির আওতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও কেনাকাটার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। যারা প্রস্থান রেকর্ডধারী, তারা বছরে সর্বোচ্চ ১৫টি ‘পিক–আপ’ পণ্য কিনতে পারবেন। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও কেনাকাটার আগ্রহ বেড়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য বন্দর হিসেবে হাইনান এফটিপিতে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে দ্বীপজুড়ে বিশেষ শুল্ক ব্যবস্থা চালু হয়। এর ফলে বিদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ হয়েছে, শূন্য-শুল্ক সুবিধা বেড়েছে এবং ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে হাইনান ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও কেনাকাটার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।




















