মাত্র ২০০ টাকায় আবাসন সুবিধা, তবুও কেন ফাঁকা থাকছে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার? - Mati News
Sunday, September 27

মাত্র ২০০ টাকায় আবাসন সুবিধা, তবুও কেন ফাঁকা থাকছে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার?

প্রবাসী সেবায় বিশেষ উদ্যোগ

  • প্রতিষ্ঠানের নাম: ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার
  • অবস্থান: বরুয়া, লঞ্জনীপাড়া, খিলক্ষেত, ঢাকা
  • উদ্বোধন: ১৮ মার্চ, ২০২২
  • আবাসন সক্ষমতা: ৫০ জন (৪০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী)
  • খরচ: প্রতি রাত ২০০ টাকা (বুকিং ফি ১০০ টাকা)

বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী কর্মী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসেন। আবার বিদেশ থেকে ফেরার পথেও অনেকে ঢাকায় সাময়িক অবস্থানের প্রয়োজন বোধ করেন। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের অভাবে তাদের অনেকেই বিমানবন্দরের টার্মিনালে রাত কাটান অথবা আশপাশের ব্যয়বহুল হোটেলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সুবিধার্থে সরকার খিলক্ষেতের বরুয়া এলাকায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার নির্মাণ করে।

২০২২ সালের ১৮ মার্চ যাত্রা শুরু করা এই সেন্টারটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে পরিচ্ছন্ন কক্ষ, নিরাপদ লাগেজ রাখার ব্যবস্থা, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, প্রাথমিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক নামাজের সুব্যবস্থা রয়েছে। মাত্র ১০০ টাকা ফি দিয়ে অনলাইনে বা সরাসরি সিট বুকিংয়ের সুযোগ থাকলেও উদ্বোধনের পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেন্টারটি অধিকাংশ সময় ফাঁকা পড়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে ৮৪ জন এবং জুলাই মাসে ৮০ জন প্রবাসী এখানে অবস্থান করেছেন। প্রতিদিন হাজার হাজার প্রবাসী যাতায়াত করলেও সেন্টারের এই ব্যবহার সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। প্রবাসীদের বড় একটি অংশের অভিযোগ, এই সেন্টারটির অস্তিত্ব বা এর সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে বিমানবন্দরের টার্মিনালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন অথবা হোটেলের উচ্চমূল্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান জানান, তারা নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন, তবে প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে সেন্টারের দূরত্ব এবং যাতায়াত ব্যবস্থা প্রবাসীদের অনাগ্রহের একটি বড় কারণ। বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে বিমানবন্দরের আশপাশের রাস্তায় ড্রেন ও নালা নির্মাণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি চলায় যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত ফ্রি বাস সার্ভিসটিও বর্তমানে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত ২৮ আগস্ট সৌদি আরব যাওয়ার পথে তিনি ২৪ ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরে চলে আসেন। কিন্তু টার্মিনালে বসার সুব্যবস্থা না থাকায় তাকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এমন কোনো সেন্টারের কথা তিনি আগে কখনো শোনেননি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মোজাম্মেল হক ফেসবুকের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে এই সেন্টারে অবস্থান করেছেন। তিনি বলেন, সেন্টারের পরিবেশ বেশ উন্নত, কিন্তু এর অবস্থান বিমানবন্দর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় অনেক প্রবাসী সেখানে যেতে আগ্রহী হন না। তার মতে, সেন্টারটি বিমানবন্দর সংলগ্ন হলে প্রবাসীরা এর শতভাগ সুফল পেতেন।

বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এই এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এই উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাস্তার কাজ শেষ হওয়া, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি এবং সেন্টারটি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমেই কেবল প্রবাসীদের এই স্বল্পমূল্যের আবাসন সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ এসব প্রবাসী কর্মীর জন্য মাত্র ২০০ টাকায় থাকা ও বিমানবন্দরে বিনা খরচে যাতায়াতের সুবিধা দিচ্ছে ‘ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিমানবন্দর থেকে সেন্টারে যাতায়াতে স্বাভাবিক সময়ে সড়কপথে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মীদের অস্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতেই এটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখানে ৪০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীসহ মোট ৫০ জন একসঙ্গে অবস্থান করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তহবিল পেলে বিনা খরচে সব প্রবাসীর লাশ দেশে আনা হবে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর থেকে অধিকাংশ সময় সেন্টারের ৯৯ শতাংশ শয্যাই ফাঁকা থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মৃত ভেবেছিল পরিবার, ২৫ বছরের প্রবাস ট্র্যাজেডির অবসান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *