আফরিন মিম
সবুজে সাজানোর আহ্বান নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানীতে চলছে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মেলায় এবার প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে চীনের নান্দনিক ফুল ও ফলের গাছ। কংক্রিটের এই শহরে এক টুকরো সবুজের খোঁজে দিনভর বৃষ্টির পরেও প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমাচ্ছেন বৃক্ষপ্রেমীরা।
পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত এই আয়োজনে এই মেলায় রয়েছে ১২০টি স্টল। এবারের মেলায় নার্সারিগুলো পসরা সাজিয়েছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং বাহারি সব আলংকারিক গাছের। বিশেষ করে নজর কাড়ছে দৃষ্টিনন্দন বনসাই, ছাদবাগানের জন্য উপযুক্ত বিভিন্ন জাতের রঙিন আম, মাটি ছাড়াই বেড়ে ওঠা এয়ার প্ল্যান্ট এবং পরিবেশবান্ধব নান্দনিক টবের কালেকশন।
তবে এখানে দেশীয় প্রজাতির পাশাপাশি মেলাকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে চীনা জাতের উদ্ভিদ। দেশীয় প্রজাতির পাশাপাশি এখানে মিলছে চীনা জাতের লিচু, নাশপাতি, পিচ, বরই, ড্রাগন ফল, বিভিন্ন অলংকারিক গাছ এবং বাহারি ফুলের চারা। উন্নত ফলন, আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ও সহজ পরিচর্যার কারণে এসব গাছের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা।
মোহাম্মদপুর থেকে আসা তাসনিম ফারজানা বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের দেশে চীনা জাতের গাছের প্রতি মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। এসব গাছ আমাদের দেশের মাটিতে খুব দ্রুত বাড়ে এবং অল্প দিনেই ফল দেয়। সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভালো ফলনের নিশ্চয়তা থাকায় মানুষ এগুলো লুফে নিচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে চীনের এই উন্নত জাতগুলো। ফলে ছাদবাগান ও ছোট পরিসরের বাগানপ্রেমীদের কাছে এগুলোর চাহিদা এখন আকাশচুম্বী।
ফয়সল নার্সারির বিক্রেতা জানান, “আমি এবার মেলায় এসেছি মূলত ছাদবাগানের জন্য বিশেষ কিছু খুঁজতে। এখানে এসে চীনা জাতের কিছু ফলের গাছ দেখলাম, যেগুলো আকারে ছোট কিন্তু ফলন খুব ভালো শুনলাম। বিশেষ করে ওদের নাশপাতি আর বাহারি ফুলের কালেকশনটা দারুণ। তাই কয়েকটা চারা কিনলাম।
এক ছাদের নিচে দেশি-বিদেশি গাছের এই মেলবন্ধন প্রকৃতিপ্রেমীদের দিচ্ছে নতুন অভিজ্ঞতা। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই মেলায় পরিবেশ সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি, চীন ও বাংলাদেশের এই সবুজ মৈত্রী ছাদবাগানীদের যোগাবে নতুন অনুপ্রেরণা এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
সূত্র: সিএমজি






















