গুরুতর রোগের চিকিৎসায় নতুন থেরাপি উদ্ভাবন চীনা গবেষকদের - Mati News
Thursday, March 19

গুরুতর রোগের চিকিৎসায় নতুন থেরাপি উদ্ভাবন চীনা গবেষকদের

মার্চ ১৯, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনা গবেষকরা একটি নতুন ও কার্যকর মাইটোকন্ড্রিয়া ক্যাপসুল ট্রান্সপ্লান্টেশন থেরাপি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সুস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নিরাপদ ও দক্ষভাবে কোষ ও টিস্যুর মধ্যে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। পারকিনসনসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের উপসর্গ কমাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা দেখাচ্ছে এই পদ্ধতি। বুধবার গবেষণাটির বিস্তারিত আন্তর্জাতিক জার্নাল সেল-এ প্রকাশিত হয়েছে।

মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের ভেতরে থাকা এমন অঙ্গাণু, যা শক্তি উৎপাদন করে। এটাকে কোষের ইঞ্জিনও বলা হয়। এই অঙ্গাণুর নিজস্ব জিনোম রয়েছে। মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনে মিউটেশন হলে গুরুতর জেনেটিক রোগ দেখা দিতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচ হাজারে একজনকে প্রভাবিত করে।

কুয়াংচৌ ইন্সস্টিটিউট অব বায়োমেডিসিন অ্যান্ড হেলথ এবং কুয়াংচৌ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা লাল রক্তকণিকার মেমব্রেন ভেসিকল ব্যবহার করে ‘ক্যাপসুল’ তৈরি করেন, যার ভেতরে সুস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া আবদ্ধ করা হয়। এই ক্যাপসুলের আকার এক মিলিমিটারের প্রায় এক হাজার ভাগের এক ভাগ।

ক্যাপসুলগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াকে সুরক্ষা দেয় এবং কোষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করে কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে সহায়তা করে। এরপর সেগুলো কোষের নিজস্ব মাইটোকন্ড্রিয়ার সঙ্গে মিশে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বজায় রাখে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে মাইটোকন্ড্রিয়া প্রবেশের হার ৫ শতাংশের কম হলেও নতুন এই থেরাপিতে প্রায় ৮০ শতাংশ কোষ সফলভাবে সুস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া গ্রহণ করেছে।

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো সুস্থ অঙ্গাণুকে সরাসরি চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করে রোগাক্রান্ত টিস্যু ও অঙ্গ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।

ফয়সল/জেনিফার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *