ফয়সল আবদুল্লাহ
জিন সম্পাদনার নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুতর বংশগত রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের কথা জানিয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। গবেষণাটি বুধবার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রান্সফিউশন-নির্ভর বেটা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পাঁচজন রোগী পরীক্ষামূলক থেরাপি সিএস-১০১ নেওয়ার পর আর মাসিক রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন পড়েনি। একবারের চিকিৎসা গ্রহণের পরই তারা নিয়মিত রক্ত নেওয়া বন্ধ করতে সক্ষম হন।
গবেষকরা বলেন, জিন সম্পাদনার মাধ্যমে রোগ নিরাময়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও প্রচলিত অনেক পদ্ধতিতে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাধারণত এসব পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট জিনকে সক্রিয় করে ভ্রূণকালীন হিমোগ্লোবিন উৎপাদন বাড়ানো হয়, যা রোগীর ত্রুটিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
তবে গবেষণার প্রধান লেখক ও কুয়াংসি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক লাই ইয়োংরং জানান, প্রচলিত প্রযুক্তিতে কখনও কখনও ডিএনএ ক্ষতি বা ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে।
এই ঝুঁকি কমাতে গবেষকরা ব্যবহার করেছেন ‘ট্রান্সফরমার বেস এডিটর’ নামের একটি নতুন প্রযুক্তি। এতে ডিএনএ-এর দ্বৈত সর্পিল গঠন না কেটে রোগীর স্টেম সেলে নির্দিষ্ট জিনগত বেস সরাসরি পরিবর্তন করা যায়।
গবেষকদের মতে, ডিএনএ না কাটার কারণে এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি অনেক কম। একই সঙ্গে এটি ভ্রূণকালীন হিমোগ্লোবিন উৎপাদন বাড়াতেও সাহায্য করে।
এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করে কুয়াংসি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাস্র্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল। সহযোগিতা করে শাংহাই টেক ইউনিভার্সিটি, ফুতান, ইউনিভার্সিটি এবং কারেক্ট সিকোয়েন্স থেরাপিউটিকস।
গবেষণায় দেখা গেছে, জিন সম্পাদিত কোষ শরীরে প্রবেশ করানোর গড়ে ১৬ দিনের মধ্যেই রোগীদের শরীরে নতুন কোষ কার্যকর হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। এক মাসের মধ্যে পাঁচজন রোগীরই রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করতে সক্ষম হন এবং তাদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকে।
পরীক্ষার প্রথম রোগী এখন পর্যন্ত ২৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো রক্ত সঞ্চালন ছাড়াই জীবনযাপন করছেন।
এ রোগের প্রচলিত চিকিৎসা হলো বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন। তবে এতে উপযুক্ত দাতা পাওয়া কঠিন এবং কখনও ‘গ্রাফট ভার্সেস হোস্ট ডিজিজ’ নামের জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেখানে নতুন কোষ রোগীর শরীরের ওপর আক্রমণ করে।
নতুন থেরাপি সিএস-১০১ রোগীর নিজের স্টেম সেল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। ফলে আলাদা দাতার প্রয়োজন হয় না।
অধ্যাপক লি ইয়ংরং বলেন, থ্যালাসেমিয়া নিয়ে চীনের গবেষণা প্রথমবারের মতো নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে যে চীনের নিজস্ব জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি বিশ্বমানের এবং ভবিষ্যতে এটি বৈশ্বিকভাবে অন্যতম কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: সিএমজি





















