ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা (টিসিএম) থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক থেরাপি—সব মিলিয়ে বিদেশি রোগীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে এখন উঠে আসছে চীনের নাম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীনা মূলভূখণ্ডের ৫৭টি শহরের প্রায় ৮৫০টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বিদেশি রোগীদের সেবা দিচ্ছে।
রাশিয়ার নাগরিক নিকোলাস দীর্ঘ পাঁচ বছর আর্থ্রাইটিসে ভুগছিলেন। ইউরোপ ও রাশিয়ায় চিকিৎসা করে উপশম না পেয়ে তিনি চীনের হাইনান প্রদেশে আসেন। সানইয়া টিসিএম হাসপাতালে মাত্র দুই সপ্তাহের ফিজিওথেরাপির পর তার অবস্থার উন্নতি হয়। তিনি বলেন, হাইনানের উষ্ণ আবহাওয়া ও টিসিএম একসঙ্গে তার ব্যথা কমাতে ভূমিকা রেখেছে।
সানইয়া টিসিএম হাসপাতালের উপপরিচালক ইউয়ান আইলিন জানান, বর্তমানে সেখানে প্রায় ১০০ জন বিদেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালটি ৪০টির বেশি দেশের এক লাখেরও বেশি বিদেশি রোগীকে সেবা দিয়েছে।

অনেক আন্তর্জাতিক রোগী দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনায় টিসিএম-এর ভিন্নধর্মী পদ্ধতির জন্য চীনকে বেছে নিচ্ছেন। বেইজিংয়ের পিকিং ইউনিয়ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিসিএম বিভাগের পরিচালক উ ছুনলি জানান, বিপাকজনিত সমস্যায় ভোগা অনেক বিদেশি রোগী ভেষজ চিকিৎসা ও আকুপাংচারের জন্য চীনে আসেন।
একই সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতেও চীন আগ্রহের কেন্দ্র। জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, কিছু নির্দিষ্ট চিকিৎসা ক্ষেত্রে চীনের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে, এবং তুলনামূলক কম খরচে প্রোটন থেরাপি ও টার্গেটেড ক্যানসার চিকিৎসা পাওয়া যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলিম্পিক দলনেতা অস্কার চালুপস্কি এখন সিএআর-টি থেরাপি নিচ্ছেন শাংহাইয়ের রুইচিন হাসপাতালে। অন্য দেশগুলোতে তার রোগকে প্রায় নিরাময় অযোগ্য বলা হলেও চীনে তিনি নতুন আশার আলো দেখছেন।
যুক্তরাজ্যের নাগরিক অ্যামি ১৩ দিনে চীনে এসে তার যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শেষ করতে পেরেছেন। তার মতে, নিজের দেশে এ চিকিৎসায় তাকে আরও অনেক দিন অপেক্ষা করতে হতো।
চীনের মেডিকেল ট্যুরিজম খাতেও এসেছে গতি। হাইনানের বোআও লেছেং আন্তর্জাতিক মেডিকেল ট্যুরিজম পাইলট জোন ২০২৫ সালে ৮ লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি চিকিৎসা-ভিজিট নথিভুক্ত করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০৯ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি রোগীদের জন্য ভাষার সেবা, সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা ও ব্যবহারবান্ধব প্ল্যাটফর্ম আরও উন্নত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীনের চিকিৎসা সেবার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: সিএমজি




















