জুলাই আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে তিন সাংবাদিককে ট্রাইব্যুনালে হাজিরার নির্দেশ - Mati News
Wednesday, October 21

জুলাই আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে তিন সাংবাদিককে ট্রাইব্যুনালে হাজিরার নির্দেশ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনবিরোধী বক্তব্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তিন সাংবাদিক—শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে আসামি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এই তিন সাংবাদিককে আগামী ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। আদালতে হাজির করার পর তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হবে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তিন সাংবাদিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে ‘রাজাকার’ শব্দটি ব্যবহার করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং ওই রাতেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা বয়ান বা ‘কাউন্টার-ন্যারেটিভ’ তৈরি ও প্রচারে এই তিন সাংবাদিক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তৎকালীন সময়ে মোজাম্মেল হক বাবু একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং ফারজানা রুপা একই টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া শ্যামল দত্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন সাংবাদিক ও লেখকসহ নানা পেশার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পৃথকভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এদিকে, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা কেবল জুলাই আন্দোলনের মামলাতেই নয়, বরং ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায়ও বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল ও তদন্ত সংস্থা তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *