ডিম নিয়ে এলাহিকাণ্ড - Mati News
Saturday, April 11

ডিম নিয়ে এলাহিকাণ্ড

 মোঃ আশতাব হোসেন 

ঝুমুর মিয়া অনেকটাই অলস, তার মধ্যে সবেমাত্র  বিয়ে করে নতুন বধূ ঘরে এনেছে । বউকেও তেমন কিছু দিতে পারে না। যা দরকার ঝুমুর মিয়ার বাবাই কিনে দেয় বউকে। সবারই একান্ত ব্যক্তিগত কিছুর দরকার হয়।  বউরাও স্বামীর কাছে কিছু আশা করে।  কিন্তু ঝুমুর মিয়ার কিছু দেওয়ার সাধ্য নেই। বাবার ঘাড়ে খায় এটাইতো বেশী। এসব দেখে  বউ একদিন ভাবে বাবা-মা কেমন অলস জামাই দেখে বিয়ে দিয়েছে! সে কিছুই কিনে দিতে পারে না! এর পর ঝুমুর মিয়াকে বলে এই শোনো, এমন করে বসে থাকলে ভবিষ্যৎ জীবন চলবে কেমনে?  কিছু একটা তো করো। ঝুমুর বলে কি আর করব!  আমার কাছেতো কোনো টাকা পয়সা নেই। বউ বলে আচ্ছা  আমার কাছে কিছু টাকা আছে সেটা দিয়ে ডিমের ব্যবসা করবে। গ্রাম থেকে ডিম কিনে তা বাজারে বিক্রি করবে।  বাজারেতো ডিমের হালি ৪০ টাকা, আর গ্রাম থেকে কিনতে পারবে ৩০টাকা। 

A vibrant, comic-style illustration of a chaotic scene on a rural village path. A young man in traditional attire jumps in shock from a small green frog at his feet, causing a large basket of eggs to fall from his head and shatter on the ground. The mess has caused a milkman to slip and spill his milk containers, while several clay pots lie broken nearby. Surrounding villagers point and scold him with angry and shocked expressions amidst the "egg fiasco."

তুমি এই ব্যবসাটা করলে মাস শেষে অনেক টাকা মুনাফা হবে। তা দিয়ে আমা  কসমেটিকের টাকা এবং তোমার হাত খরচের টাকাও হবে। ঝুমুর মিয়া বলে ঠিক আছে কালকেই শুরু করব। পরের দিন বউ কিছু টাকা বের করে দিলে ঝুমুর মিয়া গ্রামে গ্রামে ডিম কিনতে থাকে। গ্রামে হাঁস মুরগীর ডিমের দাম প্রায় সমান । কিন্তু বাজারে হাঁসের ডিমের দাম বেশী থাকে। ছোট ছোট বাচ্চাদের আবদার পুরতে তাদের মা হিসাব না করেই কম দামে বিক্রি করে দেয়। বেশ সস্তা দামে ডিম কিনতে পেরে ঝুমুর মিয়া খুশি, অনেক টাকা আয় হবে বলে।  ঝুমুর মিয়া ডিম কিনে বাড়ি গিয়ে বউকে বলে আজ সস্তায় অনেক ডিম পেয়েছি । বউ জলদি করে ঝুমুর মিয়াকে খাবার দেয়। খাবার খেয়ে ঝুমুর বলে ডিম বিক্রি করে আজই তোমার জন্য উন্নত মানের কিছু কসমেটিকস কিনে আনবনে। বউও খুব খুশি হয়ে বলে জলদি করে বাজারে যাও তাহলে। ঝুমুর তার এক বন্ধুর সাথে সেই ডিমের খাচি মাথায় নিয়ে বাজারের দিকে রওনা দেয়। পথে তার বন্ধুর সাথেও  জমিয়ে গল্প শুরু করে। আজই ডিম বিক্রি করে লাভের টাকা দিয়ে বউয়ের জন্য কসমেটিকস কিনে আনব। তার বন্ধু  উৎসাহিত করে চলছে। দুজনে গল্পের সাগরে ডুবে গেছে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ ঝুমুর মিয়ার পায়ের নিচে এক ব্যাঙ পরলে চমকে উঠে ঝুমুর মিয়া। এক লাফ দিতেই ডিমের খাচি পড়ে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়! সেই ভাঙ্গা ডিমগুলোর উপর পিছলে পড়ে এক পাল মাটির হাঁড়ি পাতিল ভেঙ্গে ফেলে!  এক গোয়ালও দুধের ভার নিয়ে যেতে সেও চিৎপটাং হয়ে সব দুধ ফেলে দেয়। এর পর শুরু হয় বকাবকির ঝড়! এদিকে ঝুমুর মিয়া মন খারাপ করে বাড়ি যায়।বাড়ি যাওয়ার সাথেই বউ জিগ্যেস করে কি গো পথেই বুঝি ডিম বিক্রি হয়েছে? ঝুমুর বলে হ্যাঁ, ঘোড়ার ডিম হয়েছে!  ব্যাঙ লাথি মেরে ফেলে দিলে সব ভেঙ্গে গেছে। এখন সেই ভাঙ্গা ডিমের উপর দিয়ে এলাহি কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে! 

এখন আবার পুলিশ ধরে নিয়ে ডিম থেরাপি দেয় কিনা সেই চিন্তায় আছি!

স্থায়ী ঠিকানা :

গ্রাম : ইসলামাবাদ 

ডাক ঘর : বলদিয়া 

উপজেলা : ভূরুঙ্গামারী 

জেলা: কুড়িগ্রাম। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *