গল্প Archives - Mati News
Thursday, April 16

Tag: গল্প

প্রায়শ্চিত্ত : গল্প

প্রায়শ্চিত্ত : গল্প

Stories
টি এইচ মাহির গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছি।খুব তাড়া আছে। তাড়াহুড়ো করে বাসা থেকে বের হলাম। একটা জরুরী মিটিং আছে।বাসা থেকে প্রথমে সি‌এনজি নিয়ে যেতে হবে কদমপুর। তারপর টেম্পুতে করে যাবো সিকদারহাট। সিকদারহাটে জরুরি প্রেস মিটিং। সকাল দশটায় ফোন দিয়ে জানালো হাসান ভাই।না জানি কিসের মিটিং। ভাবতে ভাবতে পকেটে হাত দিয়ে দেখি আসার সময় পকেটে শুধু একটা বিশ টাকার নোট নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন তো আর আবার বাসায় যাওয়া যাবে না। এদিকে একটা সিএনজি ও এসে গেছে। যাইহোক সিএনজিতে উঠে পড়লাম।পথের দু'পাশের ধানক্ষেতের সবুজ দৃশ্য দেখতে দেখতে কদমপুর পৌঁছালাম।দশটাকা সিএনজি ভাড়া। পকেট থেকে বিশটাকার নোটটা ড্রাইভারকে দিলাম। দুটো পাঁচ টাকার নোট ফেরত দিলো ড্রাইভার। পকেটে পুরে তাড়াতাড়ি টেম্পুর জন্য র‌ওনা দিলাম। সিকদারহাট যেতে হবে। এদিকে হাসান ভাই কলের পর কল দিচ্ছেন।কল ধরে আশ্বস্ত করলাম আমি টেম্পুতে। সিকদারহ...
মং ও রঙিন পাখি

মং ও রঙিন পাখি

Stories
নীহার মোশারফ পাহাড়ের পাদদেশে সারে সারে ঘর। বাঁশ দিয়ে তৈরি। কী সুন্দর কারুকাজ! ঘরের সামনে উঠোন। উঠোনের পাশে ছোট্ট একটি বাগান। বাগানে কত রঙের ফুল। অন্যপাশে নলখাগড়ার বন। অপরূপ ঝরনাধারা। ঝরনার পানি দেখতে স্বচ্ছ। পানিতে ছোট ছোট পাথর। পাহাড়িরা সেই পানিতে গোসল করে। কেউ কেউ ঘরের কাজে নিয়ে যায় পানি। বাগানে অনেক পাখি। প্রজাপতি। ঘর থেকে মং পাখি ও প্রজাপতি দেখে। মাচান ঘরের জানলা দিয়ে পাহাড়ঘেঁষা নীল আকাশও দেখে। মং পাখি দেখে আর হাসে। মা মংকে মুড়ি-মুড়কি খেতে দেয়। মং তা না খেয়ে পাখিদের জন্য নিয়ে যায়। পাখিরা খাবার খুঁটে খুঁটে খায়। খাওয়া শেষে কিচিরমিচির করে। ওড়াউড়ি করে। এক ডাল থেকে অন্য ডালে যায়। পাখিসব মঙের কাছাকাছি থাকে। খুব ভালোবাসে ওকে। পাখিসব মঙের জন্য ঠোঁটে করে দূর থেকে কত্তকিছু নিয়ে আসে। আকাশের নীল, রংধনুর রং, নানা স্বাদের ফল, ঘাসপাতা, বিস্কুট, খেলনাসহ আরও কত কী! মং স্কুলে যায়...
ডিম নিয়ে এলাহিকাণ্ড

ডিম নিয়ে এলাহিকাণ্ড

Stories
 মোঃ আশতাব হোসেন  ঝুমুর মিয়া অনেকটাই অলস, তার মধ্যে সবেমাত্র  বিয়ে করে নতুন বধূ ঘরে এনেছে । বউকেও তেমন কিছু দিতে পারে না। যা দরকার ঝুমুর মিয়ার বাবাই কিনে দেয় বউকে। সবারই একান্ত ব্যক্তিগত কিছুর দরকার হয়।  বউরাও স্বামীর কাছে কিছু আশা করে।  কিন্তু ঝুমুর মিয়ার কিছু দেওয়ার সাধ্য নেই। বাবার ঘাড়ে খায় এটাইতো বেশী। এসব দেখে  বউ একদিন ভাবে বাবা-মা কেমন অলস জামাই দেখে বিয়ে দিয়েছে! সে কিছুই কিনে দিতে পারে না! এর পর ঝুমুর মিয়াকে বলে এই শোনো, এমন করে বসে থাকলে ভবিষ্যৎ জীবন চলবে কেমনে?  কিছু একটা তো করো। ঝুমুর বলে কি আর করব!  আমার কাছেতো কোনো টাকা পয়সা নেই। বউ বলে আচ্ছা  আমার কাছে কিছু টাকা আছে সেটা দিয়ে ডিমের ব্যবসা করবে। গ্রাম থেকে ডিম কিনে তা বাজারে বিক্রি করবে।  বাজারেতো ডিমের হালি ৪০ টাকা, আর গ্রাম থেকে কিনতে পারবে ৩০টাকা।  তুমি এই...
মায়ের গল্প: অভাগিনী

মায়ের গল্প: অভাগিনী

Stories
কবির কাঞ্চন জীবনের ঘানি টানতে টানতে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষদের অন্যতম বিল্লুরাণী। একমাত্র ছেলে দীলিপের মুখে ''বাবা' শব্দটা ফোটবার আগেই তিনি স্বামীকে হারালেন।স্বামী হরিপদ ছিলেন একজন প্রান্তিক জেলে। মহাজনের নৌকায় বছরব্যাপী কর্মচারী ছিলেন। সংসার খরচ মেটানোর জন্য আগে আগে মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিতেন বলে অনেকটা গৃহপালিত কর্মচারীর মতো আচরণ করা হতো তার সাথে। সেবার একটানা আকাশের অবস্থা খারাপ ছিল। তারওপর হরিপদের শরীরের অবস্থাও খারাপ ছিল। সে নৌকায় না গিয়ে বাসায় থেকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে মহাজনের লোকজন এসে তাকে জোর করে কাজে নিয়ে যায়। যাবার বেলায় ছেলে দীলিপকে তিনি বলে গেলেন,  বাবা, ঠিকমতো লেখাপড়া করিস, তোকে অনেক বড় হতে হবে।এই কথাটাই ছিল শেষবারের মতো বাবার মুখে শোনা কথা। হরিপদরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে সমুদ্রে পাড়ি জমালেও আর ফিরে আসেনি। সেই থেকে অভাগিনীর ললাটে জুটেছে দিনে গার্মেন্টসে চাকরি ...
দেয়ালের ওপাশে

দেয়ালের ওপাশে

Stories
সাবিত রিজওয়ান তারা যেন প্রতিবেশী না, শত্রু। কেউ কারো ভালো চায় না। একই উঠান ভাগ করে থাকে, একই পথ দিয়ে হাঁটে, কিন্তু একে অপরের দিকে তাকালে চোখে শুধু কঠোরতা।  কবির এই উঠানে জন্মেছে। এই উঠানেই বড় হয়েছে। অথচ আজকাল তার নিজের বাড়িটাও তার কাছে অপরিচিত লাগে। পাশের বাড়ির আরশ, যার সঙ্গে একসময় একই গাছে উঠে আম পেড়েছে, আজ সে অদৃশ্য এক দেওয়ালের ওপাশের একজন মানুষ মাত্র।  সবকিছুর শুরু তিন হাত জমি থেকে।  আরশ আর তার মা বিশ্বাস করত, কবিরদের বাড়ির সীমানার ভেতরে তাদের তিন হাত জায়গা আছে। কতদিন আর নিজের জমি অন্যের দখলে থাকবে? এক সকালে তারা ইট এনে সীমানা গাঁথতে শুরু করল। প্রায় বিশটা ইট বসেও গেল। কবিরের বাবা এসে দাঁড়ালেন।“এইটা আমাদের জায়গা। আপনারা কেন এখানে দেয়াল তুলছেন?” আরশের মা বললেন,“এই জায়গা আমাদের। এতদিন চুপ ছিলাম, তাই বলে এটা আপনাদের হয়ে যায় না।” কথা বাড়ল। উত্তাপ বাড়ল। কিন...
বিরহ প্রেমের গল্প : তিন রেখা প্রেম : পর্ব ১

বিরহ প্রেমের গল্প : তিন রেখা প্রেম : পর্ব ১

Stories
লেখক: এআই চট্টোপাধ্যায় “তুমি আবার আমার জায়গায় বসেছ কেন?”সাদিয়ার কণ্ঠে বিরক্তি। মাহি চোখ তুলে তাকাল।“এই বেঞ্চে তোমার নাম লেখা আছে নাকি?” “আছে,” সাদিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, “আলম বসে এখানে। আমি তার পাশে বসি।” মাহি হেসে ফেলল।“আলম সবার বন্ধু। শুধু তোমার না।” দূরে দাঁড়িয়ে আলম আলমগীর সব শুনছিল। সে শুধু বলল,“এই এই, যুদ্ধ বন্ধ করো। দুজনেই আমার বন্ধু।” সাদিয়া মুখ ফিরিয়ে নিল।মাহিও চুপ করে গেল। ক্যাম্পাসে এই দৃশ্য নতুন না। সাদিয়া—শান্ত, গভীর চোখের মেয়ে। মাহি—চঞ্চল, সরাসরি কথা বলা। দুজনের একটাই মিল—মাহি আলমকে ভালোবাসে, আর সাদিয়াও। কিন্তু আলম?সে শুধু বন্ধু হিসেবেই জানে। একদিন ক্যান্টিনে— মাহি বলল,“তোমার সমস্যা কী আমার সাথে?” সাদিয়া শান্তভাবে জবাব দিল,“সমস্যা নেই। শুধু… তুমি আলমকে নিয়ে বেশি কথা বলো।” “কারণ আমি তাকে ভালোবাসি,” মাহি সোজাসাপ্টা বলল...
শেখ সাদী 

শেখ সাদী 

Stories
ওমর ফারুক (সভাকবি) একদা শেখ সাদী রাস্তা দিয়া হাটিয়া যাচ্ছিলেন।পথিমধ্যেই এক বাড়িতে বড় করিয়া ভোজের আয়োজন করা হইয়াছিল।শেখ সাদী তখন ক্ষুধার্ত ছিলেন।তাহার পরনে ছিলো ধুলায় মোড়ানো একটা জুব্বা আর ছিরা-ফাটা একজোড়া জুতা।এমতাবস্থায় তিনি বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করিলেন এবং অনুমতি লইয়া খাবার টেবিলে বসেছিলে।তাহার সামনে খাবার রাখা হইলো।তিনি খাওয়া আরম্ভ করিবেন তখনই বাড়িওয়ালা আসিয়া উপস্থিত হইলো।বলিল,কে এই ভিখারি?গর্দান ধরিয়া ওকে বাহির করিয়া দাও।সবাই তাহাকে বাহির করিয়া দিলো।সাদী বলিল,আমি ভিখারি নহে;বাড়িওয়ালা বলিল,কে তুই? তোর পোশাকেই তো বুঝা যায় তুই অধম ভিখারী। মন খারাপ করিয়া চলিয়া আসিলেন। বছর শেষে আবার ওই বাড়িতে উৎসবের ঘন্টা বাজিয়া গিয়াছে।এইবার শেখ সাদীও দাওয়াত পাইয়াছেন।তিনি তার সবচেয়ে দামি পোশাকে পরিয়া বাড়িতে হাজির।সবাই তাহাকে দেখিতে ভিড় করিল। যথেষ্ট আপ্যায়ন করিলো।খাব...
আত্মার বন্ধন : রোমান্টিক গল্প

আত্মার বন্ধন : রোমান্টিক গল্প

Stories
রাহেলা আক্তার  অবনী থার্ড ইয়ারের ছাত্রী। সামনে ফাইনাল এক্সাম। ভীষণ চিন্তায় ভুগছেন। একমাত্র ভাই এবার এস এস সি এক্সাম দিবে। ছোট বোন ক্লাস এইটে পড়ে। তিন ভাই বোনের মাঝে অবনীই বড়। অবনীর "মা" নীলিমা চৌধুরী আজ দশ বছর ব্রেস্ট ক্যান্সারে ভুগছেন। প্রথম চার বছর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও বছর খানেক পরে আবার দেখা দেয়। এবার ফারমেন্ট চট্টগ্রাম মেরিন সিটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিন মাস পরপর কেমোথেরাপি চলে, থেরাপি দিতে দিতে নীলিমা চৌধুরীর চুল প্রায় উঠে গেছে, পশম খসে পড়তেছে। অবনী রাতদিন হাসপাতালে মায়ের সেবা করে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে মায়ের শারীরিক অবস্থা একটু ভালো দেখা দিলে মাকে নিয়ে হাসপাতালের পাশেই অবনীর আন্টিদের বাসায় বেড়াতে নেন। অবনীর বাবা আদনান চৌধুরী নিউইয়র্ক থাকেন। স্ত্রী অসুস্থ হবার পর থেকে তিনি তেমন দেশে ফিরেন না। চিকিৎসা বাবদ কিঞ্চিৎ খরচ দেন। অবনীর নানার বাড়ি থেকেই বেশির ভাগ খ...
কাছে আসার গল্পটা এমনও হতে পারে

কাছে আসার গল্পটা এমনও হতে পারে

Stories
সাবরিনা তাহ্সিন  রাতের অন্ধকারে, ঘুমের ভেতর একটি অদ্ভুত ঘটনা যেন জীবন্ত হয়ে উঠল। স্বপ্নের শুরুটা ছিলো হঠাৎ একটি বড়সড় এক্সিডেন্ট দিয়ে। রাগে ভরা মনে বাসা থেকে বেরিয়েছিলাম, দিগ্বিদিকশূন্যভাবে হাঁটছিলাম। কখন যেন রাস্তার মাঝখানে চলে এলাম, আর সেই মুহূর্তে মোটরবাইক ও প্রাইভেট কারের ত্রিমুখী সংঘর্ষ—সবকিছু একসাথে থমকে গেল। মোটরবাইক চালক আহত হলো, আর আমার অবস্থা গুরুতর। সবাই দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছালো। প্রাইভেট কারের লোকেরা ভেবেছিল অনিক এবং আমি সম্পর্কিত, তাই তারা অনিকের পরিবারকে খবর দিল। অনিকের মা, ভাই, ভাবী এবং বড় বোন হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালে এলেন। “হ্যাঁ রে, তুই ঠিক আছিস? কোথায় লেগেছে?”—মায়ের কণ্ঠে উদ্বেগ। “মা, আমি ঠিক আছি। মাথায় একটু আঘাত পেয়েছি। চিন্তা করো না।” অনিক শান্ত স্বরে বলল। হঠাৎ তার স্মৃতিতে ভেসে উঠল, “সে ঠিক আছে তো? তার কিছু হয় নি তো?” অনিকের মা অবাক হয়ে জিজ্ঞ...
হৃদয়ের যত্ন নিও

হৃদয়ের যত্ন নিও

Stories
জলের অভাবে মরতে বসা ছাদের ফুল গাছটার মতো একটু নিজের হৃদয়ের যত্ন নিও। আব্বার পাঞ্জাবির পকেট গলিয়ে পড়া খুঁচরা পঁয়শা তুলে মাটির ব্যাংকে সঞ্চয় করার মতো বুকের ভিতরে অনুভূতি সঞ্চয় করো। মায়ের যে দুঃখ আছে সে দুঃখ যেমন বিশ্বাস করো তেমন করে বিশ্বাস করো চিরকাল কেউ কাঙাল থাকে না। সবার একখান মানুষ হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর খুনির শুষ্ক ঠোঁটেও কোনএক নারী কাঁপা কাঁপা আবেগ নিয়ে চুমু খায়, রাতের রানী নিশিকন্যাকেও দারুণ প্রেম নিয়ে জড়িয়ে ধরে কোন এক যুবক। মনের দরজায় তুমি যে তালা লাগিয়েছো, তোমার চারপাশে তৈরী করেছে যে অভিমানের দেওয়াল, অনেকদিন খুলোনি বলে মাকড়সা ছোটোখাটো একটা সংসার পেতে বসেছে যে জানালায়। ওই দরজার সামনে কেউ একজন বিশ্বাস নিয়ে কড়া নাড়বে, ওই দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে হু-হু করে ঢুকে যাবে তোমার মনের এফোঁড়ওফোঁড় প্রেম নিয়ে, ওই জানালা খুলে তোমাকে দেখাবে নতুন ভোর। একদ...
শুধু কিছু ঘনিষ্ট মুহূর্ত জলজ্যান্ত গোপন ইতিহাস হয়ে থেকে যায় দুটো মানুষের ভেতর

শুধু কিছু ঘনিষ্ট মুহূর্ত জলজ্যান্ত গোপন ইতিহাস হয়ে থেকে যায় দুটো মানুষের ভেতর

Stories
দুদিনের আলাপে কাউকে পুরোপুরি না জেনে তার সাথে শারীরিক ভাবে মিলিত হয়েছেন? একটা মানুষকে না জেনেশুনে তার সাথে খুব ঘনিষ্ট হয়েছেন? সাতপাঁচ না ভেবে কারোর সাথে কয়েক মুহূর্তের জন্য জড়িয়ে পড়েছেন? প্রায় প্রতিটা মানুষের জীবনে কোনো না কোনো সময়ে এমন কেউ না কেউ আসে, যার কথা বলার ধরণ, হাসি, হাঁটাচলার স্টাইল, ব্যবহার, ব্যক্তিত্ব আমাদের মুগ্ধ করে... আমরা খুব কম সময়ের মধ্যেই মানুষটার ভেতর এমনভাবেই ডুবে যাই, যে আমরা আমাদের বাস্তব সম্পর্কগুলোকে, বাস্তব জীবনটাকে, বাস্তব পরিস্থিতিটাকে, সবকিছুকে অস্বীকার করে সেই মানুষটার পায়ের সাথে পা মিলিয়ে হাঁটতে চাই, হাতে হাত ধরে ইশারায় বলতে চাই, "একটা দিন শুধু তোর আর আমার নামে লেখা থাক প্লিজ'" এতটাই সেই মানুষটার সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে যাই জাস্ট দুদিনের আলাপে যে নিজের সমস্ত আবেগ, নিজের সমস্ত ফিলিংসের উপর আর কোনো কন্ট্রোল থাকে না.... মনে হয়, এই মানুষট...
তুমি আকাশ ছুঁয়ে আছো

তুমি আকাশ ছুঁয়ে আছো

Stories
অ.কে.এম. নাজমুল আলম  পাহাড়ি ঢালে বসে আকাশের দিকে চেয়ে ছিলো মেয়েটি। নাম তার তৃষা। রাঙামাটির অদূরে, একটি ছোট্ট গ্রামে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই পাহাড়, মেঘ, পাখির ডাক আর অদ্ভুত এক নিঃসঙ্গতা তার নিত্যসঙ্গী। তবে তৃষার চোখে ছিল স্বপ্ন—যে স্বপ্ন শুধু পাহাড় ছুঁয়ে নয়, তার চেয়ে অনেক ওপরে। তৃষার জীবনটা ছিল সহজ নয়। মা নেই, বাবা একজন কাঠুরে। স্কুলে যেতে যেতে কাঠ বহন করে আনার অভ্যাসও তার ছিল। তবুও সে ক্লাসে প্রথম হতো। শিক্ষকরা বলতেন, “তৃষা একদিন বড় কিছু করবে।” এক বর্ষার দুপুরে শহর থেকে এক যুবক এল পাহাড় দেখতে, নাম সফল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র, গবেষণার কাজে এসেছে। তৃষাকে সে প্রথম দেখে গ্রাম্য স্কুলে ক্লাস নিতে, বাচ্চাদের শেখাতে। কাঁধে খোলা চুল, চোখে পাহাড়ের ভাষা—তৃষাকে দেখে সফল থেমে যায়। শুধু একটিই বাক্য বলে, “তুমি কি সবসময় এভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে থ...
শেষ ট্রেনের অপেক্ষা

শেষ ট্রেনের অপেক্ষা

Stories
মামুন সরকার কমলাপুর স্টেশন। রাত প্রায় ১১টা। মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের বাতিগুলো হলদে পাতার মত ঝাপসা। ক্ষণে ক্ষণে বৈরী বাতাসে বৃষ্টির ছাঁট এসে যাত্রীদের গায়ে লাগছে। প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য মানুষের আনাগোনা।  এদিক সেদিক দৌড় ছুট করছে। কিছু তরুণ যুবা দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে উঠানামা করছে।আবার কেউ কেউ দাঁড়িয়ে ভ্রাম্যমান টোকাইয়ের কাছ থেকে চা সিগারেট পান করছে। গরম চায়ের ধোঁয়া আর সিগারেটের গন্ধ মিলেমিশে অদ্ভুত একটা পরিবেশ। ভেজা রেললাইন ঝিকমিক করছে ট্রেনের হেডলাইটের আলোয়। একটা ট্রেন ধীর লয়ে  ঢুকে চার নম্বর প্লাটফর্মে, আরেকটা ছেড়ে যায় ছয় নম্বর থেকে।রুদ্র দাঁড়িয়ে আছে প্লাটফর্মের পিলার ঘেষে এক কোণে। তার ট্রেন রাত বারোটায়। রুদ্র যাবে রাজশাহী। হাতের  ব্যাগটা পায়ের কাছে রেখে চারদিকে চোখ ঘোরায়, একহাতে ধরা পুরনো মুঠোফোন। শরীরে পালস ধীরে চললেও বুকের ভ...
এক কিশোরীর প্রেম

এক কিশোরীর প্রেম

Stories
মামুন সরকার  ভোরবেলা। কুয়াশার চাদর  বাড়িঘরকে আবৃত করে রেখেছে। দূরের বাড়িঘর কিংবা রাস্তার বৃক্ষলতাদি দৃষ্টিগোচর হয় না। সবকিছু আবছায়া লাগে। পুরো    আকাশেটা যেন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। বাতাসে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ।  গাঁয়ের এক কিশোরী  উঠোনে দাঁড়িয়ে, কাঁখে কলস। নগ্ন পা'য়ে ছুটে চলে নদীর দিকে। শিশিরভেজা ঘাস কিশোরীর পা ভিজিয়ে দেয়। ঘাসের ডগায় টলমল করে মুক্তোদানার মত। নদীর ঘাটে কলস ভরে। জলে প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। জলে পড়া ছায়ার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে। সেই হাসি বাতাসে ঢেউয়ে মিলিয়ে যায়। পেছন থেকে এক কিশোর জানতে চায়, “কুসুম, এত ভোরে একা একা নদীরঘাটে। ভয় করে না। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখে এক কিশোর  পাশে দাঁড়িয়ে আছে।, হাতে বাঁশের লাঠি। চোখে কৌতূহল।কিশোরী একগাল হেসে জবাব দেয়, ভয় কি জিনিস আমি জানি না। আমি জানি নদীরজল, আঁকাবাঁকা পথঘাট সবই...
ভাঙ্গনের মাঝে মিলনের পূর্ণতা 

ভাঙ্গনের মাঝে মিলনের পূর্ণতা 

Stories
সাবরিনা তাহ্সিন  সদ্য এইচ.এস.সি পরীক্ষায় জি.পি.এ প্রাপ্তি মেধাবী দীপ্তির স্বপ্ন জাগে ,সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে।কিন্তু সেইবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পায় না।সে স্বপ্নে অটল থাকে।দীপ্তি তার অন্য তিন ভাই-বোনদের মতো মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষা নিবে না বলে ঠিক করেছে।কারণ, দীপ্তির এক বছরের ছোট ভাই ফয়সাল মা-বাবার ইচ্ছায় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।সেজো বোন মারিয়া ক্লাস ফাইভে পড়াশোনা করলেও মা-বাবা মারিয়াকেও ইবেতায়েরী মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিবে বলে ঠিক করেছে।আর সর্বকনিষ্ঠ ছোট ভাই ইব্রাহিম এখনও স্কুলে ভর্তি হয় নি।তবে ইব্রাহিমকে ছোট থেকেই মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে চায় দীপ্তির মা-বাবা। দীপ্তির মা জুলেখা বেগম গৃহিণী ,বাসায় গৃহস্থলি কাজ আর সন্তানদের দেখাশোনার কাজে ব্যস্ত থাকেন।বাবা ইমতিয়াজ আহমেদ একজন আর্মি অফিসার। দীপ্তি তার মা-বাবাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয় যে...