Tuesday, May 24
Shadow

Tag: গল্প

রহস্য ধাঁধা : পরিচয়

রহস্য ধাঁধা : পরিচয়

Stories
থ্রিলার রহস্যজট : পরিচয় লিখেছেন ধ্রুব নীল দেয়ালে স্ট্যাচুর মতো ঝুলতে থাকা পেটমোটা টিকটিকিটা দেখে যুবকের মনে হলো তার নাম আরশাদ নয়, অন্য কিছু। কিন্তু আরশাদ নামটা মাথায় আসলো কেন বুঝতে পারছে না। ভোঁতা একটা ব্যথা মাথায় ছড়িয়ে আছে। সাদা বিছানায় সে একা। বিছানাটা এত সরু যে আর কারোর থাকাও সম্ভব না। বিছানা ছেড়ে উঠে বসতে গিয়ে বুঝতে পারলো এটা হাসপাতাল। তা না হলে শরীর এত দুর্বল লাগবে কেন? মুখভর্তি দাঁড়ি। এত বড় দাঁড়ি তার কখনই থাকে না। তার মানে সে এখানে অনেকদিন ধরে, শুয়ে ছিল? নাকি ঘুমিয়ে ছিল? আজ কত তারিখ। হড়বড় করে অনেকগুলো প্রশ্ন ভিড় করলো। হন্তদন্ত হয়ে রুমে ঢুকলো নার্স। দুলতে থাকা জানালার কপাট লাগিয়ে দিল। যুবকের সঙ্গে চোখাচোখি হতেই হাসলো। ‘আজ কত তারিখ সিস্টার?' ‘জুলাইয়ের সাত।' তারপর যেভাবে এক ঝলক বাতাসের মতো ছুটে এসেছিল, সেভাবেই আবার হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে গেল মেয়েটা। ঘণ্টাখানেক শুয়ে কাটালো।...
কিভাবে গল্প লিখতে হয়  | গল্প লেখার নিয়ম

কিভাবে গল্প লিখতে হয়  | গল্প লেখার নিয়ম

প্রশ্ন ও উত্তর
আমরা অনেকেই লেখালেখি করতে চাই। হয়তো জীবনের ঘটে যাওয়া মজার কোনো অভিজ্ঞতা, নিজের প্রেমের গল্প কিংবা ভয়ানক কোনো অভিজ্ঞতা, মূলত গল্প লিখতে চাই কমবেশি সবাই। বিশেষ করে ফেসবুকের ফলোয়ার বাড়াতেও কিন্তু থাকা চাই গল্প লেখার দক্ষতা। গল্প কিভাবে লিখতে হয় বা গল্প লেখার নিয়ম কী এটা জানা থাকলে আমাদের মধ্যে যাদের লেখালেখির কোনো অভিজ্ঞতা নেই তারাও সহজে এটাওটা সাজিয়ে লিখে ফেলতে পারবেন। তবে যারা বড় গল্পকার বা সাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের ব্যাপারটা একটু আলাদা। তাদের মূলত আইডিয়া বা প্লটের ওপরই আগে জোর দিতে হয় বেশি। তাদের ঠিক করতে হয় গল্পটার ক্লাইম্যাক্স কোথায় হবে? জটিলতা কতটুকু থাকবে, থ্রিল কোথায় থাকবে এবং পরিশেষে গল্পের এন্ডিং কেমন হবে। তো গল্প কিভাবে লিখতে হয় এ আলোচনায় আমরা খুব গভীরে আপাতত যাব না। টুকটাক কিছু টিপস শেয়ার করা যাক।   গল্পের শুরু গল্পের শুরু হুট করে হয় না। বড় বড় লেখকরাও কি...
প্রেমের গল্প : তোমার অসীমে

প্রেমের গল্প : তোমার অসীমে

Stories
ধ্রুব নীলের প্রেমের গল্প : তোমার অসীমে রান্নাঘরে খুটখাট শব্দ। শব্দটা সাংসারিক। রবিউলের ঘুম কাটেনি। রাতে নিশ্চিত দরজা খোলা রেখেছিল। সাতসকালে আধা পরিচিত কেউ এসে হাজির। কে আসবে? রবিউলের তো পরিচিত কেই। খুটখাটের ধরন শুনে বোঝা যাচ্ছে কেউ খুব গোছালোভাবে কিছু রান্না করছে। সকালের নাস্তার সঙ্গে দুপুরের জন্য অ্যাডভান্স সবজি কাটাকুটি করলে যেমন হয়। উঠে বসে ভাবল রবিউল, চোর তো আসবে না। একটা আধা-নষ্ট টিভি আর একটা ছোট ফ্রিজ ছাড়া এই ঘুপচি ফ্ল্যাটে কিছু নেই। রান্নাঘরে উঁকি দিতেই রবিউল বুঝতে পারলো ডাক্তার দেখাতেই হবে। কারণ কোমরে টকটকে লাল শাড়ি গুঁজে শকুন্তলা টাইপের এক মায়াবতী রুটি বেলছে। চুলায় ভাজির গন্ধটাও স্পষ্ট। মাথা খারাপ হলে নাকেও সেটার প্রভাব পড়ে? ভাজিতে কালোজিরার গন্ধটা একদম পরিষ্কার। ‘দাঁড়িয়ে না থেকে বাজারে যাও।’ ‘জি।’ ‘জি জি মানে? আগে সবজি কিছু নিয়ে আসো। ফ্রিজে চিংড়ি ছাড়া কিছু নাই। এসে না...
প্রেমের গল্প : মালতী

প্রেমের গল্প : মালতী

Stories
প্রেমের গল্প : মালতী : লিখেছেন : ধ্রুব নীল চেনটা দশ ভরি হবে। বিক্রি করলে ভরিতে সত্তর হাজারের মতো পাবে। সেই হিসেবে সাত লাখ। কম না। কষ্ট করে চললে নিপু আর রাকিব অনায়াসে দুই বছর কাটিয়ে দিতে পারবে। মা আবার হার্ট অ্যাটাক করবে না তো? অবশ্য নিজের মেয়ে গয়না চুরি করেছে শুনলে না-ও করতে পারে। এ গয়না তো মেহেরুন্নেসা তার মেজো মেয়ে রেনুর জন্যই রেখেছিলেন। রেনুর বান্ধবী নিপু। এখন বান্ধবী ডাকার চল উঠে গেছে। সবাই বন্ধু। অবশ্য নিপুকে বান্ধবীই ভাবে রেনু। সেই নিপুর পলান্তি বিয়ে হবে কাল। ভোরে বাকশোপ্যাঁটরা নিয়ে চলে আসবে কাজী অফিসে। রাকিবকে ধরে বেঁধে চাকরির টোপ ফেলে রাজি করানো হয়েছে। রাকিবের কাজ হবে ঘরে বসে এটা ওটা ডিজাইন করা। মাসে ত্রিশ হাজার টাকা পাবে। পুরোটাই রেনুর সাজানো চাকরি। মাসে ত্রিশ করে দুই বছরে লাগবে সাত লাখ বিশ হাজার। শর্ত হলো দুই বছরের মাঝেই আরেকটা চাকরি জোটাতে হবে রাকিবকে। ‘আমার বান্ধবীর বিয়ে...
অতিপ্রাকৃত ছোটগল্প:  দৌড়

অতিপ্রাকৃত ছোটগল্প: দৌড়

Stories
ধ্রুব নীলের ছোটগল্প। অতিপ্রাকৃত গল্প। ১০০ শব্দের গল্প লোকটা দৌড়াচ্ছে। অনকেদনি হলো। সে নির্ঘাৎ ফরেস্ট গাম্প মুভিটা দেখেছে- এমনটা যারা ভেবেছিল তারাও দ্রুত ভুল শুধরে বলতে লাগলো, এমনটাই হওয়ার কথা। মানুষ তো দৌড়াবেই। সবই দৌড়ায়, যেমন দ্রব্যমূল্য- ‘আরে ভাই এর মধ্যে সয়াবিন তেল ঢোকাবেন না তো!’ এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বৈষয়িক মানুষগুলো দুম করে ভুলে গেলো লোকটার কথা। আমার মাথা থেকে গেলো না। মাথার ভেতর কে যেন বললো, সময় নেই! সময় নেই! ঠিক করেছি, লোকটার সঙ্গে দৌড়াবো। তাই একদিন আমিও ছুটতে শুরু করি। লোকটার পাশে। লোকটা ফিরেও চাইল না। সে হয়তো ধরেই নিয়েছে, আমাকে সে ভুল দেখছে- দৃষ্টিভ্রম, দৌড়ানোর সাইড এফেক্ট? কিছুদিন পর, আবিষ্কার করলাম, আমিই দৌড়াচ্ছি। একা!...
ছোটদের গল্প : মিষ্টি পরী ও রিশা

ছোটদের গল্প : মিষ্টি পরী ও রিশা

Kidz, Stories for Kids
ছোটদের গল্প : মিষ্টি পরী ও রিশা লিখেছেন গাজী খায়রুল আলম রিশা ও তিশা বান্ধবী। একই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে দুজন। রিশা খুব ভালো ছাত্রী, কিন্তু রিশার তুলনায় তিশা  কম মেধাবী। মাঝে মাঝে স্কুলে পড়া না পারলে ম্যাডাম তিশাকে বকা দেয়। যেটা দেখলে রিশার খুব মন খারাপ হয়। আজও তাই হয়েছে। ইংরেজি ম্যাডাম তিশাকে অনেক বকেছে। অনেকক্ষণ কেঁদেছে তিশা। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো এই ছোট বয়েসে কোনো ভাষা খুঁজে পায়নি রিশা। স্কুল ছুটির পড়ে মন খারাপ করে বাসায় ফিরে। বাসায় আসার সময় দেখতে পায় পাশের বাড়িতে খুব ঝগড়া চলছে। এই দৃশ্যটাও প্রতিদিন দেখতে হয় তাকে। চিৎকার, চেচামেচী করে আবার তারা নিরব হয়ে যায়। এসব কিছুই ভালো লাগেনা রিশার। মনে মনে ভাবে, এমন কোনো পৃথিবী কী নেই, যেখানে পড়া না পারলে ম্যাডাম কাউকে বকবে না। ছোট বেলা ‘মা’ যেভাবে আদর করে পড়ায় স্কুলের শিক্ষকরাও সেভাবে আদর করে পড়াবে। মানুষের মধ্যে থাকবে না হিংসা, বিদ্...
ভূতের গল্প : ভূতের দল খেললো ক্রিকেট

ভূতের গল্প : ভূতের দল খেললো ক্রিকেট

Kidz, Stories for Kids
গভীর রাত! চারিদিকে সুনসান নীরবতা। কিন্তু ভূতেদের রাজ্যে আজ ব্যাপক হৈ চৈ আর উৎসবের আমেজ! ভূতদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্যই আজ এ উৎসব। জমিদার নারায়ণ চক্রবর্তীর প্রাসাদটার মাঝখানের বিশাল মাঠে পাশের বাগান থেকেই সারি বেঁধে আসতে শুরু করেছে ভূতের দল।   ছোট-ভূত, বড় ভূত, মাঝারি ভূত, লম্বা ভূত, বেটে ভূত, বুড়ো ভূত- কোন ভূতই বাদ নেই। ভূতদের বসার জন্য কলাপাতা দিয়ে বানানো হয়েছে বিশেষ গ্যালারি। এই গ্যালারিতেই বসে খেলা দেখবে এই রাজ্যের সকল ভূত। জমিদার বাবুর পরিত্যক্ত এই প্রাসাদের মাঝখানের মাঠটিতেই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ফাইনালে বাঁশবাগানের ভূত ক্রিকেট টিমের সাথে লড়বে বটগাছের ভূত ক্রিকেট টিম।   কিছুক্ষণের মধ্যেই খেলা শুরু হবে। মাঠের চারপাশ গোলপাতা দিয়ে সাজানো! চার-ছক্কার সীমানা করা হয়েছে জার্মানি লতা দিয়ে। দুই দলের বাঁশপাতা ও ব...
সায়েন্স ফিকশন গল্প : এখন কিংবা…

সায়েন্স ফিকশন গল্প : এখন কিংবা…

Stories
ধ্রুব নীলের সায়েন্স ফিকশন গল্প : তৈয়ব আখন্দ ভুলোমনা। নিজেও জানেন বিষয়টা। অফিসের অর্ধেকটা পথ এসে তার মনে পড়লো তিনি মহাগুরুত্বপূর্ণ একটা ফাইল মেসে ফেলে এসেছেন। রোজ হেঁটে অফিসে যান। কারণ তার ডায়াবেটিস। রোগটার সঙ্গে ভুলে যাওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। প্রায়ই ডায়াবেটিসের কথা বলে পার পেয়ে যান। আজ সেই উপায় নেই। ফাইল না নিয়ে গেলে চাকরি থাকবে না। চাকরি গেলেও ফাইলটা অফিসে পৌঁছে দিতে হবে। তৈয়ব ভাবছেন অফিসে গিয়ে আবার বাসায় চলে আসবেন, নাকি চট করে রিকশা নিয়ে ফিরে যাবেন। ভাবতে ভাবতে রমনা পার্কের পাশের ফুটপাতে দাঁড়ালেন। পানওয়ালার কাছ থেকে পান নিয়ে চিবুতে শুরু করলেন। ‘কী মশাই গাছের পাতায় এনার্জি আছে? বেশ বেশ।’ আগন্তুককে দেখে পাগল কিসিমের মনে হলো না। চেহারাটা অদ্ভুত। একবার এক রকম লাগছে। কখনও চওড়া চিবুক, কখনও গোলগাল তেলতেলে, আবার কখনও পুরনো আমলের মাস্তানদের মতো লম্বা চুল-জুলপি। ডায়াবেটিসে চোখও ন...
ধ্রুব নীলের সায়েন্স ফিকশন গল্প | একটি লম্বা সকাল

ধ্রুব নীলের সায়েন্স ফিকশন গল্প | একটি লম্বা সকাল

Stories
বড় কোনো ডিগ্রির ভার নেই। তবে সাংবাদিক হিসেবে এলাকায় আমার খ্যাতি অনেক। সম্পাদক মশাই তো বলেন আমার রান্নার হাত বেশ। কথাটা প্রশংসা হিসেবেই নিই। আজকাল খবরে এক আধটু মশলা ভালো করে কষিয়ে না দিলে চলে না। প্রায়ই নানান অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পাই। সব রক্ষা করা হয় না। তবে গতকাল চিঠিটা পাওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নিই নিমন্ত্রণটা আমাকে রক্ষা করতেই হবে। কারণ চিঠিটা পাঠিয়েছেন স্বয়ং বিজ্ঞানী সিদ্ধার্থ। নামজাদা বিজ্ঞানী। নিভৃতে পড়ে থাকেন অলকেশ্বর রোডের বিদঘুটে বাড়িটায়। দেখে মনে হয় জেলখানা। কীসের বিজ্ঞানী তা কেউ জানে না। তবে বিদেশি পত্রপত্রিকায় তাকে নিয়ে নিয়মিত ছাপা হয়। ‘যাচ্ছি মালতী! বিকেলের আগে ফিরতে পারব কিনা জানি না।’ বউকে বলতে বলতে জুতো পায়ে গলাচ্ছিলাম। ‘নাস্তা করবে না?’ ‘সকালের নাস্তাটা তো তিনি অবশ্যই করাবেন। এত বড় বিজ্ঞানী। এত টাকার মালিক।’ জুতোর ফিতে বাঁধতে বাঁধতে হুলোকে বললাম ‘যা! আমার জন্য র...
আধিভৌতিক রহস্য থ্রিলার গল্প: পোর্ট্রেট

আধিভৌতিক রহস্য থ্রিলার গল্প: পোর্ট্রেট

Stories
ধ্রুব নীলের রহস্য গল্প ১ রাত সাড়ে দশটা। বছর দশেক হবে মেয়েটার বয়স। মায়াবি চোখ। কোঁকড়া চুল। চোখে ঘুম ঘুম ভাব। ঘুণে ধরা টেবিলের সামনে নড়বড়ে এক চেয়ারে বসে কারো জন্য অপেক্ষা করছে কারো জন্য। ছোট্ট ঘরটায় অল্প পাওয়ারের বাতির মিটিমিটি আলো তার ঘুমটা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে যেন। যে করেই হোক জেগে থাকতে হবে। অপেক্ষার পালা শেষ হলো আধঘণ্টা পর। দরজা খোলার শব্দ শুনেই বোঝা যায় চুপিসারে ঢুকেছে কেউ একজন। মেয়েটা সচকিত। ড্রয়ার খুলে পেনসিল আর খাতা নিয়ে টেবিলে রাখল ঝটপট। পেনসিলের ডগাটা পরখ করে নিল। একদম তৈরি ওটা। শার্পনার আর ইরেজারও হাতের নাগালে। মেয়েটার পেছনে এসে দাঁড়াল লুঙ্গি আর পুরনো সোয়েটার পরা মধ্যবয়সী লোকটা। যে কিনা একটু আগেই ঘরে ঢুকেছে। কোনো কথা না বলে হাতের মোবাইল ফোনটা রাখল মেয়েটার সামনে। স্ক্রিনে এক যুবকের ছবি। ঘাড় বাঁকিয়ে ছবির দিকে তাকাল মেয়েটা। তাকিয়েই রইল। চোখ আর ফেরাল না। খাতার ওপর চলতে শুরু করল প...
error: Content is protected !!