ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন চলাকালে তুরস্কে অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে পড়েছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, সেই সময় ট্রাম্পের প্রতিটি গতিবিধি সম্পর্কে ইরান পুরোপুরি অবগত ছিল। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছিল যে, ট্রাম্পের ব্যবহৃত এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটির ওপর ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার হুমকিটি ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। এমনকি ন্যাটো সম্মেলনের এলাকায় কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ একজনকে শনাক্ত করা হয়েছিল।
মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে আসা তথ্যে দেখা যায়, ইরানিরা ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে এতটাই নিখুঁত তথ্য রাখছিল যে, আঙ্কারার কোন ভবনের কোন তলায় তিনি অবস্থান করছেন, তাও তাদের জানা ছিল। এই হুমকির মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে, মার্কিন কর্মকর্তারা তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে পুরোনো একটি এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার ঘোষণা দিয়ে ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হন। তবে বাস্তবে তিনি সেই বিমানে না উঠে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং কন্টেইনারে লুকিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন এবং পরে একটি সামরিক বিমানে করে নিরাপদে দেশ ছাড়েন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতেও বিভিন্ন সময় ইরানের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক আততায়ীর গুলিতে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। একই বছরের শেষের দিকে ফ্লোরিডায় তার গলফ কোর্সেও তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর আরেকটি ঘটনা ঘটে। তবে এই দুটি ঘটনার সঙ্গে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বাইডেন প্রশাসনের সময় ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের একটি ষড়যন্ত্রের ঘটনাও সামনে এসেছিল, যেখানে এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, ইরান তাদের প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করে ওই ষড়যন্ত্রের ছক এঁকেছিল। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সতর্কতায় ছিল।
২০২৪ সালে পেনসিলভেনিয়ার বাটলার-এ নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক আততায়ীর গুলি তার গা ঘেঁষে যায় এবং সেই বছরের শেষের দিকে ফ্লোরিডায় তার গলফ কোর্সে আরেকজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।


