বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০ - Mati News
Monday, October 26

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অর্থনীতি বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের সামনে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উভয় বিভাগের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তারেককেও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই শিক্ষার্থী প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় মুসার বিরুদ্ধে তাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের অবহিত করলে তারা মুসাকে ভিসি গেটের বিপরীতে অবরুদ্ধ করেন। সেখানে তাকে মারধর করা হলে তার মুখ দিয়ে রক্তপাত হতে দেখা যায়, যা পরবর্তীতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সাড়ে ১০টার দিকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় একদল শিক্ষার্থী ভিসি গেটের ভেতরে এবং অন্যদল বাইরের সড়কে অবস্থান নিয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং প্রায় আধা ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে সংঘর্ষ থামে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়ে প্রক্টর অফিসে বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে তাদের নামিয়ে মারধর করেন। এ সময় অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তারেককেও লাঞ্ছিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক চালক মো. শহিদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানান, তারা রেজিস্ট্রার ও পরিবহন পুলের ম্যানেজারের কাছে এর বিচার দাবি করবেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং মারধরের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আশিক জানান, মারামারি ঠেকাতে গিয়ে তিনিও আঘাত পেয়েছেন এবং দুই পক্ষই একে অপরের দিকে ইটপাটকেল ছুড়েছে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ দাবি করেন, মুসা র‍্যাগিংয়ের কায়দায় ওই নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন, যা থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ জানিয়েছেন, তারা সারারাত ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছেন। শিক্ষার্থীরা কেন বারবার এমন সংঘাতে জড়াচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত বসে প্রয়োজনীয় সমাধানের উদ্যোগ নেবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *