নারায়ণগঞ্জে কোচিং ফি বকেয়া থাকায় ২১ শিক্ষার্থীকে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রাখার অভিযোগ - Mati News
Friday, August 14

নারায়ণগঞ্জে কোচিং ফি বকেয়া থাকায় ২১ শিক্ষার্থীকে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রাখার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার আল বালাগ স্কুলে কোচিংয়ের বকেয়া ফি পরিশোধ না করায় ২১ জন শিক্ষার্থীকে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রী রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, গত সোমবার প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন ৮২ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রীকে তাঁর কক্ষে ডেকে পাঠান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, বিদ্যালয়ে কোচিং ফি হিসেবে জনপ্রতি এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। বকেয়া ফি আদায়ের জন্য তাদের ডেকে পাঠানো হলেও, শিক্ষার্থীরা পরিবারের আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে টাকা পরিশোধের জন্য সময় চেয়েছিল। কেউ কেউ পরে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রধান শিক্ষক তাদের প্রায় এক ঘণ্টা কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ও নার্ভাস ভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি দ্রুত বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এক অভিভাবক জানান, তিনি বকেয়া টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তার মেয়েকে শাস্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে, যার ফলে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং গত দুই দিন ধরে স্বাভাবিক আচরণ করছে না।

অন্যান্য অভিভাবকরাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, কোচিং ফি না দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের এভাবে অপমান করার ঘটনা নজিরবিহীন। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন। অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের আর্থিক কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, শিক্ষার্থীদের এর দায়ভার বহন করতে বাধ্য করা অনুচিত।

এলাকাবাসীর মতে, অর্থনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে মানসিক চাপে ফেলা হলে তা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থীকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেই দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন দাবি করেন, এটি একটি বেসরকারি স্কুল এবং স্কুলের মালিকদের পরামর্শেই তিনি শিক্ষার্থীদের ডেকেছিলেন। কোচিং নিষিদ্ধ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, সিদ্ধিরগঞ্জের কোন স্কুলে কোচিং হয় না?

ঘটনাটি সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, তিনি অভিযোগটি শুনেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বা অপমানের শিকার হতে হলে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ে ফি আদায়ের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা বিধিমালা যথাযথ কি না, তা যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *