চীনের ধারণা ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ক্রমশ সমাদৃত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ (জিজিআই) প্রায় ১৬০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে বলে বুধবার প্রকাশিত এক শ্বেতপত্রে জানানো হয়।
বুধবার রাষ্ট্রীয় পরিষদের তথ্য কার্যালয় প্রকাশিত ‘আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক বৈশ্বিক শাসন: চীনের নীতি, প্রস্তাবনা ও কর্মকাণ্ড’ শীর্ষক শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, এর কারণ হলো চীন জানে কীভাবে সময়ের চাহিদা মেটাতে হয় এবং আমাদের সময়ের ধারাকে রূপ দিতে হয়।
শ্বেতপত্রটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমেরু বিশ্ব এবং সার্বজনীনভাবে উপকারী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নই হলো সময়ের ধারা এবং প্রকৃত বহুপাক্ষিকতাই হলো এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।
এতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, জিজিআই চীনে প্রতিষ্ঠিত হলেও এটি বিশ্বের জন্য উপকারী।
শ্বেতপত্রে বলা হয়, চীন এমন কিছু নতুন ধারণা ও প্রস্তাবনা পেশ করেছে যা অভিন্ন মূল্যবোধ ও যৌথ কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ আকাঙ্ক্ষার প্রতি সাড়া দেয় এবং বৈশ্বিক শাসনের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধান করে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চীন তার সমৃদ্ধ কূটনৈতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে এবং উৎকৃষ্ট ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি থেকে শক্তি সঞ্চয় করে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ও নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং একই সাথে কর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
শ্বেতপত্র অনুযায়ী, চীন বিভিন্ন বৈশ্বিক ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ক্রমাগত বৈশ্বিক শাসনের চর্চাকে সমৃদ্ধ করছে।
এতে বলা হয়েছে, সুসংবদ্ধ সমাধান প্রদানের মাধ্যমে চীনের চারটি প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপর মনোযোগ দিয়ে সমান্তরালভাবে পরিচালিত হয় এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মকাঠামো গঠন করে, যা উন্নয়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধি, নিরাপত্তার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা, সভ্যতার আদান-প্রদানের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং শাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়েছে, জিজিআই এবং একাধিক নতুন ধারণা ও পদ্ধতির প্রস্তাবের মাধ্যমে চীন মানব সমাজের বিকাশের নিয়ন্ত্রক আইন সম্পর্কে তার বোঝাপড়াকে গভীর করেছে, পুরোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সেকেলে কাঠামো থেকে মুক্ত হয়েছে, ‘জোর যার, ক্ষমতা তার’ এই ত্রুটিপূর্ণ যুক্তিকে অতিক্রম করেছে, ‘বিজয়ীর সব পাওয়ার’ মানসিকতা ত্যাগ করেছে এবং সভ্যতার অগ্রগতিকে উৎসাহিত করেছে।
সূত্র: সিএমজি




















